ফেইসবুক থেকে

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

  লাবণ্যরা ঘুরে দাঁড়াবে , বাঁচবে

312934_10150331395236766_1602929927_nরিপন ইমরান (ঢাকা) : লাবণ্যর সঙ্গে দেখা হয়েছিলো আমার হাসপাতালের বারান্দায়….আমার পাশের চেয়ারটায় ও অপেক্ষা করছিলো বাবার জন্য…দীর্ঘক্ষনের অপেক্ষা, তাই লাবণ্যর সঙ্গে টুকটাক কথা হয…ভাইয়া কটা বাজে? এভাবেই বোধহয় কথার শুরু… এরপর কথার গাড়ি চলতেই থাকে…কথা বলতে ভালোবাসে মেয়েটা…কথা শুনি, টুকটাক জবাব দেই….হঠাৎ বলে ভাইয়া আপনিই প্রথম মানুষ যে আমার ভাঙা পা নিয়ে কোন প্রশ্ন করলেন না? আমি একটু লাজুক হাসি দেই, আর মনে মনে ভাবি ‘আমার মনেও তোকে দেখেই একই প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিলোরে বোন? শুধু সভ্যতার সূত্র ধরে জানি, কারো শারীরিক দৈন্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে নেই। তাই বহু কষ্টে মনের ভেতর প্রশ্নটা চেপে ধরেছিলামরে, শত হোক বানর থেকে মানুষে রূপান্তর হয়েছি যে’। লাবণ্য বলে, জানেন ভাইয়া গত বছরও আমি কলেজে দৌড়ে ফার্স্ট হয়েছিলাম…এইবার আমি সব ভদ্রতার সব আবরণ সরিয়ে লাবণ্যর দিকে ভালো করে তাকাই…কোমরের নীচ থেকে পা দুটো কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে…ওর পাশেই স্টিক ক্রাচটা রাখা…আমি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ও বলে, আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম…খুব ভালোবাসতাম তো…তাই ও বলাতে ভালোবাসার প্রমান দিতে চেয়েছিলাম….৬ তলা থেকে লাফ দিয়েছিলাম…এরপর কিছু মনে নেই… পিঠের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিলো…পিঠে এখনো অনেকগুলো স্ক্রু…প্রথম প্রথম হাঁটতে পারতাম না…এখন অনেক চেষ্টার পর স্টিক দিয়ে খুব ধীরে ধীরে হাঁটতে পারি তবে কুঁজো হয়ে…শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা হয়…এখনো ক্রাচে অভ্যস্ত হতে পারিনি…অনেকগুলো কথা একসাথে বলে লাবণ্য একটু দম নেয়…মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়… জানেন ভাইয়া, ছেলেটা কিন্তু ভালোই আছে আরেকজনের সঙ্গে…লাবণ্যর বাবা চলে এসছে…বাবা এসে লাবণ্যকে ধরে সিট থেকে উঠায়…যাবার আগে লাবণ্য মুচকি হাসে আমার দিকে তাকিয়ে…লাবণ্যর বাবা আমার দিকে একটু অবাক হয়ে তাকায়…আমি চোখ সরিয়ে নেই… হাসপাতালের করিডোর ধরে অনেক কষ্টে পা টেনেটেনে চলে যায় বাবা-মেয়ে… আমি তাকিয়ে দেখি আর ভাবি…কী বোকা আমাদের লাবণ্যরা, সামান্য কদিনের মিথ্যে ভালোবাসায় এরা তুচ্ছ করে নিজের প্রাণ…পরিবারের এ্যাত্তোগুলো মানুষের ভালোবাসাও ফেরাতে পারে না এদের… আর কী র্দুভাগ্য লাবণ্যদের বাবা-মায়েদের… কিশোর মনের উথাল-পাথাল ভালোবাসা কিছুতেই বোঝে না ওরা…বোঝেনা বলেই লাবন্যরা ঝরে যায়, মরে যায়…আর খুব সামান্য কিছু সৌভাগ্যবান লাবণ্যরা ঘুরে দাঁড়ায় আবার বাঁচবে বলে… ভালো থেকো লাবণ্য…বুকের কষ্টটাকে ধরে রেখো আগুন জ্বালাবার জন্য। (সাংবাদিক)

