বাংলাদেশের ক্রিকেটে অশনি সংকেতঃ মাশরাফি

আহসান শামীমঃ ক্যারিয়ারে এর আগে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলে মাশরাফি উইকেটশুন্য ছিলেন মোট একবার। সেটা ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে। সেবার ওভারপ্রতি মাত্র চার রান করে দিয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। এবারও উইকেটশুন্য মাশরাফি।এই প্রথম তিন ম্যাচের সিরিজে রান খরচ করেছেন  তিনি ২০১ । আর ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৭.২২ রান। পারফর্মেন্সের বিচারে এটাই দুঃস্বপ্নের সিরিজ হয়ে থাকলো মাশরাফির জন্য। ম্যাচের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দায় স্বীকারও করে নিলেন তা। অবশ্য উইকেট পেতে পারতেন তিনি।তাঁর বলেই সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন নাসির হোসেন ও ইমরুল কায়েস। মাশরাফির ভাষায় এসব ‘দুর্ভাগ্য’। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং তিন বিভাগেই বিবর্ণ পারফর্মেন্সের দায় অধিনায়ক স্বীকার  করেন।

শুধু এই ম্যাচেই নয় মাশরাফি গোটা সিরিজের পারফর্মেন্স নিয়েই চরমভাবে হতাশ।সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন,”ওদের সঙ্গে তুলনা করলে সব জায়গায় আমরা পিছিয়ে ছিলাম। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারিনি। খুব বাজেভাবে ম্যাচগুলো হেরেছি। এটা আমাদের খুবই শিক্ষণীয় হলো। যদিও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে এটা হয়ে আসছে। এ বিষয়গুলো ঠিক না করলে সামনের সিরিজ অথবা টুর্নামেন্টে ভালো করা কঠিন হয়ে যাবে। আমার কাছে মনে হয়, এই যে সময়টা গেল এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই বিপদসংকেত। এ থেকে খেলোয়াড়দের শিক্ষা নিতে হবে।’

ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটা ছিলো শ্রীলঙ্কার। ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেয়া ২৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলো অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন লঙ্কানরা।

শেষ ওয়ানডের ভেন্যু বাফেলো পার্কের উইকেট শুরুতে ব্যাটিং সহায়ক থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সময় তা কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ভেন্যু ম্যানেজার। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘এখানে ২৬০ অথবা ২৭০ একটা ভালো স্কোর হতে পারে।’ সেরকম ভেন্যুতে টস জিতি প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় কোন চিন্তা না করেই ব্যাটিং এর সিদ্ধান্তে নেয়। আর ব্যাট হাত বাংলাদেশের বাজে বোলিং আর ফিল্ডিং এ প্রোয়িয়াদের ৩৬৯ রানের নতুন রেকর্ড তৈরী হলো,ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটাতে জয় পেতে হলে অভূতপূর্ব একটা রেকর্ডই গড়তে হতো মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশ দলকে।এই মাঠে তিন’শ রান তাড়া করে কোন জয়ের রেকর্ড এখনও তৈরি হয়নি।

বিদেশের মাটিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের জন্য অশনী সংকেত দিচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপ।যদিও একটা দিক দিয়ে এখনো এগিয়ে আছে বাংলাদেশ দল। সেটা হচ্ছে বিদেশের মাটিতে শেষ ১০ ওভারে সবচেয়ে কম রান দেওয়া দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য়। তালিকায়  ৬.৭৩ রানরেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান প্রথম। দ্বিতীয় ভারত রানরেট ৬.৯৯ । তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের রানরেট ৭.১৭।

ছবিঃ গুগল