বন্দুক-গুলি-যুদ্ধ ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি নিয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ৭১ এর উপগাঁথা হিসেবে অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যেখানে পর্দায় কোন বন্দুক-গুলি-ধর্ষণ কোনকিছুই উপস্থাপন করা হয়নি। ১২৭ মিনিট দৈর্ঘ্যরে  চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযুদ্ধের সরব উপস্থিতি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ এবং আদর্শ এই চলচ্চিত্রটি গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ১৮ ডিসেম্বর সারাদেশব্যপী মুক্তি পায়।

Still0727_00093

মাসুম রেজার কাহিনী ও সংলাপে এবং রিয়াজুল রিজু ও মাসুম রেজার  চিত্রনাট্যে রিয়াজুল রিজু পরিচালিত এবং কারুকাজ ফিল্মস প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র চলচ্চিত্রটির গানগুলোতে কন্ঠ দিয়েছেন এস আই টুটুল, চন্দনা মজুমদার, মাসুদ মহিউদ্দিন, অমিত মল্লিক, শিমুল খান প্রমুখ। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা তন্ময়, হাফসা মৌটুসী, মাসুদ মহিউদ্দীন, তারেক বাবু প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির পরিবেশনায় রয়েছে অ

সংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের প্রযোজনা এবং পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ঋদ্ধি টকিজ।

গেল বছরের ১৮ ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটি ৪২ টি হলে মুক্তি পেলেও, অদৃশ্য কোন কারনে প্রথমদিনই ৩৮ টি হল থেকে কোন পূর্ব ঘোষণা বা আলোচনা ছাড়াই নামিয়ে দেয়া হয়। এতে দর্শকরা চলচ্চিত্রটি দেখা থেকে বঞ্চিত হয়। পরিচালক রিয়াজুল রিজু জানান, ‘একটি দেশবিরোধী চক্র চায়নি দেশের জনগণ এবং দর্শক বাপজানের বায়োস্কোপ দেখুক। কিন্তু দর্শকরা নানা মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে যে, তারা চলচ্চিত্রটি দেখতে চায়। তাই আমরা সারাদেশ বিকল্প প্রদ্ধতিতে প্রদর্শনে পরিকল্পনা নিয়েছি।

চলচ্চিত্রের পটভূমি যমুনা পাড়ের চর ‘চর ভাগিনা’। চরের মালিক জীবন সরকার আর প্রান্তিক চাষী হাসেন মোল্লাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে কাহিনী। হাসেন মোল্লার পিতা চরে চরে বায়স্কোপ খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পিতার মৃত্যুর পর সেই বায়স্কোপের বাক্সটি ঘরেই পড়ে থাকে। ছাপোষা কৃষক হাসেন মোল্লাকে তবুও ক্ষণে ক্ষণে নাড়া দিয়ে যায় বাবার শেষ স্মৃতি, পোড়ায় মন। একসময় হাসেন মোল্লা ঠিক করে ফেলে সপ্তাহে একদিন করে হলেও সে বায়োস্কোপের খেলা দেখাবে। বায়োস্কোপ বাক্সটি ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করে প্রস্তুত করে দূর চরে খেলা দেখাতে যাবার জন্যে। পুরনো ছবিগুলো নষ্ট সময়ের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাসেন মোল্লা এক নতুন কাহনিী ছবিতে আঁকিয়ে নেয়, নতুন রীল বানায়। কিন্তু চরের মহাজন জীবন সরকারের আঁতে ঘা লাগে তাতে। সে ঘোষণা করে দেয় এই বায়োস্কোপ চলবে না, এই খেলা দেখানো যাবে না!

বিকল্প পদ্ধতিতে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে রিয়াজুল ‘বাপজানের বায়স্কোপ’।  সেই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে, ফেব্রুয়ারিতে কুষ্টিয়ায়, এমাসের ২৩ তারিখে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান অডিটরিয়ামে প্রদর্শিত হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় সারাদেশে সিনেমাটি দেখানো হবে বলে জানান নির্মাতা রিয়াজুল রিজু।

ফয়েজ আহমেদ