প্রেমে-অপ্রেমে অভিনেতা অ্যালেন ডেলন

অ্যালেন ডেলন

কোন কোন মানুষ আছে ঝোড়ো জীবনযাপনে আসক্ত হয়ে যায়। নানা ঘটন-অঘটন তাদের জীবনকে তাড়া করে ফেরে এক জীবনে। অভিনেতা অ্যালেন ডেলন তেমনি একজন মানুষ। জন্ম ফ্রান্সে ১৯৩৫ সালে। পুরো নাম অ্যালেন ফ্যাবিয়েন মুরসি মার্সেল ডেলন। তবে ফরাসী দেশ ও হলিউডের সিনেমা জগতে তিনি নক্ষত্র হয়েছিলেন অ্যালেন ডেলন নামে।ষাটের দশকে অসম্ভব সুদর্শন এই অভিনেতা তার অভিনয় আর পর্দায় উপস্থিতি দিয়ে পরিণত হন সেক্স সিম্বলে। বহু নারীর ভালোবাসা তাকে সারা জীবন তাড়া করেছে।

চার বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ডেলনকে থাকতে হয় অন্য এক পরিবারে। তারাই তাকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে দেয়। কিন্তু স্কুলের গন্ডী এই বেপরোয়া বালককে বেশীদিন আটকে রাখতে পারেনি। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে স্কুল থেকে পালিয়ে যান ডেলন। চাকরি নেন এক কসাইয়ের দোকানে। সেখানে কিছু সময় মাংস কাটাকাটি পর্ব শেষে চলে যান ফরাসী নৌ বাহিনীতে। প্রথম ইন্দো চায়না যুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। নৌ বাহিনীর চাকরিতে অবাধ্যতার জন্য তার জীবনে যুক্ত হয় ১১ মাসের কারাবাস।

তখনও অভিনয়ের পোকা মাথায় চাপেনি তার। চাকরি ছেড়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন ফ্রান্সের কানে। সেখানেই হঠাৎ চোখে পড়ে যান পরিচালক সেলজেনিকের। স্ক্রিন টেস্টেও পাশ করেন। কিন্তু ঝামেলা করে তার ভাষা। অভিনয় করতে শিখতে হবে ইংরেজি। ডেলন ফিরলেন প্যারিসে। শিখতে শুরু করলেন ইংরেজি। কিন্তু এক ফরাসী পরিচালক সুদর্শন এই তরুণের ভাগ্যের গতিপথ বদলে দিলো তার ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে। ১৯৫৭ সালে প্রথম ছবিতে অভিনয় করে ফেললেন ডেলন। ছবির নাম- সেন্ড এ ওম্যান হোয়ের দি ডেভিলস ফেইলড।

এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে সাড়া ফেললেন ডেলন। তবে ১৯৫৮ সালে খ্যাতিমান অভিনেত্রী রমি শ্যান্ডলারের সঙ্গে ‘ক্রিস্টিন’ ছবিতে অভিনয় করে রীতিমতো লাইম লাইটে চলে এলেন ডেলন। সে সময়ে রমি শ্যান্ডলারের প্রেমও ছিলো পত্রিকার পাতায় প্রবল সংবাদের বিষয়। এই সিনেমাটি ওই বছর ফ্রান্সে সবচাইতে আলোচিত হয়েছিল।

‘ওম্যেন আর উইক’ সিনেমার মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে পা রাখেন ডেলন।আমেরিকার পত্র পত্রিকায় তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রশংসা। ইংরেজি ভাষায় তার প্রথম সিনেমা ‘ওয়ান্স এ থিফ’। এরপর সবচাইতে আলাচিত ছবি ‘লস্ট কমান্ড’। ষাটের দশকে নীল চোখের এই অভিনেতা খুব দ্রুতই হলিউডের ছবির দর্শকদের মন জয় করে ফেলেন। দর্শকদের পাশাপাশি নারীদেরও।

ব্রিজিত বার্দোতের সঙ্গে সমুদ্রে

ডেলন ১৯৫৯ সালের মার্চে বিয়ের বাগদান সম্পন্ন করেন অভিনেত্রী রমি শ্যান্ডলারের সঙ্গে। কিন্তু প্রেম তার পিছু ছাড়েনি। ওই সময়ে-ই তিনি প্রেমে পড়েন এক জার্মান মডেল ও গায়িকা নিকোর। তাদের সম্পর্কের মাঝে নিকো ডেলনের পুত্র সন্তানের মা হন। বাগদান ভেঙ্গে যায় শ্যান্ডলারের সঙ্গে।

১৯৬৪ সালে তিনি সব সম্পর্ক চুকিয়ে বিয়ে করেন নাটালি বার্থেলমিউকে। কিন্তু আবার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে । ১৯৬৮ সালে আবার তিনি জড়িয়ে যান ডেনমার্কের মডেল মার্সেলি ডার্কের সঙ্গে। ১৯৮২ সাল পর্য্ন্ত তাদের এই সম্পর্ক টিকে ছিলো। এরপর এই অভিনেতার জীবনে আরো নারীর আগমন ঘটে। সর্বশেষ আরেক ডাচ মডেল রোজেলি ভ্যান ব্রেমেনের প্রেমে পড়েন তিনি। এই ভালোবাসাও টিকে ছিলো ২০০২ সাল পর্য্ন্ত।

অ্যালেন ডেলন ১৯৯৯ সালে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এখনো তিনি সে দেশেই বসবাস করছেন একজন ব্যবসায়ী হিসেবে।

বিনোদন ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া
ছবিঃ গুগল