শহর এক আশ্চর্য্য প্রেমিকার নাম-সাত

আহমেদুর রশীদ টুটুল

অসরল বৃক্ষের চূঁড়া থেকে নামছি আমি

বৃক্ষের গা’ভর্তি তীব্র কাঁটা

কাঁটার মাথায় বিষ…

‘দিল্লী দূর অস্ত্’ নামে হাসনাত আবদুল হাই এর একটা গল্প পড়েছিলাম ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায়। গল্পটা আমাকে মুগ্ধ করেছিল, দিল্লীর জন্য একটা টান তৈরী করেছিলো। গল্পটি যখন পড়েছিলাম তখনও অস্ত্ শব্দের মানে বুঝতাম না। বড় কাউকে জিজ্ঞেস করে শব্দের মানে জেনে নিয়েছিলাম। পত্রিকা পড়ায় হাতেখড়ি হয়েছিল অনেক ছোটবেলায়, ইত্তেফাকের হাত ধরে। প্রথম যেবার দিল্লীর উদ্দেশ্যে  কলকাতা গেলাম সেবার কিছু ঝামেলা হওয়ায় দিল্লী আর যাওয়া হয়নি। পরেরবার কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে করে দিল্লী গেলাম। ট্রেন জার্নি সম্পর্কে আমার সকল অভিজ্ঞতা, সকল ধারনা ভেঙেচুড়ে গেলো রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে। বসার ব্যবস্থা, ঘুমানোর আয়োজন, খাবার-দাবার, পরিচ্ছন্ন টয়লেট; সব মিলিয়ে অসাধারণ,অনন্য সাধারণ। দিল্লী নেমেই বুঝা গেলো এটি আলাদা। ঢাকার মতো নয়, কলকাতার মতোও নয়।

অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে

দিল্লীতে গিয়েছিলাম আমার একটা অপারেশন করাতে। জন্মগতভাবে আমার একটা আর্টারি ছোট ছিল। আমি যখন ডবল প্রমোশন পেয়ে ক্লাস ফাইভে উঠি তখন একদিন ডাক্তার’দা যখন আম্মার প্রেশার চেক করছিলেন, আমিও আবদার করেছিলাম আমার প্রেশার চেক করার জন্য। এভাবে প্রেশার চেক করতে গিয়ে ধরা পরে আমার সমস্যাটি। তখন সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের একটা বিভাগ ছিল হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎর জন্য আর বলতে গেলে ডাক্তার মাত্র ব্রিগেডিয়ার মালিক। যাইহোক মূলত আমার ভয়ের জন্য তখন তখনই অপারেশনের ব্যাপারটা মুলতবি রাখা হয়েছিলো। এই সময় আমি ঢাকা সিলেটের অনেক জগৎ বিখ্যাত হোমিও ডাক্তারের ঔষধ খেয়েছিলাম। কিন্তু সেই ঔষধে কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় বছর তিনেক পরে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং আমিও রাজী হই। আমার স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রণতি দত্তের (আমরা তাকে ছবিটিচার বলে ডাকতাম) পরামর্শ মতো দিল্লীর অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে যোগাযোগ করি। সেখানকার কনফারমেশন পাওয়ার পর আমার বড়ভাইয়ের সঙ্গে দিল্লী রওনা হই। আমরা আগেই ধারনা করেছিলাম আমাদেরকে কমপক্ষে দুইমাস দিল্লী থাকতে হবে। আমাদের এক নানা একটা ঠিকানা দিয়ে বললেন সেখানে থাকলে ন্যায্য ভাড়ায় নিরাপদে যতদিন খুশি ততদিন থাকা যাবে। এমনকি চাইলে খাবারের ব্যবস্থাও হবে। সেই ঠিকানাটা ছিল নিজামুদ্দিন দরগার এক খাদেমের ঠিকানা। দরগার পাশেই খাদেমরা কিছু এপার্টমেন্ট টাইপ বাড়ি বানিয়ে রেখেছেন। পাহাড়গঞ্জ বা দিল্লীর সেন্ট্রাল রেলস্টেশন থেকে টেক্সি করে আমরা সোজা গিয়ে উঠলাম নিজামুদ্দিনের আরিফ মঞ্জিল গেস্ট হাউসে। গেস্ট হাউসের কেয়ারটেকারের নাম কাইয়ূম, তার মূল বাড়ি মুর্শিদাবাদে। তো শুরু হয়ে গেলো আমাদের দিল্লীবাস।

