মনের মধ্যে আপনি সারাক্ষণ জন ওয়েন, ক্লিন্ট ইস্টউড

লুৎফুল হোসেন

স্বপ্নের ভেতর ইচ্ছের ঘোড়ার গায়ে যখন তখন পাখা পর্যন্ত গজিয়ে যায়। আর সেই ঘোড়া কেবল দৌড়ে -ঝাঁপিয়ে চলে না, মন চায় তো অনায়াসে সেই পংখীরাজ যে কোনো গন্তব্যে দেয় দিব্যি উড়াল।

আর বাস্তবে? জীবন ভর হাঁটলেন কেবল পাশাপাশি। সেই ইচ্ছে ঘোড়ায় লাগাম, জিন কিছু পরাতেও শেখেন নি। চড়তে শেখাটাও খুব বেশী কঠিন ছিলো কি রপ্ত করে নেয়া? অথচ পাশে হেঁটে চোখ বুজেই একটা জীবন পার!

মনের মধ্যে আপনি সারাক্ষণ জন ওয়েন, ক্লিন্ট ইস্টউড কিংবা ইথলিন ক্লেয়ার, কেটি জুরাডো . . . স্বপ্নের নায়ক কিংবা নায়িকা। আরে ওসব তো রূপালী পর্দার বানোয়াট ঝাঁপাঝাপি। আদতে জিন না চাপিয়ে অমন ঘোড়া ওরা ছোটায় নাকি?রোশো রোশো…একটু বসো। নিজের মনটাকে তো আগে বোঝো। কতটুকু জল, কতোটা আকাশ তোমার ভালো লাগে সেটা জানো। বুক পকেটে পুরতে চাও পোরো। আকাশটাকে তো পারবে না, যতোটুকু মেঘ আঁটাতে পারো অতোটুকুই ভরো। বৃষ্টি জল হয়ে কোনো দিন তা গড়িয়ে গেলে আবার না হয় এক মুঠো পুরে নিও।

হায়!তা কি আর হয়?তোমার মন কেবল চিৎকার করে গলা ফাটাতে চায়…সুচিত্রা-উত্তম ভালো লেগেছিল কোনো কালে ! তাই ওখানেই থেমে থাকবো নাকি! লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও – কেট উইন্সলেট কি ভালো লাগতে পারে না আর আমার? কিংবা জনি ডেপ- মনিকা বেলুচ্চি? সালমা হায়েক আর রিচার্ড গিয়ার বাদ যাবে! চেহারাখানা আদৌ ভাল করে না দেখা নীল শাড়ী পরিহিতাকে অকস্মাৎ ভালো লাগতেই পারে। অচেনা পুরুষের স্রেফ গলাটা শুনেই প্রেমে পড়ার ইচ্ছে মনে জাগতেই পারে।পৃথিবীর সব কিছুই তো বদলায়। দোষ শুধু ওই বেচারা মনটারই কেবল। তাহলে সব শাস্তি তো তারই প্রাপ্য, নাকি!

তাহলে এতো যুক্তি তর্কে মেতে লাভ কি আর? জানি আপনার মনের মধ্যে তখনো নানান যুক্তি তর্কের ঝড় অগ্নুৎপাত-এর মতোন বেরিয়ে আসতে চাইছে। আবার অন্য দিকে অন্তর্গত আরেক স্বত্ত্বা হাস-ফাস দম আটকে মরছে।ওটুকু স্রেফ স্রেফ স্রেফ একান্ত আপনার। ওকে কি আপনি গলা টিপে মারবেন? নাকি মরফিনে ডোবাবেন, তন্দুরীর কয়লায় ঝোলাবেন তা একেবারে একান্তই আপনার ইচ্ছে…

সেই যে ঘোড়া দিয়ে শুরু করলাম। তাকে চাইলে এবার বাঘ, ভালুক, বানর, হনুমান যা খুশী বানিয়ে নিন। না কাউকে বলতে হবে না এর কিয়দ গল্প কিংবা ফিরিস্তি।খুব বেশী ভুল ভাল হলে পরজন্মে নাহয় শুধরে নেবেন।

সেই পরজন্মের জন্য তিন উল্লাস। (চলবে)

ছবিঃ গুগল