‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’

মাহীতাজ খান: ‘মেইক ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ১৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’ আসর। বিগত বছরের মতো এবারের আয়োজনও সকল বয়সের প্রযুক্তিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছিলো। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এবারের আসরে ১৩২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি এবং উদ্যোগগুলো দশর্ণাথীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এবারের কম্পিউটার প্রযুক্তি যন্ত্রাংশ বা হার্ডওয়্যার খাতের এই আয়োজনকে মোট ১০টি জোনে ভাগ করা হয়। যেগুলো হচ্ছে-লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস, আইওটি ও ক্লাউড, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারারস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং ও হাই-টেক পার্ক। এবারের আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিলো মেলার দ্বিতীয় দিন। এই দিন মেলায় পেপালের জুম সেবার উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মেলা চলাকালীন সময়ে রাজধানী জুড়ে বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্বেও পুরো আয়োজনে ছিলো প্রযু্ক্তিপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য ও সেবার ধারণা নিতে যাত্রা পথের অনেক ভোগান্তি শেষে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে মেলায় হাজির হয়েছিলেন নানান বয়সের দর্শনার্থীরা। যদিও এবারের মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শণার্থীদের মন্তব্য ছিল মিশ্র। ঢাকা কলেজ-এর ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জাবেদ আহমেদ প্রাণের বাংলাকে বলেন, “আগামী দিনে হাতের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মধ্যে চলে আসবে পুরো প্রযুক্তি দুনিয়া। সেই লক্ষ্যে এখন থেকে আমাদের তরুনদের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আরো অনেক বেশি কাজ করতে হবে। আমি মনে করি আগামী বছর থেকে মেলায় অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হোক। সম্ভব হলে মেলায় তরুনদের জন্য বিনামূল্যে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।” অন্যদিকে মেলার শেষ দিন শুক্রবার দুপুরে ছোট বোন সুমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা লুবনা রহমান। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় ছোট ভাইকে নিয়ে মেলায় আসতে গিয়ে তাকে পড়তে হয়েছে বৃষ্টির বিড়ম্বনায়। প্রাণের বাংলাকে তিনি বলেন, “আজ (শুক্রবার) আইসিটি এক্সপোর শেষ দিন। গত দুইদিন অফিসের ব্যস্ততার কারণে মেলায় ছোট বোনকে নিয়ে আসতে পারিনি। কিন্তু আজ আসলেও বৃষ্টিতে ভিজে আসতে হয়েছে। আমি মনে করি এমন ধরনের মেলা আগামীতে একটু বেশি সময় ধরে আয়োজন করা হোক।” আর রাজধানীর এক বেসরকারী বিশ্বাবিদ্যালয়ে পড়ুয়া কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ১০ম সেমিস্টারের ছাত্রী ফাইরুজ আজরা প্রাণের বাংলাকে বলেন, “আমি মনে করি এমন ধরনের আয়োজন আরো বেশি করে করা উচিত। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট স্থানেই নয় বরং পুরো ঢাকা জুড়ে বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে এমন আয়োজন করা উচিত। তাহলে সকল শ্রেণির সকল বয়সের মানুষকে আরো বেশি তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে।” এবারের আসরে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, জাপানসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় অর্ধশত খ্যাতিমান বক্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি-ব্যক্তিত্ব এবং উৎপাদক ও উদ্যোক্তাগণও এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও মেলায় আগত দর্শণার্থীদের জন্য ছিলো ডিজিটাল সেবা, গেইমিং, সেলফি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে পুরো মেলা জুড়েই ছিলো সেলফিপ্রেমীদের এক অন্যরকম উপস্থিতি। বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যে সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলার প্রতি কমবেশি সকল বয়সীর দর্শণার্থীদের আগ্রহ ছিলো চোখে পড়ার মত। মেলার এবারের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে আইসিটি এক্সপো ২০১৭ এর আহ্বায়ক ও বিসিএস মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার প্রাণের বাংলাকে বলেন, “যে উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল তার অনেকটাই সফল হয়েছে। দেশীয় উদ্ভাবন ও বিভিন্ন হার্ডওয়্যার নিয়ে আমরা তরুণদের ধারণা দিতে চেয়েছি।” বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আয়োজনে এইবারের এক্সপোতে সহযোগী হিসেবে ছিলো তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিজ (সিসিএ)। এছাড়াও এবারের আয়োজনে যুক্ত ছিলো বেসিস, বাক্য, সিটিও ফোরাম, ই-ক্যাব ও বিআইজেএফ। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ উপভোগ করেছেন তথ্য প্রযুক্তিপ্রেমীরা। মেলার শেষ দিন অ্যাওয়ার্ড নাইটের মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনের পর্দা নামে।

ছবি: আসাদুজ্জামান লিমনের সৌজন্যে