গানে গানে রেজওয়ানের পথ চলা

ফয়েজ আহমেদ: তরুণ সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ান আহমেদ।সকাল-সন্ধ্যা গান নিয়েই ভাবতেই ভালোবাসেন।পুরানো ঢাকার কাপ্তান বাজার এলাকায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশবের বেশিভাগ সময় কেটেছে উত্তর শাহজানপুর রেলওয়ে কলোনিতে। পড়েছেন হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। ওই সময়টাতেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় এবং গল্পেরচ্ছলেই ভালোবেসে ফেলেন গানকে। বন্ধুরা মিলে একটি ব্যান্ড করার প্রবল ইচ্ছাও ছিল তাদের। কিন্তু কেমন করে? স্কুল পড়ুয়া ক’জনের পক্ষে তখন ব্যান্ড করার সামর্থ্য কোথায়?পরবর্তীতে স্কুলের পাট চুকিয়ে ভর্তি হন বিএএফ শাহীন কলেজে।তাদের  স্কুলের বন্ধুদের অনেকেই তখন ওই কলেজে ভর্তি হয়। ব্যান্ড করার সুপ্ত ইচ্ছেটা তখন  তোড়জোড়ে শুরু হলো।বিভিন্ন বন্ধুর বাসার ছাদে  তখন  সবাই মিলে গলা ছেড়ে  গান গাইতেন। কলেজের যে কোন অনুষ্ঠানেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল।এভাবেই  আড্ডা,গল্প আর গানে তারা গড়ে তুলেন ‘এবং’ নামের একটি ব্যান্ড। এভাবেই তাদের পথ চলা শুরু। রেজওয়ান শৈশবে গান শিখেছেন ওস্তাদ নিয়াজ মোর্শেদ খানের  কাছে। তবে তাঁর কাছে খুব বেশিদিন শিখতে পারেননি। তারপর তিনি সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের কাছে গান শিখতে শুরু করেন এবং এখন পযর্ন্ত শিখছেন।

ইতিমধ্যে ‘আমাদের ডায়েরি’  নামের একটি মিশ্র অ্যালবামে রেজওয়ান দুটি গান করেছেন। একটির শিরোনাম ‘জানালায়’  এবং অপরটি ‘যখন দেখি’। অ্যালবামটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়ে। এখন রেজওয়ান যেমন ষ্টেজ শো করেন, তেমনি মিউজিক্যাল ক্যাফেতেও গান করেন।তবে নতুন খবর হলো , ছোটবেলা থেকেই রেজওয়ান স্বপ্ন দেখতেন বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে একটি দ্বৈত অ্যালবামে গান করার। সেই স্বপ্নটি এবার পূরণ হওয়ার পথে। অতি শিগগির বাপ্পার সঙ্গে তার একটি গানের অ্যালবাম রিলিজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে রেজওয়ান গাইবেন পাঁচটি গান এবং বাপ্পা মজুমদার গাইবেন পাঁচটি গান।

অনেকেই দাবি করেন পুরনো দিনের গানে প্রাণ খুঁজে পাওযা যায়, গান শুনলে স্বস্তি লাগে। বর্তমান সঙ্গীতশিল্পীদের গান শুনে সেই স্বস্তিটুকু পাওয়া যায় না। এর কারণ কি? রেজওয়ান বলেন, এখনকার গানের মিউজিক শিল্পীর কণ্ঠ ছাপিয়ে যায় ।ফলে গানের কথাগুলো প্রাণ পায় না। কথা এবং সুর যদি সাবলীল না হয় সে গান কখনই মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে না। পুরনো দিনের কালজয়ী গানগুলোর কথা এবং সুরের কারণেই এখনও সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে আছে। কোথাও ওই গানগুলো বাজতে শুনলে মানুষ গুনগুন করে গাইতে থাকে।তাছাড়া আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যখন অন্য দেশের সংস্কৃতি মিলিয়ে ফিউশন করতে গিয়ে যদি সেটা ঠিকঠাক না হয় তখন একটা জগাখিচুড়ি তৈরী হয় এবং তখন দু’টা মিলেমিশে গানটি আর আমাদের প্রাণের জায়গায় থাকে না,বিছিন্ন হয়ে পড়ে।তাই হয়তো এখনকার গান আর আগের মতো আবেদন রাখতে পারে না।এদিকগুলো নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।

গানের কথা এবং সুর প্রসঙ্গ আসাতে জানতে চাইলাম, গীতিকার এবং সুরকাররা প্রায়ই দাবি করেন আপনারা যখন কোন স্টেজ বা টিভি অনুষ্ঠানে গান করেন তখন তাদের নাম পর্যন্ত বলেন না, এমনটা কেন হয়?  রেজওয়ান বললেন, সব শিল্পীরা তা করেন না। অনেক শিল্পীই আছেন যারা গান গাওয়ার আগে গীতিকার, সুরকার ও যিনি সঙ্গীতায়োজন করেছেন তাদের নাম বলে নেন। যদি এই কাজটি না করা হয় তবে একজন গীতিকার এবং সুরকারের জন্য সত্যি দুঃখজনক বিষয়। স্টেজ বা টিভি অনুষ্ঠানে যখন কোন শিল্পী গান করেন তখন শিল্পী একটা সম্মানী পেয়ে থাকেন। কিন্তু গীতিকার বা সুরকার সেক্ষেত্রে কোন সম্মানী পান না। শিল্পীরা যদি তাদের নামটুকুও বলে নেন এতে তারা অন্তত মানসিক ভাবে তাদের সম্মানীটা পেয়ে যান।আর শুধু একজন শিল্পী তো আর গানকে  বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন না এখানে গীতিকার ও সুরকারের অনেক দায়িত্ব আছে ।সুতরাং তাদের বাদ দিয়ে গান করা সম্ভব নয়। অনেকে এ বিষয়টা ভুলে যান। জনপ্রিয়তার পাওয়ার জন্য,ইউটিউবে ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য এখন সবাই  ব্যস্ত।তবে গানকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের উচিত গান নিয়ে পড়াশুনা করা, গানকে অন্তরে আতস্থ করা।সর্বোপরি বিনয়ী হওয়া এবং যার যার প্রাপ্ত সম্মানটুকু তাকে দেয়া।