চুল সমাচার

12792190_875157435939811_4909942540664093526_oরুকসানা আক্তার (লন্ডন):  আমার মায়ের মাথার চুল নাকি গোসলের পরে মোড়ায় বসে আঁচড়াতে হতো ,তাও চুল মাটি ছুঁই ছুঁই করতো ।সে সুবাদে ই হয়তো আমাদের চার বোনের মধ্যে তিন জন মোটামুটি কেশবতী ছিলাম ।শুধু পান্না আপার(সেজ বোন) হালকা কোকড়ানো আর একটু পাতলা চুলছিলো । আমার চুল ও কোমরের নীচ অব্দি ছিল । যা আমার এখনকার অবস্থা দেখলে নিজের ই বিশ্বাস হয় না । মনে আছে তখন আমার বয়স চার হবে । বানিয়াচং আমাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি । আব্বা আমার মাথা র চুল কেটে বেল্লু বানিয়ে গোসল করিয়ে তেল মাখিয়ে বারান্দায় বসিয়ে রেখে গেছেন আর বলে গেছেন উঠানে না যেতে । উনি গোসল থেকে এসে জামা পড়াবেন । ওদিকে রাকিয়া মুই (খালা) উঠানে ধান শুকাতে দিয়েছেন । কতক্ষন পরপর উনি ঘরের ভিতর থেকে এসে এসে লাঠি দিয়ে কাক তাড়াচ্ছিলেন । আমি খুব মজা পাচ্ছিলাম এবং যথারীতি আব্বার আদেশ ভুলে যেই না কাক তাড়াতে গিয়েছি হৈ হৈ করে উনারা দুই তিনজন রাগে দুঃখে আমার বেল্লু মাথায় ঠোকর মারা শুরু করেন । আমার চিৎকার শুনে যে যেখানে ছিলেন দৌড়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন । মাথার উকুন আমার মায়ের ফোবিয়া ছিল। বাসায় যদি কারো মাথায় কখনো উকুন এর একটা বংশধর ও পাওয়া যেত তার বিনাশ না করা পর্যন্ত মায়ের আমার শান্তি ছিল না । ছোট বেলা আমি মাথায় তেল মাখতে চাইতাম না কেমন জানি গা শিরশির করতো । মনে আছে আমার মাথায় একবার উকুন হলে মা জননী যথারীতি তেল মাখিয়ে উকুন আনার চার কোনা টাইপ কাল এক বিশেষ চুরুনী দিয়ে মাথা আঁচড়ানোর আয়োজন করেন ।ওদিকে তেলের আয়োজন দেখে আমি লেঞ্জা তুলে এক দৌড়ে আম্মার নাগালের বাইরে । একদিন রাতে ঘুম ভেঙে দেখি আম্মা মনের সুখে আমার চুলে তেল মাখিয়ে আঁচড়িয়ে উকুন এনে মারছেন । আর যায় কই রাগে দুঃখকে কাঁদতে কাঁদতে এই গভীর রাতে আমি বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি মাথায় ঢেলে ঢেলে নারিকেল তেল ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম । বড় বেলায় অনেক দিন এই ঘটনা মনে করে আমি আর আম্মা হেসে কুড়ি পুটি হতাম ।। যখন ইন্টারমেডিয়েট এ পড়ি চুল আমার কোমড় ছাড়িয়ে