কারো বিশ্বাসে আঘাত করার আগে ভেবে নিও…

রুমা মোদক

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আমার ছোটপিসির বিয়ে হয়েছিলো গ্রামে। ২০০১ এর নির্বাচনের পর যদিও তারা সে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন,সে অন্য গল্প।
পিসির বিয়ের পর পিসির শশুর বাড়িটাই প্রথম আমাদের সত্যিকার অর্থে গ্রাম দেখা। যদিও পিসেমশায় চাকরি করতেন শহরে, থাকতেন গ্রামের বাড়িতেই। বিশাল বাড়ির সামনে পিছনে পুকুর। কামরাঙ্গা গাছে সবুজ টিয়েদের ঝাঁক, পেয়ারা গাছে কাঠবিড়ালির লাফঝাঁপ, অগ্রহায়ণ মাসে উঠোনে ধান মাড়াই আর গনগনে আগুনে ধানসেদ্ধ। পুকুরের জলে তীব্র শীতে জমাট বেঁধে থাকা কুয়াশার দল!

আমরা ছুটি ছাটায় প্রায়ই যেতাম পিসির বাড়িতে। পিসেমশায় পুকুর থেকে মাছ উঠাতেন। খাসি কিনে এনে বারান্দার পাল্লায় বেঁধে রাখতেন। আমাদের হুড়োহুড়ি লেগে যেতো কাঁঠাল পাতা সংগ্রহে।পিসেমশায়রা মুরগি খান না। এখনো এমন অনেক হিন্দু পরিবার থাকলেও, এখন বিবেচনা করে দেখি আমরা বড় হয়েছি বেশ একটা ব্রাহ্ম ব্রাহ্ম পরিবেশে। হিন্দুদের বেশ কিছু সংস্কার আমাদের পরিবারে ছিলো না। একই চুলায় রান্না হতো মুরগি আর কচ্ছপ। শুনেছি আমার দাদু বেঁচে থাকতে মুরগি খেলে স্নান করে ঘরে ঢুকতে হতো। আমরা ভাইবোনরা আর সে কালচার পাইনি। এটা সম্ভব হয়েছিলো আমার বাবার কারণে। অযৌক্তিক কোন নিয়ম তিনি নিজেও মানতেন না, পরিবারকে জোর করতেন না।

পিসেমশায় এর পরিবারে মুরগি খাওয়া বারণ। আর আমার কাকুদের যতো আগ্রহ পিসির বাড়িতে গিয়েই মুরগি খাওয়ায়।খাসি,মাছ যাই থাকুক, মুরগি খেতে হবে। গ্রামে তো আর মুরগির অভাব নেই। আনা হতো, রান্না হতো, খাওয়া হতো। খাওয়ার পর কামলা মুনিষদের সব পরিস্কার করতে হতো।

একবার পিসির বাড়ি থেকে ফিরলে বৃত্তান্ত শুনে বাবা এমন রাগ করলেন কাকাদের উপরে, সংগে সংগে বাজার থেকে একজোড়া মুরগি কিনে আনলেন। নিজের সামর্থ্যের কথা ভুলে রেগেমেগে বললেন, কতো মুরগি খেতে পারো দেখি, রোজ মুরগি খেতে হবে।
পিসেমশায়দের দীর্ঘদিনের আচরিত বিশ্বাসে আঘাত দেয়ার জন্য সেবার ভীষন রাগ করেছিলেন বাবা।
এই বাবার পরিবারে বড় হওয়া আমরা পরিবার থেকেই শিক্ষা পেয়ে বড় হয়েছি,নিজে যাই বিশ্বাস করিনা কেনো, যে কোনো বাদ-বিবাদ, আস্তিক- নাস্তিক ইত্যাদি কারো বিশ্বাসে আঘাত করার আগে শতবার ভেবে দেখি  এবং সবার তাই ভাবা উচিত।