আইফোন ১০, নাকি আইফোন ৮

সম্প্রতি নতুন তিন মডেলের আইফোন প্রকাশ করেছে অ্যাপল। এগুলো হচ্ছে আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস, এবং আইফোন ১০। ফোনগুলোর সর্বনিম্ন দাম হচ্ছে যথাক্রমে ৬৯৯ ডলার, ৭৯৯ ডলার এবং ৯৯৯ ডলার। তো, এগুলোর মধ্যে আপনার কোনটি কেনা উচিত? তা নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক হিসেব মেলাচ্ছেন? একটা কিনলে আরেকটা মিস হয়ে যাবে, তাইনা? তার ওপর দামের পার্থক্য তো রয়েছেই। যাইহোক, আর চিন্তার কারণ নেই- এই পোস্টটি পড়লে আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যে আপনার আসলে কোন আইফোনটি কেনা উচিত। চলুন ফোনগুলোর প্রধান বিষয়গুলো দেখে নেয়া যাক।

স্ক্রিন
আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাসে রয়েছে যথাক্রমে ৪.৭ ইঞ্চি এবং ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন। অপরদিকে আইফোন ১০ এ আছে ৫.৮ ইঞ্চি স্ক্রিন, যা ফোনটির পুরো সামনের দিকটা জুড়ে আছে। আইফোন ১০ এর স্ক্রিনের মান অন্য যেকোনো পূর্ববর্তী মডেলের আইফোনের চেয়ে ভাল। শুধুমাত্র ডিসপ্লের কথা ভাবলে আইফোন ১০ হবে আপনার প্রথম পছন্দ। এটি হাতের মধ্যে ভালোভাবেই ফিট হয়।

প্রসেসর
আইফোন ৮, ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ (আইফোন এক্স)- এই তিনটি ডিভাইসই অ্যাপলের নতুন এ১১ বায়োনিক চিপ ও এম১১ মোশন কো-প্রসেসর ব্যবহার করে চলে। সুতরাং এদের তিনটি ফোনেরই সমান প্রসেসিং ক্ষমতা আছে বলে ধরে নিতে পারেন। তবে আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে এ১১ চিপের সবগুলো ফিচার ব্যবহৃত হয়না।

নিরাপত্তা
আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে লক/আনলকের জন্য টাচ আইডি (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু আইফোন ১০ (আইফোন X) এ কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই। এতে আছে ফেইস আইডি, যা ব্যবহারকারীর মুখমণ্ডল স্ক্যান করে ফোন আনলক করতে পারে। আপনি যদি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের ভক্ত হয়ে থাকেন, তবে আইফোন ১০ আপনাকে কিছুটা হতাশ করবে। যদিও, ফেইস আইডি আরও উপভোগ্য ও সহজ হওয়ার কথা। আইফোন ৮ বা ৮ প্লাসে ফেইস আইডি নেই।

ক্যামেরা
আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে রয়েছে ৭ মেগাপিক্সেল ফুল এইচডি ফ্রন্ট ক্যামেরা। আইফোন ৮ এ পেছনের দিকে একটি ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে, অপরদিকে ৮ প্লাসের পেছনে দুটি ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে। উভয় ফোনেই মূল ক্যামেরায় আছে ডুয়াল টোন কোয়াড এলইডি ফ্ল্যাশ। তবে আইফোন ১০ এর পেছনের দিকের দুটি ক্যামেরায়ই অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন ফিচার আছে, যা শুধু আইফোন ৮ প্লাসের পেছনের একটি ক্যামেরা লেন্সে (ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে) আছে।
অপরদিকে ফ্রন্ট ক্যামেরার ক্ষেত্রে ব্যাসিক ফিচার এই তিনটি ফোনের জন্যই সমান হলেও আইফোন ১০ এ কিছু চমৎকার স্বতন্ত্র সুবিধা আছে যেমন- ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে ফেলা, ব্যাকগ্রাউন্ড লাইট অ্যাডজাস্ট করা এবং অ্যানিমেটেড ইমোজি তৈরি করা।

অগমেন্টেড রিয়েলিটি
আইফোন ৮, ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ এ নতুন বায়োনিক চিপসেটের কারণে অগমেন্টেড রিয়েলিটি উপভোগ করতে পারবেন। এটা আপনাকে বাস্তবের সাথে চমৎকার সব ভার্চুয়াল বিষয়বস্তু যুক্ত করার সুবিধা দেবে। আরও পাবেন চমৎকার সব গেমস ইফেক্ট।

ওয়্যারলেস চার্জিং
আইফোন ৮, ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ এই তিনটি ফোনেই ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা আছে। তবে ওয়্যারলেস চার্জার আপনার আলাদাভাবে কিনে নিতে হবে, যার দাম মোটামুটি ৫০ ডলারের মত পড়বে।

হেডফোন জ্যাক
আইফোন ৮, ৮ প্লাস এবং আইফোন ১০ ফোনগুলোর কোনোটিতেই বহুল ব্যবহৃত ৩.৫মিমি হেডফোন জ্যাক নেই। ফলে আপনাকে এর সাথে দেয়া বিশেষ হেডফোন ব্যবহার করতে হবে, অথবা সাধারণ হেডফোনের সাথে কনভার্টার ব্যবহার করতে হবে কিংবা ব্লুটুথ হেডফোন কিনতে হবে।

দাম
যদিও একবার দামের কথা বলেছি, আবারও বলি। আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসের ৬৪জিবি ও ২৫৬জিবি ভ্যারিয়েশন পাবেন। আইফোন ৮ এর দাম শুরু হবে ৬৯৯ ডলার থেকে এবং আইফোন ৮ প্লাসের দাম শুরু হবে ৭৯৯ ডলার থেকে। ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে প্রিঅর্ডার নেয়া, এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে হাতে পেতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। উভয় ফোনের ২৫৬জিবি ভ্যারিয়েশনের দাম যথাক্রমে ৮৪৯ এবং ৯৪৯ ডলার।

আইফোন ১০ এর ৬৪জিবি ভ্যারিয়েশনের দাম হবে ৯৯৯ ডলার, এবং ২৫৬জিবি ভ্যারিয়েশনের দাম হবে ১১৪৯ ডলার। আইফোন এক্স (আইফোন ১০) এর প্রিঅর্ডার নেয়া শুরু হবে অক্টোবর ২৭ থেকে, এবং শিপমেন্ট শুরু হবে নভেম্বরের ৩ তারিখ। আশা করি উপরের পয়েন্টগুলো বিবেচনা করলে আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে যে আপনি কোন আইফোন মডেলটি কিনবেন। আর যদি নতুন মডেলগুলো না কিনতে চান, সেক্ষেত্রে আইফোন ৭ কিনতে পারেন। আইফোন ৭ এর সর্বনিম্ন দাম ৫৪৯ ডলার, আর আইফোন ৭ প্লাসের দাম শুরু ৬৬৯ ডলার থেকে। আইফোন ৬এস এর সর্বনিম্ন দাম ৪৪৯ ডলার, আইফোন ৬এস প্লাসের দাম ৫৪৯ ডলার থেকে শুরু।

তো আপনি কোনটি কিনছেন?

ওয়ারেন্টি সহ ৫ই নভেম্বর থেকে পাওয়া যাবে অ্যাকুয়া গ্যাজেটে (https://www.facebook.com/aquagadget).

সাইফ তনয় (টেক ব্লগার)
ছবিঃ গুগল