গেছে । তখন হিন্দী সিনেমায় শ্রীদেবী জয়া প্রদার  খুব প্রভাব । কি সুন্দর জর্জেটের শাড়ী পড়ে পিছনে লম্বা একটা সাপের মতো বেণী ঝুলিয়ে নাচ গান করে । তখন মাত্ৰ শখ করে মাঝে মাঝে শাড়ি পড়ি । এদিকে ইংল্যান্ড থেকে পান্না আপা আর মেঝোভাই সেই শ্রীদেবী আর জয়া প্রদা র ডিজাইনের শাড়ী পাঠান আমাদের জন্য ।আর আমি ও সেই শাড়ি পড়ে পিছনে সাপের মতো লম্বা বেণী ঝুলিয়ে আবার পারভীন খালাম্মা কে চুপি চুপি জিজ্ঞেস করি আমাকে ওদের মতো লাগছে কি না ।তারপর আম্মার চোখের একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে প্রিয় বান্ধবী শান্তা মোদক আর বিথীকা রায়ের বাড়ি বেড়াতে যাই । আমার সাজু গুজু দেখে বন্ধু শান্তার ফিক করে হেসে উঠে বলা ওই তোরে সুন্দুর লাগতেছে, এখনো মনে পরে ।। ইন্টারমেডিয়েট পাশ করার পর আমাকে ঢাকা ইডেন কলেজ ভর্তি করা হলো এবং হোস্টেল এ থাকার ব্যবস্থা হলো। সবাই কে ছেড়ে আমার মন যেতে চাইছিল না । কি আর করা কাঁদতে কাঁদতে রওয়ানা দিলাম । আস্তে আস্তে রাজধানীর হাত্তয়া পানি গায়ে একটু একটু করে লাগতে লাগলো । দেখি মেয়েরা কি সুন্দর ডিজাইন করে চুল কেটে কলেজ আসে । কি স্মার্ট লাগে দেখতে । খায়েশ হলো , লি পার্লার বন্ধুদের সাথে গিয়ে পিঠ পর্যন্ত থ্রী স্টেপ কাট দিয়ে আসলাম । কলেজ ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পড় দেখি আম্মা আর সেতু ভাই প্রচন্ড রাগ কেন চুলের এই হাল করেছি । আম্মা পুরো একদিন কথা বলেন নি । বিয়ের পর চেহারা সুরুৎ তেমন ভালো না থাকলে ও চুলের জন্য কিছুটা উৎরে গিয়েছিলাম ।  ননদিনীরা চুলের প্রশংসা করতেন । লুম্বিনি জন্মের পর আমার সাধের চুল ঝরে যেতে লাগলো । ছোট চুলের ব্যাপারে আইডিয়া খুব ভাল ছিল । একদিন পার্লার গিয়ে চুল ঘাড় পর্যন্ত কোরবানী দিয়ে আসলাম । নিউ হেয়ার স্টাইল দেখে ঘরের কর্তা ও তখন খুশি । কয়েক বছর আগে আরেক টা নতুন হেয়ার স্টাইল দিলাম । চলছিল ভালো ই । হঠাৎ করে গত বছর লুম্বিনি বললো , আম্মু কি হেয়ার স্টাইল করেছো তোমার মাথা বাটন মাশরুমের মতো লাগে । জিদ ধরলো তার মতো চুল লম্বা করতে হবে । খালি আমার সাথে ইটা নিয়ে পেনপেনানী করে । অগত্যা তার জিদ ই জয়ী হলো । এখন আমরা মা মেয়ের সেইম হেয়ার স্টাইল। দুজনে ই খুশী ।ফটো ও তুলি এক সাথে ।

