আমার বন্ধু ফাতানা…

শাহনাজ পলি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ফাতানা ও আমি

রুম নাম্বার 106…ওয়ান ও সিক্স….হিমালয়ের দেশে যখন পৌছুলাম তখন বেলা সাড়ে ১২ টা। শহরের রাস্তা ধরে আধা ঘন্টা ড্রাইভে একটু পাহাড়ে উঠেই হোটেল সামিট। রিসিভশনে নাম বলতেই জানাল বেগম শাহনাজ ফ্রম বাংলাদেশ.. ইওর রুম নাম্বার ওয়ান জিরো সিক্স। অলরেডি ইওর রুম মেট ফ্রম কাবুল ইন রুম। নিচ তলায় ১০৬ নং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে মৃদু ছন্দে নক করছি। জানিনা সে কেমন। অনেক সিনিয়র/ মুডি বা কেমন হতে পারে? সাড়া পেলাম না। একজন সার্ভিস গার্ল মাস্টার কি নিয়ে ছুটে এল। পেছন থেকেই এক সুন্দরী ফিটফাট স্মার্ট একটি মেয়ে এগিয়ে এসে স্মিত হেসে হ্যান্ড শ্যাক করে বলল আই এম ফাতানা। লেট ইউ বি ফ্রেশ..কামিং বলেই রুমের চাবিটা আমাকে দিয়ে আবার সেদিকেই ফিরে গেল। আমি ফ্রেশ হলাম, আধা ঘন্টা পরই ইন্ট্রোডিউসিং সেশন শুরু। প্রয়োজনীয় পেপারসগুলো হাতে নিয়ে একবারে রুম থেকে বের হলাম খাবারের রুমে। থাকা খাওয়া ওয়ার্কশপ সেইম প্লেসে।

খাবার খেতে খেতেই ifj co ordinator Ujjwal Acharya সঙ্গে দেখা হলো।বাংলাদেশে তার সঙ্গে দুটো প্রোগ্রামে অ্যাটেন্ড করেছিলাম। মেইল,ফেসবুক,টুইটারে নিয়মিত যোগাযোগ। উজ্জ্বল উষ্ণ অভিনন্দন জানালো। নির্দিষ্ট সময়ে সেমিনার রুমে ঢুকলাম। রাতে বিশাল ডিনার। ওপেন স্পেসে। সবার সঙ্গেই মোটামুটি আলাপ পরিচয় হয়ে গেল। সাউথ এশিয়ান দেশগুলোর সব পার্টিসিপেন্টস। পাকিস্তানের লুবনা, সাজ্জাদ কাদির। ভুটানের সোকি, নেপালী মাধু, অনিতা। শ্রীলংকার ধানেস ইয়াতানা, দিল রুক্সি, কাশ্মিরের ফয়সাল, ইন্ডিয়ার সুজাতা, মোহাম্মাদ সাম্মাহ। কাবুলের ফাতানা, সামান্দার রাহিম। মালদিভের জাহিনা রাশিদ, আহমেদ জাহির এরকম প্রায় ২৫ জনের মতো। সঙ্গে আমাদের এশিয়া প্যাসিফিকের ifj director jakui park(সিডনি)! প্রথম রাতেই ফাতানা, মাধু আর সোকির সঙ্গে বেশি খাতির হয়ে গেল, গল্প খাওয়া ছবি তোলা হল। রুমে ফিরে ফাতানার সঙ্গে অনেক গল্প করলাম।। মেয়েটা অনেক রাত জেগে গান শুনে। আমি ওজু করে নামাজ পড়ছি দেখেই মিউজিক বন্ধ করে দেয়। প্রায় ৪ দিনে ওর সঙ্গে আমার খুব ভাল রিলেশন হয়ে গেল। ফাতানার বাবা মা ইটালি থাকে। তিন বোন দুই ভাই সবাই দেশের বাইরে। ফাতানা একাই কাবুলে থাকে। একটা ওম্যান স্টাইল টাইপ মাসিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক ফাতানা।

হোটেল সামিট

দুটো এডিশন পাবলিশ করেছে। কাবুলের পরিবেশ ফাতানার পছন্দ না। সে নিজের মত চলাফেরা করে। হুমকিতেও পড়তে হয়। সাংবাদিক নেতা সামান্দার রাহিম ওর ভাল বন্ধু। ফাতানার ওয়েল উইশার। ফাতানাকে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করলাম। পানিতে খুব ভয় পায়। শেখা হলো না শুধু পানি খেলো। মশার কামড়ে কয়েকটা লাল স্পট হল। চুলকায়। সাদা চামড়া ফুঁড়ে লাল রক্ত বেরুনোর উপক্রম। ডাক্তার কল করলো। ডলারে পেমেন্ট। আগের দিন বিকেলে ওকে নিয়ে শহরের পপুলার জায়গা থামেলে ঘুরে কেনাকাটা করলাম। দুপুর ১ টায় আমার ফ্লাইট। ফাতানার কাবুল ফ্লাইট সন্ধ্যায়। ১০-৩০ এ চেক আউট। শান্ত চোখে চেয়ে রইল কতক্ষন। একসঙ্গে নাস্তা খেয়ে ল্যাগেজ নিয়ে রিসিভশনে এগুলাম। পেছনে পেছনে ফাতানা। গাড়িতে উঠবো। ফাতানা জড়িয়ে ধরে রইল কিছুক্ষন। বাংলাদেশে ঘুরতে যেও। চোখে চোখ রাখতে পারল না। মন খারাপ করলো। আমি বিদায় জানিয়ে গাড়িতে উঠলাম। ফাতানা অনেক দেশ ঘুরে। ইটালি, তুরস্ক, জাপান, দিল্লির শপিংয়ের গল্প করল। আমার বিশ্বাস এবার হয়তো বাংলাদেশেও আসবে। you are most welcome dear.

ছবি: লেখক