Me too

পুরুষের হাতে যৌন নিপীড়ন অথবা হয়রানির শিকার নারীরা বিশ্বজুড়ে তাদের আড়ালে থাকা সেই অন্ধকার সময়ের কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বেছে নিয়েছেন দুটি শব্দ, ‘Me too’ অর্থাৎ আমিও। আমেরিকা, ইউরোপ হয়ে এই শব্দ দুটি ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।গোটা দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই দুটি শব্দ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

তারানা বুরকি

সিএনএন জানিয়েছে, গত রোববার দুপুর থেকে এই হ্যাশট্যাগটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ব্যবহৃত হয়েছে ৮ লক্ষ ২৫ হাজার বার। টুইটারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২৪ ঘন্টার কম সময়ের মধ্যে পৃথিবী জুড়ে ৪ দশমিক সাত মিলিয়ন মানুষ ‘ Me too’ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে। তাদের সাইটে প্রায় ১২ মিলিয়ন পোস্ট, কমেন্ট ও রিঅ্যাকশন জমা হয়েছে। ফেইসবুক জানিয়েছে আমেরিকার শতকরা ৪৫ ভাগ মানুষ এই দুটি শব্দ দিয়ে মেসেজ করেছে।

হঠাৎ করেই এতো মানুষ বিশেষ করে নারীরা কেন এই শব্দ দুটি এতোবার ব্যবহার করছে? সম্প্রতি হলিউডের মুভি মুগল হারভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ খোদ সেই অভিনেত্রীরাই গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করলেই এই ‘মি টু’ এক ধরণের আন্দোলনের অবয়ব ধারণ করে।

হলিউডে ওয়েনস্টেইনের যৌন নিপীড়নের শিকার অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো টুইট করে এ ধরণের ঘটনার শিকার মেয়েদের প্রকাশ্যে আসার আহ্বান জানালে গোটা বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কিন্তু সিএনএন-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে দশ বছর আগে আমেরিকার কৃষ্ঞাঙ্গ মহিলা অ্যাক্টেভিস্ট তারানা বুরকির হাত ধরেই এই ‘Me too’ আন্দোলনের সূচনা। বুরকি সিএনএনকে বলেন, ‘‘এই বিষয়টি আমার কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার মতো সহজ নয়। এটা আমার কাছে একটি আন্দোলন।’’

দশ বছর আগে বুরকি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে লিঙ্গ সমতার ওপর একটি কাজ করা একটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন। সেখানেই একদিন এক কিশোরী তার ছেলে বন্ধুর হাতে নিপীড়নের করুণ কাহিনী তাতে জানায়। মেয়েটির করুণ কাহিনী শুনে সেদিন বুরকির মনে হয়েছিল ‘ Me too’। আমারও এমন গল্প আছে। বুরকি মনে করেন, এরকম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বহু মেয়ে। তাদের নিয়ে দশ বছর ধরে বুরকি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের মূল কথাই হচ্ছে, ‘কেউ একা নয়, কেউ লজ্জিত নয়’ বুরকি মেয়েদের কাছে একটি বার্তাই পৌঁছে দিতে চান যে পৃথিবীতে এমন ঘটনার শিকার মেয়েরা সবাই মানসিক ভাবে একসঙ্গে আছে, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছে।

বুরকি মনে করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই চিন্তা এতো বছর পর এভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি আনন্দিত। তবে তার কাছে ভাইরাল হওয়ার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই চেতনাকে একটি প্রকৃত আন্দোলনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তৈরী করা প্রতিরোধ।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ সিএনএন নিউজ
ছবিঃ গুগল