আইফোন এক্স

মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের সদরদপ্তরের স্টিভ জবস থিয়েটারে তাদের  আইফোনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাজারে এনেছে আইফোন এক্স। অ্যাপলের ১০ বছর পূর্তি স্মরণীয় করে রাখতেই সম্ভবত ফোনটির নাম ‘এক্স’, অর্থাৎ রোমান সংখ্যায় ১০।

আইফোন এক্স-এর দাম শুরু হয়েছে ৯৯৯ মার্কিন ডলার থেকে৷ আইফোন এইট-এর ৬৪ গিগা বাইট মডেলের দাম ৬৯৯ মার্কিন ডলার রাখা হয়েছে৷ আর এইট প্লাসের ৬৪ গিগাবাইট ফোনের জন্য আপনাকে গুণতে হবে ৭৯৯ মার্কিন ডলার৷

হোম বাটন
আইফোন এক্স-এ কোনো হোম বাটন নেই৷ স্ক্রিনের নীচ থেকে উপরে স্পর্শ করলে হোম বাটন দেখা যায়৷ ফেস রিকগনিশন বা চেহারা দেখে ফোন আনলক করার সিস্টেম আছে৷ এমনকি অন্ধকারেও ফোনের ইনফ্রারেড ক্যামেরা ছবি দেখে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার পর ফোন আনলক হবে৷ এতে পাসওয়ার্ড দেয়ার সুবিধাও আছে৷

পুরোপুরি গ্লাস এবং স্টেইনলেস স্টিল বডি
অ্যাপল আইফোন এক্স পুরোপুরি গ্লাস এবং স্টেইনলেস স্টিলের বডিসহ এসেছে। সবচেয়ে টেকসই গ্লাস এতে লাগানো হয়েছে বলে দাবি করেছে অ্যাপল। যাকে ঘিরে আছে অত্যন্ত মসৃণ সার্জিকাল গ্রেডের স্টেইনলেস স্টিলের ব্যান্ড। রয়েছে সাত স্তরের কালার প্রসেসিং এবং একটি রিফ্লেকটিভ অপটিকাল লেয়ার। আর স্ক্রিনটি ধুলো-ময়লা এবং পানিনিরোধকও বটে। ফলে ডিজাইনটি যেমন টেকসই তেমনই অসাধারণ অভিজাতও হয়েছে।

ওএলইডি ডিসপ্লে
১২ সেপ্টেম্বর তিনটি নতুন আইফোন বাজারে ছেড়েছে- আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন এক্স। এর মধ্যে শুধু আইফোন এক্স এর ডিসপ্লেটাই ৫.৮ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে। এর রেজ্যুলেশনও অ্যাপলের ফোনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ- ২৪৩৬x১১২৫ পিক্সেল।

প্রতি ইঞ্চিতে এর ঘনত্ব ৪৫৮ পিক্সেল (পিপিআই)। অ্যাপল এর নাম দিয়েছে সুপার রেটিনা ডিসপ্লে। এই হাই ডেফিনেশন (এইচডিআর) ডিসপ্লেতে আরো আছে ডলবি ভিশন এবং এইচডিআর১০।

উন্নত বৈশিষ্ট্য
আইফোন এইট এবং এইট প্লাসে যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা সেভেন এবং সেভেন প্লাসের চেয়ে উন্নত৷ এই স্মার্টফোন রূপালি, সোনালি এবং ধূসর রঙে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে৷

ফিচার
আইফোন এইট এবং এইট প্লাস দু’টোতেই ওয়ারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে৷ আইফোন এইট-এর স্ক্রিনের আকার ৪ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এইট প্লাসের ডিসপ্লে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি৷ দু’টো ফোনেই ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে৷

ফেস আইডি
পাসওয়ার্ড/পিনের পর এসেছিল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, এবার অ্যাপল নিয়ে এসেছে ফেস আইডি প্রোটেকশন। ব্যবহারকারীর মুখ দেখে আনলক হবে ফোন, আর এই কাজটি করবে ফ্রন্ট ক্যামেরা আর তার সঙ্গে থাকা সেন্সরগুলো। তবে অপটিক এলইডি ডিসপ্লে’র নীচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার রাখতে পারতো অ্যাপল- এমনটাও বলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ফেস আইডি কতটা সিকিউরিটি দেবে ইউজারকে, বা এটা কতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে সেড়া আইফোন এক্স বাজারে এলেই বলা যাবে।

ইমোজি
ইমোজিকে প্রাণ দিচ্ছে আইফোন। আপনি যেভাবে কথা বলবেন, আপনার নির্দিষ্ট করা ইমোজিও একই ভঙ্গিতে কথা বলবে। শুধু তা-ই নয়, আপনি রাগ হলে, ইমোজিও রাগ হবে। খুশি হলে খুশি। ইমোজি এখন শুধু স্থির আইকন থাকছে না। বেশ মজার হয়ে উঠছে।

ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফি
আইফোন বিশেষভাবে জনপ্রিয় এর ক্যামেরা ও আলোকচিত্র প্রযুক্তির কারণে। এখন এটি আরও উন্নত ও আধুনিক হয়ে উঠছে। বিশেষ সুবিধার মধ্যে থাকছে আলো নিয়ন্ত্রণ। একদম স্টুডিও লাইটিংয়ের সব সুবিধা থাকবে আইফোনে। ফ্রন্ট ও ব্যাক ক্যামেরা দুটিতেই থাকছে পোর্ট্রেট সুবিধা। পেছনের ডুয়াল ক্যামেরা হয়ে উঠছে অনেক বেশি আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়। ছবি তোলার আগে অবজেক্টের মোশন ও অবস্থা বুঝে আইফোন ছবি তুলবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা পেশাদার আলোকচিত্রীদের মতো ছবি তুলতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, ক্যামেরায় ব্যবহার করা হচ্ছে অগমেন্টেড রিয়্যালিটি। বন্ধুদের আড্ডার ছবি বা ভিডিও তোলার সময় ওর মধ্যেই আপনি নামিয়ে দিতে পারবেন ধম ধম শব্দ করে হেঁটে চলা ডাইনোসর! এসব প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের নির্মাতা করে তুলতেও সাহায্য করবে।

অ্যাপলের সিইও টিম কুক বলেছেন, এই আইফোনটি স্মার্টফোনের জগতে আরেকটি নতুন যুগের সূচনা করবে যেমন করে ১০ বছর আগে প্রথম আইফোন একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিল। বহু-প্রতীক্ষিত এই আইফোন এক্স। সংস্থার তরফে দাবি, এই এক্স মডেলটি এখন পর্যন্ত আইফোন মডেলের শ্রেষ্ঠ।

ওয়ারেন্টি সহ ১০ নভেম্বর থেকে পাওয়া যাবে অ্যাকুয়া গ্যাজেটে (https://www.facebook.com/aquagadget).

সাইফ তনয় (টেক ব্লগার)
ছবিঃ গুগল