সেদিনই আমরা এআইআইএমএসে হাজিরা দিলাম। বিশাল কম্পলেক্স। রোগীদের ভীড়। চিঠি দেখানোতে সেদিনই একজন ডাক্তার আমার চেকআপ করলেন। পরেরদিন আবার যেতে বললেন। তখন ছিলো সেপ্টেম্বর মাস। যখন হাসপাতালে ঢুকি তখন ছিল ঠাঠা গরম। বের হতেই দেখি ঝরো ঝরো বৃষ্টি। প্রথম দেখাতেই দিল্লীকে বিশাল মনে হয়েছিলো। বড় বড় রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার আর প্রচুর সবুজ। তখনও অবশ্য দিল্লীতে মেট্রো চালু হয়নি। দিল্লীর মেট্রো চালু হয়েছে কলকাতার অনেক পরে। দিল্লীর মেট্রোর বৈশিষ্ট্য হলো এটি মেট্রো এবং স্কাইরেলের মিশ্রণ। মেট্রো হওয়ার পরও আমি দিল্লীতে গিয়েছি, কিন্তু কখনো এটিতে চড়া হয়ে উঠেনি।

পরেরদিন বেশ কয়েকজন ডাক্তার আমাকে দেখলেন। অনেকগুলো প্যাথলজিকাল টেস্ট করা হলো। এক্সরে-ইসিজি-ইকো হলো। বিশ দিন পর এনজিওগ্রামের তারিখ পেলাম। হাতে অনেকগুলো দিন। কিছু করার নেই। তবে এই ফাঁকে ঘুরে ঘুরে দিল্লী দেখা শুরু করলাম আমরা।

দিল্লী গেট

পুরান দিল্লী ঠিক নতুন দিল্লীর মতো নয়। অনেক ঘিঞ্জি, গাদাগাদি আর দালানকোটা থেকে শুরু করে মানুষজনের হাকাহাকি,ডাকাডাকি পর্যন্ত পুরোনো কালের,ভাঙাচোড়া। লালকিল্লা আর জামে মসজিদ পুরান দিল্লীর প্রধান ঐতিহাসিক স্থাপনা। এক লালকিল্লার কথা বলতে গেলেই তো একটা বই হয়ে যায়। অবশ্য এ নিয়ে এত এত বই লেখা হয়েছে আর এখন তো গুগলে প্রেস করলেই সব তথ্য পাওয়া যায় তাই বর্ণনা দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। লালকিল্লার পিছনে মরা যমুনা কি এখনও তেমনই আছে না জলের ধারার কলরোল উঠেছে এই মূহুর্তে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে। পুরান দিল্লীর চাঁদনীচক বিখ্যাত এক বাজার। এখানে এত ভীড় থাকে যে ঠিকভাবে হাঁটা চলা করা মুশকিলের ব্যাপার।

দিল্লী নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখে ভাসে কুতুব মিনারের ছবি। কুতুব মিনার আমি তিনবার দেখেছি। তবে কোনোবারই উপরে উঠতে পারিনি। প্রথম ও দ্বিতীয়বার সংস্কার কাজ চলার জন্য। তৃতীয়বার নিরাপত্তার কারণে উঠা নিষেধ ছিলো। তৃতীয়বার যখন দেখি তখন কুতুব মিনার ও এর আশপাশের সংস্কার কাজ শেষ। প্রত্যেকটা স্থাপনায় নতুন করে পাথরের প্রলেপ দেয়া হয়েছে, চোখ জুড়ানো নতুন বাগান হয়েছে।

দিল্লীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো হুমায়ূন টম্ব। এটি নিজামুদ্দিন দরগার খুব পাশেই। শেষবার যখন দিল্লী যাই তখন দেখেছি এই টম্বটিও সংস্কার করা হয়েছে। স্থাপনার পাথর থেকে শুরু করে বাগানের ঘাস সবই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আমি প্রথম যেবার দিল্লী যাই তখন মাত্র মাত্র এশিয়ান গেমস শেষ হয়েছে সিউলে। সেবারের দ্রুততম মানবী পি টি ঊষাকে নিয়ে ইন্ডিয়া টুডে থেকে শুরু করে ইলাসট্রেটেড উইকলি সবখানে তুমুল মাতামাতি চলছিল। আবার শেষবার যখন দিল্লী যাই তখন সেখানে চলছিল কমনওয়েলথ গেমস।