বৃষ্টি

FB_IMG_1458903744783শামসুন সুমি (নিউ ইয়র্ক) : বৃষ্টি আমার সামান্য অপছন্দ। অপছন্দের হলেও সে ছাদে ঝরে যায়। পছন্দের হলেও সেই ঝরেই যেতো।
তবুও তো তার কাছেই থাকি। মাঝে মাঝে সাথে ছাতা থাকেনা, আমাকে সে ভিজিয়ে দিয়ে যায় আমার অনিচ্ছায়, এভাবেই সে আপান না হলেও কাছে থাকে।সবই আসলে মনের অনুভব।
আমার ইট কাঠের সাথে বন্ধুত্ব হয়, দেয়ালে নতুন রঙের সাথে প্রেম হয়, কার্পেটের স্পর্শ আমাকে আদর করে কাতুকুতু দেয়।
কিন্তু এতো সহজে মানুষের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়না, এতো ঘন ঘন বসন্তও আসেনা বলে আমি ইনিয়ে বিনিয়ে কারো সাথে রসিকতা করতে পারিনা। এককথায় ভালো লাগেনা। কোথাও কোন নতুনত্ব নেই।
এমন এক মুহূর্তে এই একটি শব্দ তখন হঠাৎ কখনো আর্তনাদ করে উঠে “নেই নেই”
শুধু শূন্যতায় আমি শুয়ে থাকি। তবে , এই “নেই ” শব্দটা মুদ্রার মত। উল্টে দিলেই সে দোকানদারের মত চিৎকার করে – ” আছে আছে আছে…” ঠিকই তো, কত কিছুই এখনো আছে ।নতুন বন্ধুত্ব নেই, তাতে কি, সেই পুরনো মানুষগুলোকে ঘিরে এখনো হারায়নি সেই সকালগুলো, বিকেল বা সন্ধ্যে বেলা। আব্বুর কথা কথা মনে পড়ছে। তিনি আমাকে বড় করলেন। ঈদগা মাঠে নিয়ে গেলেন। মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাবো বলে মুঠো করে আমার হাত ধরে থাকতেন তিনি। জানি বয়স বাড়ছে তার। বয়স বাড়ছে মমতময়ী মায়ের। একদিন তারা কেউ থাকবেন না ।অনিবার্য এক বেদনা ভাবতেই বুক শূন্য করে দেয়। কেউ কি ভাবতে পারো জীবনের যে সঙ্গীটি পাশে বসে আছে সেও অশ্রু হয়ে চলে যাবে? থাক ভাবার দরকার নেই। আমিও ভাবতে চাইনা।ভাবতে চাইনা এইযে আমিও থাকবোনা।
তবে সত্য সুখ হল, আজ সবাই আছে, আমিও আছি।আমি আর আমরা আছি বলেই কি যে সুখে আছে আমার ছোট্ট মেয়ে দুটা। আমি তাদের চুমোতে চুমোতে ভরিয়ে দেই। ওরা বিরক্ত হয় কিন্তু ইচ্ছে শেষ হয় না। আজ যা আছে , তাই আমাদের প্রকৃত সঞ্চয়। আজ বিছানায় শুয়ে ঘুমোতে পারি। কাল যা হবার হবে। আজ চোখের জ্যোতিতে বিশ্ব দেখতে পারি। সেটাই আসল সুখ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তাই আমি ঘরেই সুখ খুঁজি।
এসব ভাবনা গুলো শুধুই আমার। বলেছিনা, আমার কথায় মনোযোগ দাও, আমলে নাও। সব মানুষের ভাবনাগুলো এক হবে না। কিন্তু বিনিময় করা খুব আনন্দের। নিষ্পাপ সুখের। সবাই একই ছবি দেখে অভ্যস্ত। সবাই হয় প্রেম অথবা ভাই বা বোন বা এ রকম কোন ছকে ফেলতে চায়। আমি সবার দলে যেতে পারিনা। একা একা ভাবি নিজের মতো করে। চলতে গিয়ে কখনো দূরের এক মেঘ দেখে মনে হল আমার বন্ধু। আকাশের উজ্জ্বল নীল দেখে মনে হল আমার আরেক বন্ধু। ইশ, টুপ করে জলের ভিতর তলিয়ে যাচ্ছে দিনগুলো।
এতো দিনের এতো স্মৃতি নামক বন্ধু আর বর্তমান আছে আমার। আর যদি কখনো বলেছি “নেই নেই ” তবে জিভে তালা দিয়ে দেবো । !
বলবো- ” আছে গো আছে, সব আছে আমার, শুধু বৃষ্টি একটু অপছন্দ, আর চাইনা নতুন বন্ধু স্মৃতি “।