বোলিং বিষের কাঁটা

টেস্ট সিরিজের মত ওয়ানডে সিরিজেও মলিন ছিল বাংলাদেশ দলের বোলাররা। টেস্ট সিরিজে প্রোটিয়ারা চার ইনিংসের মধ্যে ব্যাট করেছে মাত্র ৩ বার। তিন ইনিংসে প্রোটিয়াদের মাত্র ১৩ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছে বোলাররা।তিন ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের ৩০ উইকেটের মধ্যে মাত্র ১২ উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয়েছে মাশরাফির বাংলাদেশ।তিন ওয়ানডেতে মাশরাফিদের বিপক্ষে ১০০৪ রান করেছে ডু প্লেসিস বাহিনী।দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটা সফল রেকর্ড হলেও বাংলাদেশের জন্য সেটা লজ্জার। ওয়ানডে ইতিহাসে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১ হাজার রান হজম করা খুব বিরল ঘটনা। এর আগে মাত্র দুটো সিরিজে ঘটেছিল এমন ঘটনা। তিন ম্যাচের দুবারই ১০০০ এর উপর রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জিম্বাবুয়েকে হজম করতে হয়েছিল ১০২৩ রান।এই সিরিজের আগে টাইগার বোলাররা তিন ম্যাচের সিরিজে কখনো ৯০০ রানও হজম করেনি। ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সর্বোচ্চ ৮৬৩ রানের চাপ সহ্য করতে হয়েছিল তাদের।

চলতি বছরই ভারত এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজে দু’দলই প্রতি ম্যাচেই ৩০০-এর ঘর পার হওয়া স্কোর গড়েছে।সেই সিরিজে ইংলিশরা হজম করেছে ১০৫৩ রান। বিপরীতে ভারতীয় বোলারদের গুনতে হয়েছে ১০৩৭ রান। সিরিজটা ইংলিশরা ২-১ ব্যবধানে হারলেও রানের বন্যা বয়েছে সেখানে।বাংলাদেশ ছাড়া এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১০০০ এর উপরে রান দিয়েছে আরও ৩টা দল। এর মধ্যে আছে ভারত, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। 

টেষ্ট আর ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর  বাকী টি-টুয়েন্টি সিরিজ। আর এই সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলকে বেশ কিছু উপদেশ দিলেন সাউথ আফ্রিকার বোলিং কোচ ডোনাল্ড।ডোনাল্ড বলেন ,’সাফল্য পেতে হলে অবশ্যই মুখস্ত ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মাঠে আপনাদের সব সময় নতুন কিছু চিন্তা করতে হবে। বোলিং করতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে।’ডোনাল্ড আরো বলেন ,’জুটি কি করে ভাঙা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে থাকতাম। নিজেরা আলোচনা করতাম। আমি বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখিনি।’

 বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ আগামীকাল ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ব্লুমফন্টেইনে শুরু হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশকে খুব শক্তিশালীই মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ খুবই শক্তিশালী দল। কারন এই ফরম্যাটে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে ভালো করার জন্য। তাছাড়া ছোট ফরম্যাটে সবসময়ই অসাধারণ ক্রিকেট খেলে থাকে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দক্ষিন আফ্রিকার মাঠে বাংলাদেশের বিপর্যয় নিয়ে বাংলাদেশের সফরত পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনুস মনে করেন এতে হতাশ হওয়ার কিছু নাই।তাঁর মতে, ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।ওয়াকার বলেন, ‘দক্ষিন আফ্রিকার উইকেট সম্পর্কে সবার একটা ধারনা পেসারদের জন্য সেরা উইকেট ওটা।  কিন্তু বিষয়টা সেরকম না।সেখানে পেসারদের জন্য বোলিং করাটা খুব কষ্টসাধ্য ।’

উল্লেখ্য দক্ষিন আফ্রিকার মাঠে  খারাপ বল করায় ওয়াকার ইউনুসকে দলের অধিনায়কত্ব হারাতে হয়েছিল।

ছবিঃ গুগল