গাজর ধরে রাখে যৌবন…

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

গাজর আমাদের দেশে খুব পরিচিত হলেও এর জন্ম মূলত আফগানিস্তানে। প্রায় তিন হাজার বছর আগে সেখানে চাষ হতো গাজরের। কালো, সাদা ও হলুদ রঙের গাজর পাওয়া যেত তখন। ১৬ শ’ শতাব্দীতে ডাচরা কমলা রঙের গাজরের চাষ করে। মূলত উৎকৃষ্ট গাজরের জন্ম হলান্ডেই। ভারত পার্শিয়া থেকে গাজর আনে এবং ১৩ শ’ শতাব্দীতেই তারা চীনে তা সরবরাহ করে। এখন পৃথিবীর সর্বত্র গাজরের চাষ হয়।
খাদ্য হিসেবে গাজর অত্যন্ত জনপ্রিয়। হালুয়া, জুস, সালাদ কিংবা তরকারি হিসেবে গাজর অতুলনীয়। গাজর কাঁচা খাওয়া যায়। গাজরে থাকে বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের শরীরের কোষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গাজরের বিটা ক্যারোটিন ও লাইকেপেন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে। এর ক্যারোটেনয়েড উপাদানটি আমাদের ত্বককে রক্ষা করে এক্সরে সূর্যরশ্মির ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় গাজরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিউ ইয়র্ক সিটির ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকদের মতে মহিলারা গাজর খেলে ছত্রাক সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়। তারা গবেষণা করে দেখেছেন যে, মহিলাদের যৌনাঙ্গে ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে যদি শরীরে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ কমে যায়। বিটা ক্যারোটিন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্ম দেয়। একটি ১০০ গ্রামের কাঁচা গাজরে কী থাকে?

# শক্তি : ৪৮ কিলোক্যালরি
# কার্বোহাইড্রেট : ১০.৬ গ্রাম
# প্রোটিন : ০.৯ গ্রাম
# আঁশ : ১.২ গ্রাম
# পানি : ৮৬.০ গ্রাম
# ক্যারোটিন : ১৮৯০ মাইক্রোগ্রাম
# ফসফরাস : ৫৩০ মিলিগ্রাম
# ক্যালসিয়াম : ৮০ মিলিগ্রাম

গাজরের গুণ বলে শেষ করা যায় না। গাজর খেলে ত্বক সজীব হয়, মধ্যবয়সী মহিলাদের ত্বককে বার্ধ্যকের হাত থেকে রক্ষা করে। তবে গাজর ত্বকে মাখলে উপকার হয় না। কাঁচা খেতে হবে। গাজর চোখের ছানি, হৃদরোগ এবং কিছু কিছু ক্যান্সারকে প্রতিহত করে। গাজর সর্বদা কাঁচা খাবেন। তবে রান্না করলে সিদ্ধ করবেন অল্প। বেশি করে গাজর খান, ধরে রাখুন যৌবন এবং প্রতিরোধ করুন ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক ব্যাধিগুলো।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা।