নিউ ইয়র্কে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন

শিবব্রত দে চৌধুরী

আমার এক কিনারে নিমাই চাঁদ আরেক কিনারে শাহজালাল, নদির নামটি সুরমা আমার সিলেট জেলা নাম । পীর আউলিয়া , সাধু দরবেশ , বৈষ্ণব আর বাউলদের পদধুলায় ধন্য শ্রীভূমি- শ্রীহট্ট যা সকলের কাছে সিলেট নামে পরিচিত। এই সিলেটের কবিদের রচিত মাটির গান আজ সমগ্র বিশ্বের বাঙালীর কাছে বহুল সমাদৃত। হাছন রাজা, আব্দুল করিম শাহ ,দুরবিন শাহ ও রাধারমন দত্তের গান শুধু নিছক গানই নয় , আধ্যাত্মিক ভাবনায় রচিত এসব গানে রয়েছে জীবন দর্শন , সহজ সরল কথা আর গানের মেঠো সুর মানুষের প্রাণ ছুঁয়ে যায়। সিলেট অঞ্চলের কথা ও মেঠো সুরের এই রত্ন ভান্ডার কে যারা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁদের মাঝে হেমাঙ্গ বিশ্বাস , নির্মলেন্দু চৌধুরী , বিদিতলাল দাস, রামকানাই দাস এবং কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যর নাম অগ্রগন্য। সিলেটের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেবার প্রয়াসে এবং পারস্পরিক সৌহার্দতা বিনিময়ের উদ্যেশে নিউ ইয়র্কের ইয়র্ক কলেজের সুবিশাল প্রাঙ্গনে  ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ হয়ে গেলো বিশ্ব সিলেট সম্মেলন। আয় প্রাণের মাঝে আয় , প্রাণের এই আকুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা সিলেটিদের পদচারণায় মুখরিত ছিল এ মহামিলন মেলা। সেমিনার , প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনী , আলোচনা সভা, আর নাচে গানে জমজমাট ছিল দুদিনের এই সম্মেলন। সাহিত্য , সংস্কৃতি, অর্থনীতি সাংবাদিকতা এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রভৃতি বিষয়ে সিলেটি দের অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন ছিল কলেজের বিভিন্ন কক্ষে । এই সকল আলোচনা সভায় সম্মেলনে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ গ্রহন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত মাঠে সবুজে মোড়ানো এক মনোরম পরিবেশে। যুক্তরাষ্ট্র , যুক্তরাজ্য, কানাডা ,ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত সিলেটি এবং সিলেটি বংশদ্ভুত জনপ্রিয় শিল্পীরা এতে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। রূপঙ্কর বাগচী, সুবির নন্দী, হিমাংশু গোস্বামী , তাজুল ইমাম, শুভ্রদেব, গৌরি চৌধুরী, শান্তিনীল ধর, সেঁজুতি দে, শাহ মাহবুব , সোনালী আচার্য্য, কাবেরী দাশ, পিয়ালী দে, চন্দ্রীমা দে, মৌমিতা দে , দীপ্তা চৌধুরী , পম্পা চৌধুরী, মধুমিতা গুপ্ত , মুক্তা ধর সহ আরো অনেকে দুদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। রিনি দাশগুপ্তের পরিচালনায় ছোট্ট সোনামনিদের নৃত্য সকলের মন কেড়ে নেয়। ইয়র্ক কলেজের প্রবেশদ্বারের কাছেই তৈরী হয়েছিল প্রখ্যাত আমজাদ আলীর ঘড়ির বিশাল প্রতিকৃতি। এই প্রতিকৃতির কাছে দাঁড়িয়ে ক্ষনিকের জন্য হলেও থমকে যেতে হয়েছিল আগত অতিথিদের। কালের সাক্ষি – আমজাদ আলীর ঘড়ির এই প্রতিকৃতি যেনো ফেলে আসা অতীতকেই আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল সকলের মাঝে! নিউ ইয়র্কের জালাবাদ এসোসিয়েশন কর্তৃক বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের বর্ণাঢ্য এই আয়োজন সকলের কাছেই সমপ্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরনা হয়ে রইবে।

ছবি: লেখক