পুরা দিল্লী জুড়ে ঐতিহাসিক স্থাপনার ছড়াছড়ি। দিল্লী হলো মোগল শাসকদের হাতে তৈরি শহর। এই শহরের পরতে পরতে সুলতান আর মোগলদের স্মৃতি চিহ্ন। সেই স্মৃতির জেল্লাই যেমন স্থাপনায় তেমনি খাবারদাবারেও। আমরা খাদেম সাহেবের  সঙ্গে খাবারের ব্যাপারে একটা চুক্তি করে নিয়েছিলাম। সকালে থাকতো লুচি-স্বব্জি-ডিম, দুপুর এবং রাতে বেশিরভাগ মহিষের মাংশের ঝাল তরকারি, ডাল ভুনা আর স্বব্জি সঙ্গে কাঁচা পেয়াজ আর কাচা মরিচ সালাদ হিসাবে। আমরা মাঝে মধ্যে মুরগী-আলু-টমেটো কিনে দিতাম। নিজামউদ্দিন এলাকায় অসংখ্য বাফেলো শপ ছিল। দিল্লীর করীমের বিরীয়ানির একটা আলাদা নামডাক আছে। খাজানার খাবারদাবারও জোশ।

লোটাস টেম্পল

দিল্লীতে ঘুরাঘুরি করা মানে ইতিহাসের পাঠ নেয়া। যেদিকেই হাঁটবেন ইতিহাসের সন্ধান পেয়ে যাবেন। সর্বভারতীয় রাজনীতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে পাঞ্জাব অঞ্চলের একটা প্রাধান্য দিল্লীতে আজও দৃশ্যমান। এনজিওগ্রামের তারিখের জন্য অপেক্ষায় থাকতে থাকতে দিল্লীতে একটা অভ্যস্থতা তৈরি হয়ে গিয়েছিলো মনে হয়। প্রতিদিন সকালে বের হয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম আমরা। ইন্ডিয়া গেট, রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন, কনটপ্লেস, পালিকা বাজার, কারোলবাগ, লোদি গার্ডেন আরও কত কী! আমি একটা ক্যামেরা কিনেছিলাম। হটশট নামের এই ক্যামেরাটা অনেকদিন আমার সঙ্গে ছিল। শুদ্ধস্বরের প্রথম সংখ্যার প্রেসের বিল মেটানোর জন্য এই ক্যামেরাটা বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো। একদিন সন্ধ্যায় লালকিল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো দেখেছিলাম। বিমোহিত করার মতো জীবন্ত ছিলো এই শো। চোখ বন্ধ করলে এখনো আমি সেই আলোর খেলাটা দেখি, সেই শব্দগুলো শুনি। তিনবারের দিল্লী ভ্রমনের কোনোবারই আমার দিল্লীর তাজমহল বলে খ্যাত সফদর জং টম্বে যাওয়া হয়নি, তবে আসা-যাওয়ার মাঝে সফদর জং এয়ারপোর্ট দেখেছি। এই ছোট এয়ারপোর্টে প্রশিক্ষণের ছোট প্লেনগুলি উঠানামা করে।

আমরা যে জায়গাটায় থাকতাম সেখান থেকে একটু ঘুরে দরগায় ঢুকতে হতো। ঢোকার মুখে ফুলের ডালা কেনার জন্য বিক্রেতারা এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করে। তেমনি মাজারের সামনে যাওয়ার পর খাদেমরা একপ্রকার জোর করে ঘাড়ে ধরে সেজদা দেয়ায়। আমরা অনেকদিনই গিয়েছি মাজারে। খাদেমসাহেবের রুমভাড়া, খাওয়ার বিল মেটানোর জন্যও যেতে হতো। মাজারের সামনের চত্বরে বসে কত মানুষ দেখা যেতো। কিছু কিছু মানুষের অস্থিরতা, উৎকন্ঠা স্পষ্টই বোঝা যেতো। অনেক সময় কাওয়ালির আসর বসতো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় একটা কাওয়ালি গান শুনে আমার খুব ভাল লেগেছিলো। কিন্তু সেটা ছিলো মাজার থেকে বের হবার সময় শুনা। আমার খুব ইচ্ছে করছিলো সেই আসরে বসে গানটা শুনতে। কিন্তু বড়ভাইকে বলার সাহস হয়নি। সেই সুরটা এখনো আমার কানে লেগে আছে। ইউটিউবে অনেক খোঁজেছি, পাইনি এখনো। তবে পরে আরও দুইবার দিল্লী গিয়েছি, কিন্তু গানের সন্ধানে মাজারে যাওয়ার সুযোগ পাইনি। এই নিজামুদ্দিন দরগাতেই কবি মির্জা গালিবের সমাধি। সম্রাট শাহজাহানের কন্যা জাহানারার সমাধিও এখানেই। জানাহারাও কবি ছিলেন। এই এলাকাতেই অবস্থিত গালিব একাডেমি। তবলীগ জামাতের প্রধান আস্তানাও এই নিজামউদ্দিন এলাকাতেই। তবে পুরা এলাকাটা এত নোংরা যে বলার মতো নয়। ঠিক মনে নেই নিজামুদ্দিন ইস্ট বা ওয়েস্ট কোনো একটা আবাসিক এলাকায় পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশ মুন্সীর বাসা দেখেছিলাম।

