পূজো আসে, পূজো যায়

পরিমল মজুমদার

প্রথম দু:সংবাদটা দিলো মালঞ্চ পিসি।
খুব ভোরে তিনি আমাদের বাসায় আসেন, দ্যাখেন আমাদের শোবার ঘরে বড় বড় দু’টি সিঁদ। চিৎকার চেঁচামেচি, গ্রাম ভেঙ্গে লোকজন এলো সিঁদ দেখতে।
সেই সিঁদ দিয়ে মায়ের বড় বড় দু’টো ট্রাংক বাইরে বের করে সব কাপড়-চোপড় নিয়ে গেছে চোরের দল। খালি ট্রাংক আর লেপের কভার ফেলে গেছে।

বুকটা ধরাস্ করে উঠলো। আমার পূজোর জামা-প্যান্টও নিয়ে গেছে চোরে। একদিন আগে উমর খলিফার দোকান থেকে আমার জামা-প্যান্ট বানানো হয়েছিলো। সাদা জমিনের উপর হালকা আকাশি রংয়ের স্ট্রাইপ দেওয়া। প্যান্টটা ছিলো খয়েরি রংয়ের।
আমার মন খরাপ দ্যাখে কে।

বাবার তেমন আয় রোজগার ছিলো না, টিউশনির উপর চলতেন। তিনি আমাকে তার রং ওঠা বিবর্ণ বাইসাইকেলে চড়িয়ে বৈদাস খলিফার ওখানে নিয়ে গেলেন, সার্টের মাপ দিতে। এরপর কাপড় কিনলেন জবেদ হাজীর দোকান থেকে, কচি কলাপাতা রংয়ের।
আমার আনন্দ দ্যাখে কে !

নি:সঙ্গ বালকের কপালে আনন্দ ক্ষণে ক্ষণে উবে যায়। পূজোর দু’দিন আগে মালঞ্চ পিসি আবারো একটা দু:সংবাদ দিলেন। কাপড় ধুতে আমার সার্টের কাপড়ের রং উঠে গেছে।

সেই বিবর্ণ জামা পড়ে পূজোর মেলায় এসেছিলাম। পদ্মখোঁচা খেয়েছি, বেলুন বাঁশি কিনেছি। ফুটিয়েছি লাঠি পটকা। হামিদ ভায়ের (সাবেক মেয়র) লটারির দোকানে আট আনার লটারির টিকেট কিনে ঠকেছি। সেই টিকেট জলে ‍চুবানোর পর পেয়েছি ১ আনার একটা লজেন্স।

পূজো আসে, পূজো যায়। সেই বিবর্ণ জামার ভালোবাসাটা আজো খুঁজে ফিরি। আবার লটারির টিকেট কিনে ঠকতে মন চায়।কালু বাবুরা চলে গেছে ইন্ডিয়া, ও বাড়িতে আর পূজো হয় না। বন্ধ হয়ে গেছে পাঁড়ের বাড়ির পূজোও।

ছবি: লেখক