আমাদের নিয়ে একটু ভাববেন কি…

সাইফুল রুদ্র

আমরা জমিতে ধান নয় ‘চেতনা’ চাষ করি, আর ফসল ঘরে তুলে তিন বেলা ভাতের বদলে ‘আদর্শ’ রান্না করে খাই। ৪২ টাকার চাউল ৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে! কারো কোন মাথাব্যথা নেই। সত্যিই বাঙালি বীরের জাতি। বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে শুনেছি, একসময় দাদা বাবুদের দেশ কলকাতায় ছোট শিশুর হিসু করারে ইস্যু বানিয়ে শুধু পাড়ায় মহল্লায় নাটকীয় হরতাল ডাকতো সেখানকার বাসিন্দারা। এখনো যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করেন সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে। এপার বাংলার মানুষ জানে, ভারত সাম্রাজ্যে পেঁয়াজের দাম ১ টাকা বাড়ানো হলে তারা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দেয়। একটা সময় গুদামঘরের পেঁয়াজে পঁচন ধরে এবং বিক্রেতারা ব্যবসায়িক ক্ষতি ঠেকাতে দাম কমাতে বাধ্য হন। আমাদের এসবে কিছুই যায় আসে না। আমরা ১ টাকা দাম বাড়লে হুমড়ি খেয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কারণ আমরা জানি এই শেষ না, দাম আরো বাড়বে! চালের দাম ১ টাকা বাড়েনি, কত বেড়েছে তা সবারই জানা। অথচ কারো কোন দাবি নেই দাম কমানোর! তরমুজের বাম্পার ফলন গেল অথচ ৩০০-৪০০ টাকা বাজেট না রেখে আপনি ১ টা ভাল তরমুজ কিনতে পারেননি, মনে আছে কি? এবার লিচুর বাম্পার ফলন, বাকিটা বাজারে গেলে নিজেই টের পাবেন। এ দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে ব্যবসায়ীদের ইচ্ছায়। এ আমার দেশ, এ আমার প্রেম, আমাদের অনেক আবেগ, আমরা অনেক উদার। ফলে দাম কমানোর ইতিহাস এখানে বিরল। খাবেন? রান্না চুলোয় যাক (গ্যাস তো থাকতে হবে)। ২ যুগ পর মাথায় এসেছে গ্যাস ফুরিয়ে যাবে, তাহলে কি করা যায়? দেও দামটা বাড়ায়ে। কি পদক্ষেপ নিলে গ্যাসের অপচয় রোধ হবে, সেই রাস্তায় হাঁটা যাবে না। একমাত্র সমাধান দাম বাড়ানো। সিএনজি গ্যাসে ১ টাকা বাড়লে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়ে ২ টাকা। তেল গ্যাসের দাম যখন ১০ টাকা কমায় সরকার, তখন মালিকপক্ষ ভাড়া কমায় ১০ পয়সা। প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে যখনই কোন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েছি, তখন অধিকাংশই বলেছেন “আইন প্রয়োগে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকার” অবশ্য ভুলটা আমারই, আমি বার বার ভুলে যাই মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সবাই অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হয়েছে। সবার পকেট ভর্তি টাকা! চালের দাম বাড়লে কি এমন এসে যায়?!? আমাদের গোলাভরা চেতনা আর হাড়িভর্তি আদর্শ। এই নিয়েই আমরা সুখে আছি। মাননীয় রাষ্ট্রপ্রধান আপনি আমাদের অভিভাবক; দয়াকরে চালের দামটা একটু কমানোর ব্যবস্থা করুন।