সময় শেষ হচ্ছিল না আবার থেমেও থাকছিলো না। এর ফাঁকে একদিন আজমীর এবং একদিন প্যাকেজ ট্যুরে তাজমহলও ঘুরে আসলাম। পরের দুইবারও তাজমহলে গিয়েছিলাম। তিনবারের দিল্লী ভ্রমণের একবার গিয়েছিলাম জুলাইমাসের ঠাঠা গরমকালে। গরমে পুড়ে যাচ্ছিলাম তবে ঘাম হচ্ছিলো না, এটা ছিলো নতুন অভিজ্ঞতা। আমার প্রথম দিল্লী ভ্রমণকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী। এর মধ্যে একদিন সকালে পত্রিকার পাতায় দেখি আগেরদিন রাজীব গান্ধী মহাত্মা গান্ধীর সমাধি রাজঘাটে গিয়েছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে। তখন কেউ একজন বোধ হয় তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। আমরা অবশ্য এরই মধ্যে রাজঘাট, শান্তিবন দেখে ফেলেছিলাম। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর বাসভবন তিনমূর্তি ভবন, এটি এখন নেহেরু মিউজিয়াম। প্রধান ফটকের সামনেই একটা ছোট প্ল্যানাটেরিয়াম। কন্যা ইন্দিরাকে লেখা চিঠিগুচ্ছের সমষ্টি ‘বিশ্ব ইতিহাস প্রসঙ্গ’ বইটি পড়ার সুযোগ আমার হয়েছিলো নেহেরু মিউজিয়াম দেখার আগেই। সেবার ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়ামও দেখেছিলাম। পরে দেখলাম এই মিউজিয়ামেই রাজীব গান্ধীর স্মৃতি চিন্থগুলোও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আমাদের গেস্ট হাউসের বারান্দায় দাঁড়ালেই দেখা যায় বিশাল জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম আর এশিয়ান গেমসের ভিলেজ। দেখা যায় ওবেরিও ইন্টাকন্টিনেন্টালের উঁচু বিল্ডিং, কিছুটা হুমায়ূন টম্বের অংশবিশেষ। তারপর একসময় হাসপাতালে ভর্ত্তি হওয়ার তারিখ আসে। ভর্ত্তি হই। এনজিওগ্রামের পর এক তরুণী ডাক্তারের আমার হাতের রক্ত পরা বন্ধ করার জন্য হাত চেপে ধরে বসে থাকা অবস্থায় তার মাথা নাড়ানো আর উৎকন্ঠা দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই আবার ভালও লাগে। এনজিওগ্রামের তিনদিন পর অপারেশন হয়। অপারেশনের আগে ডাক্তাররা বলেন, সফল হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র সাত ভাগ। আর সফল হলেও শরীরের অর্ধেক অংশ প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা পঞ্চাশভাগ। শরৎকালের সেই মিষ্টি সকালে একটা মিষ্টি গন্ধের ভেতর দিয়ে এক স্নিগ্ধ নীল আলোর মধ্যে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর কেমন করে যেন ডাক্তরদের সব শঙ্কাকে পেছনে ফেলে ফিরে এসেছিলাম। আমার কোঁকানোর শব্দে বিরক্ত হয়ে খুব দ্রুত আইসিইউ থেকে কেবিনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো। সেই কেবিনে থাকাকালীন একদিন সারারাত আলোকবাজি আর শব্দবাজি আমাকে উদ্দিপ্ত করেছিলো খুব। পরে জেনেছিলাম সেদিন ছিলো দীপাবলীর রাত। এভাবেই ঠিকঠাক মতো মায়ের ছেলে মায়ের কোলে ফিরে এসেছিলাম। তারপর আরও দুইবার দিল্লী গিয়েছি। আরও অনেকবার যেতে চাই সেখানে। দিল্লী আমার দ্বিতীয় জন্মের শহর।

ছবি: গুগল