যার যার ধর্ম তার তার কাছে

সৈয়দা মুনিয়া জামান

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

প্রকৃতির আয়োজন আর চারপাশের সাজসজ্জা দেখেই বোঝা যাচ্ছে দূর্গা পূজা চলে এসেছে।জায়গায় জায়গায় পূজার মন্ডপের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।আমার কাছে ঈদের আগমনী প্রস্তুতি যতটা আনন্দদায়ক,পূজার আগমনী প্রস্তুতি তার চেয়ে কোন অংশে কম আনন্দের না।

অনেকগুলো দিন ধরে উৎসব মুখর মানুষের ঢল মন্দ লাগেনা।রঙীন সাজ,লাল সাদার ছড়াছড়ি,সব মিলিয়ে অসাধারন লাগে।এই যে মুসলমান ঘরের সন্তান হয়েও পূজা ভালো লাগে বলছি,এর জন্যকি আমার বংশ বা জন্মদাতাকে দায়ী করা হবে!!মানে তারা আমাকে ইসলামের সুশিক্ষা দিতে পারেনি।

মোটই তেমন না,ধর্ম জানানোর জন্য যতটুকু শিক্ষা তাদের দেওয়া দরকার ছিলো তারচেয়েও কিছুটা বেশী জানাতে তারা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলো।
জানাতে চেয়েছে,জেনেছিও। তাদের দায়িত্ব শেষ।এখন কতটুক আমল করবো আর কতটুক করবোনা সেটা একান্তই আমার নিজস্ব বিষয়।

পূজা আসলেই নিউজ হেড লাইনে দূর্গা প্রতিমা ভাঙার সব ছবি ভাসতে শুরু করে।বেশীরভাগ ধর্ম প্রান মুসলিম ভাইয়েরা প্রতিমা ভাঙার পক্ষে যুক্তি দিয়ে থাকেন দূর্গা মায়ের এতো ক্ষমতা তাহলে নিজেকে কেন রক্ষা করতে পারলোনা!যারা মূর্তি ভাঙতে গিয়েছিলো ত্রিশূল হাতে তাদের বধ করলো না কেন!!

আমার ধর্ম প্রান মুসলমান ভাইয়েদের যুক্তি যদি আমরা মেনেও নেই তারপরও কিছু কথা থাকে।মসজিদওতো আল্লাহর ঘর,এই আল্লাহর ঘরে যখন কোন ইমাম সাহেব মকতবে বাচ্চা ছেলে মেয়েদের পড়ানোর সময় মেয়েটাকে আলাদা ডেকে নিয়ে শরীরটা হাতা দেয়, তখনও কিন্তু আল্লাহ নেমে এসে বা কোন ফেরেশতা নেমে এসে সে পাপ ঠেকায়না।

আমার ছোট বেলায় পড়া বোডিং মাদ্রাসাটাতে অনেক বড় আপুও ছিলো।যাদের বেশীরভাগই হাফেজী পড়া শেষ।আমি ছিলাম তখন ক্লাস টুতে পড়া বাচ্চা মেয়ে।
ওসময় দেখেছিলাম এক বড় আপু জ্বীনের মাধ্যমে পেগনেন্ট হয়ে গেছে।তাকে পেগনেন্ট করা জ্বীন সাহেবকে রোজ নানা আয়োজন করে ডাকা হচ্ছে।

এরপর কি হয়েছিলো সঠিক বলতে পারবোনা।তবে হুজুর সাহেবের পবিত্র মাদ্রাসাতে,ওই অসহায় এতিম বড় আপুটার সঙ্গে যা হয়েছিলো ওসবও আল্লাহ তায়ালা নেমে এসে ঠেকাননি।বিশ্বাস করেন কোথাও শুনিনি মসজিদের ইমাম ধর্ষন করার চেষ্টা করেছিলো বলে আল্লাহর ঘর সে পাপ সহ্য না করে তার ওপর ভেঙে পড়েছে।শুধু শুনেছি ইমাম সাহেব ধর্ষন করতে সফল হয়েছেন।

এখন আপনি যদি বলেন আল্লাহ সব বিচারই করে। কিন্তু যে মেয়েগুলোকে গনধর্ষনের স্বীকার হয়ে জীবন হারাতে হয়েছে,তারা কি বিচারের মাধ্যমে আবার জীবন ফিরে পাবে আমার জানা নেই।আমার আল্লাহ যদি সব হিসাব তুলে রাখতে পারে,তাহলে ওদের দূর্গাও সব হিসাব তুলে রাখলেও রাখতে পারে।বলছিনা বিশ্বাস করেন,কিন্তু ওদের বিশ্বাস নিয়ে ওরা থাকলে আপনার সমস্যা কোথায়!!

আমি আপনি যদি মুসলমান ঘরে জন্ম না নিতাম তাহলে কেমন হতো??ওরা জন্ম সুত্রে দূর্গা চিনেছে,আমরা চিনেছি আল্লাহ।বাপ মা আসমান দেখায় বলছে ওই সব আল্লাহ বানিয়েছে,আমরা বিশ্বাস করেছি।ওদেরকেও বাপ মা বলেছে দূর্গা মা,ওরাও বিশ্বাস করেছে।যদি আমাদেরকে ধর্ম বাছাই করার সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে আদৌ কোন ধর্ম আমরা বিশ্বাস করতাম কিনা সন্দেহ আছে।অথবা প্রতিটা ধর্মই বিশ্বাস করতাম।কিংবা প্রচুর সময় নিতাম ধর্ম বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে।

জন্মসুত্রে পাওয়া ধর্ম নিয়ে এতো কিসের বাহাদুরি বুঝিনা।ছোট বেলায় মক্তবে পড়তে গিয়ে হুজুরের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ঘটনা শুনতাম।তখন তার কাছ থেকে শোনা এক ঘটনার কথা বলি,এক নবীর বাবা মূর্তি গড়ে বাজারে বিক্রি করে।একদিন নবীকেই সেই মূর্তি বাজারে নিয়ে যেতে হয়।বাজারে নেওয়ার পথে মূর্তি গুলোকে রাস্তায় রেখে সে বিশ্রাম নিচ্ছিলো।এমন সময় এক কুকুর এসে মূর্তির গালে পেশাব করে দেয়। এ ঘটনার পর নবী সব মূর্তি ভেঙে বাড়ী চলে আসে। এবং সে ও ধর্মই ছেড়ে দেয়,যে মূর্তি নিজেকে রক্ষা করতে পারেনা সে মানুষকে কেমন করে রক্ষা করবে!
এ ঘটনার অনেকগুলো বছর পর..ও মক্তবে ভোরে আমিই মেয়েদের কোরআন পড়া ধরতাম।একদিন দেখলাম হুজুরের পালিত কুকুর মসজিদের বারান্দার দিকে পেশাব করলো।বারান্দার পবিত্র জায়য়গার অনেকটা অংশ ভিজে গেলো। অন্যের ধর্মকে অপমান করার জন্য আপনি যে যে যুক্তি দেখাবেন,সে একই যুক্তি যদি তারা আপনার ধর্মকে নিয়ে দেখায়!!বলছিনা আমাদের ইসলাম ধর্ম মিথ্যে।
বরং জোর দিয়েই বলছি ইসলাম সত্য।কিন্তু অন্য কেউ যদি ইসলাম ধর্ম পালন না করে অন্য ধর্ম পালন করে,ধর্মীয় উৎসব পালন করে, তাতেও আপনার আমার ইসলাম ধর্মের কোন ক্ষতি হবেনা।

সর্বোপরি শুভ হোক সকলের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব।
শুভ মহালয়া……

ছবি: গুগল