তুমি ছুঁয়ে দিলে …

তুমি ছুঁয়ে দিলে মন
আমি উড়ব আজীবন

লেখাটা শুরু করতে গিয়ে একটা কবিতার লাইন ভেসে এলো মনে… তুমি ছুঁয়ে দিলে রোদ্দুর হয়ে যাই’। মানুষ কখনো আলো হয়ে যেতে পারে কি না জানি না। কিন্তু প্রেমিক বা প্রেমিকার স্পর্শে ভালোবাসা যে অন্য মাত্রা পায় তাতে কোন সন্দেহ নেই। মুখ থেকে নিঃসারিত এক হাজার শব্দের চাইতে অনেক বেশী শক্তিশালী ছুঁয়ে দেয়ার ব্যাপারটা। প্রেমের অভিমানে, প্রেমের অভিব্যাক্তি প্রকাশে অথবা ভুল বোঝার কোন প্রহরে এই স্পর্শ দূতের ভূমিকা পালন করে। প্রেমের স্পর্শ ফিরিয়ে দেয় বিশ্বাস, ফিরিয়ে দেয় নির্ভরতা। তাই এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদের আয়োজন-তুমি ছুঁয়ে দিলে।

র্প্রেমের স্পর্শ: বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে স্পর্শ করলে তা মাথার ভেতরে  রাসায়নিক বন্যার সূচনা করে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে সারা শরীরে। রক্তে তৈরী করে ভিন্ন উদ্দীপনা। ফলে হাত ঘামা,ত্বকে রক্তাভা,দ্রুত নিঃশ্বাস ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। প্রেম আর উৎকন্ঠার বাহ্যিক প্রকাশই এটা। এ শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকার স্পর্শেই ঘটবে।একজন ডাক্তার বা কোন অপরিচিত ব্যক্তির স্পর্শ আর ভালোবাসার মানুষের স্পর্শ যদি একই জায়গায়, একই পরিবেশে, একই ভঙ্গিতে ঘটে তাহলেও অনুভূতির পার্থক্য ঘটে। কিন্তু কেন? আসলে প্রেম নামক অনুভূতিটা আমরা অনুভব করি হাতে গোনা পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে।অবশ্য আমরা অনেক সময় মনে করি একমাত্র চোখই ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করে।আর ওষ্ঠ দুটিই একমাত্র নরম স্পর্শের ছোঁয়া দেয়। অথচ আমরা খেয়ালই করি না যে ভালোবাসার কথা বোঝাতে কেবল চোখ বা ঠোঁটের ভূমিকাই যথেষ্ট নয়। শরীরের প্রতিটি স্পর্শেন্দ্রিয় সজাগ থাকে স্পর্শের সুখানুভূতি পেতে। তাই ভালোবাসার অব্যক্ত অনুভুতি  কখনও ব্যক্ত হয় হাতের আঙ্গুলের ছোঁয়ায়। কখনও পায়ের পাতায়। কখনও কানের লতিতে। কখনও গ্রীবায় আলতো স্পর্শে।

# হাতের ডগায় প্রেম:  নতুন প্রেমিক প্রেমিকা সব সময়ই আড়াল খেঁজেন। আর  একটু আড়াল পেলেই মেতে ওঠে আঙ্গুল ছোঁয়ার খেলায়। কখন যে তাদের হাত সক্রিয় হয়ে ওঠে তা হয়তো তারাও বুঝতে পারে না কখনও নিভৃতে আলাপচারিতায়,কখনও ঘরভরা লোকের চোখে ধুলো দিয়ে, কখনও রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এ ওর আঙ্গুল নিয়ে খেলা করতে থাকে। কেবল ছোঁয়া ছোঁয়া খেলাই নয়, বিপদে একে অপরকে শান্ত করতে, সাহস দিতে , শান্তনা দিতে,আঙ্গুলের মৃদু চাপ কী অসাধারন কাজ করে তা প্রেমিক মাত্রই জানে।shamim2

#প্রেম যখন পায়ের পাতায়: সবুজ ঘাসের উপর বা ঘরের  মেঝেতে কিংবা খাটে বসে থাকা প্রেমিক প্রেমিকা নিভৃতে কিংবা ঘর বোঝাই লোকের চোখে ধুলো দিয়ে খাবার টেবিলে বসে টেবিলের নিচ দিয়ে একে অন্যের পা স্পর্শ করে। তখন একে অন্যের পায়ের পাতায় অনুভব করে ভালোবাসরে চাপ। অথচ  অনুভুতি গ্রহনের এইু অঙ্গটির কথা আমাদের মনেই থাকে না। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যাক্তিগত অনুভূতি একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে  এই পায়ের পাতা দুটি খুবই প্রয়োজনীয়।হাতের মতো পায়ের পাতাও গ্রহন করতে পারে প্রেম-স্পর্শের ইঙ্গিত। প্রয়োজনে ফিরিয়েও দিতে পারে।

# গ্রীবায় প্রেমের পরশ: অন্তরঙ্গ মুহুর্তে প্রেমিক প্রেমিকারা নিজের অজান্তেই একে অন্যের গলা স্পর্শ করে। কানের পাশ দিয়ে গলার রেখা বরাবর অংশটি খুবই  উত্তেজক । সর্বদা সক্রিয় এই অংশে ঠোঁটের নরম স্পর্শ যে কোন প্রেমিক প্রেমিকাকে আবেশে  ভরিয়ে দেয়।কেবল  ওষ্ঠাধরই নয় ,জ্বরের সময় হাতের তালুদিয়ে যখন একে অন্যের তাপ অনুভব করে তখন ঠান্ডা হাতের আলতো  ছোঁয়া জ্বরের কষ্ট কাটিয়ে দেয়।তাই গ্রীবায় স্পর্শ কখনও উত্তেজনা জাগায়। কখনও জাগায় স্বস্তির আশ্বাস।এভাবেই গ্রীবা স্পর্শ একে ওপরকে আরো কাছে আনে।

# প্রেম যখন কানের লতিতে: প্রেমিক প্রেমিকারা কেউ কি কখনও খেয়াল করেছেন নিজের অজান্তেই আপনারা স্পর্শ করেন একে অন্যের কান। ভালোবাসার ক্ষেত্রে কানের ভুমিকা প্রশস্ত। কথাটা শুনতে হাস্যকর লাগলেও জেনে রাখুন, কানের লতিতে স্পর্শ বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কারণ মনে করুন যখন প্রেমিক প্রেমিকা তাদের একে অপরের মাথার চুলে বিলি কাটতে কাটতে  গল্প করে গালে আলতো করে টোকা দেয়  বা কানের লতিতে আঙগুল ছোঁয়ায়। তখন মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। এসময় ভালোবাসার অনুভূতিও তীব্র হয়।

মানব-মানবীর ভালোবাসা তো আসলে পুরোটাই মানসিক বিষয়। বিজ্ঞানীরা কঠিন করে বলেন মাথার ভেতরে রাসায়নিক পদার্থের  নিঃসরণের খেলা। আমরা বলি, ভালোবাসার সম্পর্ক  আসলে টিকে থাকে বিশ্বাসে। কখনো সেই বিশ্বাসের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয় একটু প্রিয় স্পর্শ।

 

 

  • Mominul

    Nice…..