ক্লডিয়া কার্ডিনালঃ অভিনয় আর অবেদনের তারকা

ক্লডিয়া কার্ডিনাল জন্মেছিলেন ইতালীতে ১০৩৮ সালে। ইউরোপীয় সিনেমার দুনিয়ায় অভিনয়ের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করলেও ষাট ও সত্তরের দশকে গোটা পৃথিবীতে তার অভিনয় ও সেক্স অ্যাপীলের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য ছবিতে। কিন্তু সিনেমার জগতে অমরতার সীমা স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। এক সময়ে পর্দাজুড়ে রাজত্ব করে প্রায় নিঃশব্দেই হারিয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।
স্কুলে পড়ার সময় তিউনিশে তার জীবনকে এলোমেলো করে দেয় ধর্ষণের ঘটনা। স্কুলে যাবার পথে এক ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে একটি গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে। কিশোরী বয়সে সেই সন্তানের জন্ম দিতে লন্ডনে পালিয়ে চলে যেতে হয় তাকে। তখন সন্তানের জন্য বেশকিছু সময় লন্ডনেই থাকতে হয় তাকে।
ক্লডিয়া ১৯৫৭ সালে ‘মোস্ট বিউটিফুল গার্ল ইন তিউনিশিয়া’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। আর এই জয়ের শিরোপাই তাকে এনে দাঁড় করায় চলচ্চিত্রের দরজায়। তিনি চলে আসেন ইতালীতে। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় তখনকার বিখ্যাত পিরিচালক ফ্র্যাংকা ক্রিস্টালডি‘র সঙ্গে। ১৯৫৮ সালেই বিখ্যাত অভিনেতা ওমর শরীফের সঙ্গে ‘গোহা’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেন ক্লডিয়া। চরিত্রটি ছিলো খুব ছোট। কিন্তু ওই শুরুতেই বলেছিলাম তার আবেদন, তার অভিনয় গুণের কথা। পেছনে পড়ে থাকেননি এই অভিনেত্রী। ১৯৬১ সালের মধ্যে দুটি বিখ্যাত ছবি ‘রেকো অ্যান্ড হিজ ব্রাদার্স এবং ‘গার্ল উইথ আ সুটকেশ’ ছবিতে অভিনয় করে হৈ চৈ ফেলে দেন তিনি। জন্ম হয় অভিনেত্রী ক্লডিয়া কার্ডিনালের। ওই সময়েই তিনি পৃথিবী বিখ্যাত পরিচালক ফেদেরিকো ফেলেনির আলোচিত ছবি ‘এইট অ্যান্ড হাফ’-এ অভিনয়ের জন্য মনোনীত হন।
১৯৬৩ সালে তিনি জয় করেন আমেরিকা ও বৃটেনের বড় পর্দা। ডেভিড নিভেন, রক হাডসন, হেনরি ফন্ডা আর পিয়ার্স ব্রসননের সঙ্গে জুটি বেঁধে রাতারাতি তারকা বনে যান ক্লডিয়া। তার অভিনীত ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন দ্য ওযেস্ট’ ছবিতে এক সাবেক পতিতার চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেন। ছবিটি আমেরিকা ও ইতালীর যৌথ প্রযোজনায় তৈরী হয়। ওই একই সময়ে ক্লডিয়া ‘পিংক প্যান্থার’, ‘লস্ট কমান্ড’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচিত হন।
তখন সোফিয়া লরেন, এলিজাবেথ টেইলারের মতো দুনিয়া কাঁপানো অভিনেত্রীদের যুগ।উঠে আসছেন র‌্যাকুয়েল ওয়েলচ, জেমস বন্ড খ্যাত উরসুলা অ্যানড্রেস। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন ক্লডিয়া কার্ডিনাল। সেই সময়ে তিনি অভিনেতা রক হাডসনের সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। তবে ক্লডিয়ার ভাষায সেই সম্পর্ক ছিলো একেবারেই বন্ধুত্বের। কারণ হাডসন ছিলেন সমকামী। সে সময়ে সমকামিতার কথা প্রকাশ হয়ে গেলে তার আর হলিউডে অভিনয় করাই হতো না। ক্লডিয়া হাডসনের জীবনের এই কঠিন সত্যটি জানতেন। তাই তারা দুজন ঘনিষ্ট বন্ধুর মতোই আচরণ করতেন। সবাই ভাবতো তারা প্রেমে পড়েছেন।
খুব বেশীদিন হলিউডের উজ্জ্বল হাতছানি তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি ফিরে যান আবার ইতালীতে। কাজ শুরু করেন ইতালীয় ও ফরাসী ছবিতে। ১৯৬৮ সালে ‘জিরানো ডেলা সাভাতা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার।
নিজের কন্ঠস্বরে তার প্রথম ছবি ‘অপস্টেয়ার্স অ্যান্ড ডাউনস্টেয়ার্স’। তিউনেশিয়ায় জন্মগ্রহণের কারণে প্রথম দিকে ইতালীয় ভাষায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন না এই অভিনেত্রী। এক সময়ে তাকে শিক্ষকের কাছে ইংরেজিও শিখতে হয়।
২০১০ সালে তিনি অভিনয়ের জন্য সর্বশেষ পুরস্কারটি পান ‘গোল্ডেন অরেঞ্জ’ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে। সিনেমার নাম ‘সিগনোরা এনরিকা’।
টাইম পত্রিকা ১০১১ সালে তাদের বিচারে তাকে বিশ্বের সেরা পঞ্চাশ জন সুন্দরীর তালিকায় স্থান দেয়। ২০০০ সালে ক্লডিয়া নারী অধিকার বিষয়ে ইউনেস্কো‘র শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও মনোনীত হন।

বিনোদন ডেস্ক
তথ্য ও ছবিঃ গুগল