বিয়ে এবং প্রাসঙ্গিক কিছু মৌলিক ইস্যুর উত্থান

হাসানুল বান্না

এমন একটি ইস্যু নিয়ে লিখতে বসেছি যখন এই ইস্যু নিয়ে দ্বন্দ্ব, কোলাহল ও টানাপোড়েনে পরিবেশ বিপর্যস্ত, নিমজ্জিত। দুশ্চিন্তার ঘোরে মানুষ দিকভ্রান্ত। কিছু মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত, কিছু মানুষ সুখী হয়েও পজিটিভ বিষয় উপস্থাপনায় সন্ধিহান। সেই চিরজানা অচেনা বিষয়টি সৃষ্টিকর্তার অন্যতম মৌলিক ব্যবস্থাপনা, যা দুটি অক্ষরে নির্মিত হলেও এর উপর শারীরিক, মানসিক ও জ্ঞানের ত্রিমাত্রিক প্রসারতা নির্ভর।

সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে আদি এই চির পরিচিত বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভ্যস্ততা একটি সহজাত প্রবৃত্তি , যা মানুষকে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করেছে। ক্রমবর্ধমান এই সম্পর্কে যুক্ত হওয়ার পরবর্তীতে বন্ধনের নানা দিক উন্মোচিত হয় সময়ের হাত ধরে।কখনো তা হয়ে ওঠে সুন্দরের বার্তা জানান দেওয়ার চাবিকাঠি, কখনো তা অসুন্দর হয়ে ওঠে বহুমাত্রিক সমস্যা উৎপাদনে।

আমরা নাগরিক জীবনে বিয়েটাকে দেখি দুটি ভিন্ন লিঙ্গের মানুষের মিলন হিসেবে। আমাদের সংকীর্ণ ধারনার প্রাচীর ভেদ করে একটু তাকালেই ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি আমাদেরকে সঠিক পথের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমরা এভাবে ভাবতে চাই, ভাবাতে চাই যে, বিয়ে শুধু ভিন্ন ফ্রেমের মিলন নয়, বরং দুটি ভিন্ন সত্তার বা আত্মার বা শক্তির মিলনকেই অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে একে অপরের আত্মিক পরিচিতির দ্বার উন্মোচন করতে পারি। ফ্রেমের চেয়ে আত্মিক সম্পর্ককে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করলে জীবন হয় সুখের, আনন্দে হয় ভরপুর। ভিন্ন মানসিকতা এক বিন্দুতে মিলিত করতে সহযোগিতা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি আর ভালোবাসার সংমিশ্রণ খুব প্রয়োজন।

চারপাশে সম্পর্কের ভাঙ্চূর দেখে প্রশ্ন জাগে বর্তমানে বিয়েটা কি ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে? সম্পর্কের গভীরে, মানবিক মূল্যবোধের উপর বিশ্বাস, একে অপরের পরিপূরক ভাবনা, শর্তহীন নিঃশর্ত চেতনার মোড়কে নিজেদেরকে আবদ্ধ করতে না পারার ফসল হিসেবে বিবাহিত জীবনের মোড়ে বিভক্তির বিপ্লবে গড়ে উঠা দীর্ঘশ্বাস, হতাশা এবং অবশেষে পৃথকীকরণ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে আজকের এই সমাজে, এই পৃথিবীতে?

দ্বিধা নেই যে, সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য সম্মত বিয়ে জীবনকে সুন্দর ও গতিময়তা আনতে  মুখ্য ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ভূমিকা পালন করে পরিবার, সমাজ, পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে। বিয়ে পরে মানুষকে পরিশ্রমী হতে শেখায়, যা ভাগ্য বিনির্মাণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

যারা বর্তমানে অভিভাবক ,তাদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। তাদেরকে দূরদর্শিতার সঙ্গে সন্তানদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেননা সন্তানদের ভিতরে থাকা তারুণ্য-শক্তি যেন অপচয় না হয়, পথভ্রষ্ট না হয়; সেই বিষয়ের উপর নজর থাকা উচিত।

প্রকৃত পক্ষে, আমরা চাই না বিয়ের পরবর্তী সময়ে কেউ অসুখী হোক। এরকম সংকটে কাছের মানুষ এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে সকল ধরণের সাপোর্ট দিতে হবে। অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কটাকে স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলার সফল পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে।তবেই আমাদের জয় নিশ্চিত। সুন্দর আগামী, সুন্দর হাসি, সুন্দর সকাল সবই আমরা চাই। প্রতিটি বিয়ে হোক স্বাস্থ্যকর, আত্মিক শুদ্ধ বন্ধন যুক্ত, সত্যের কাপড়ে মোড়া।

-লেখক, প্রকৌশলী

(লেখাটি একান্তভাবে লেখককের মতামত)