নারীবাদীরা শুনুন…

সৈয়দা মুনিয়া জামান

প্রিয় নারীবাদীগন,
ভেবে ছিলাম আমি আমার অধিকার নিয়ে কথা বলবো।কথা বলতে চেয়েছিলাম আমার সঙ্গে হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে।কিন্তু আপনাদের নিয়মে নয়,আমার নিয়মে।আমার নিয়মেই যদি আমার কথাগুলো বলি তাহলে সেটি আপনাদের কাছে গ্রহন যোগ্য হবেনা।আজকাল দেখছি আপনাদের নিজস্ব কিছু রুলস আছে।এর বাইরে গিয়ে যে-ই নারী অধিকার নিয়ে কথা বলবে,তার মতামতকে আপনারা ভন্ডামী বলে আখ্যা দেবেন।আমার জানার খুব বেশী আগ্রহ হচ্ছে আপনাদের নিয়মগুলো কোন কেতাবে নাযিল হয়েছিলো!!

যদি কোন বিশেষ কেতাবে আপনাদের রুলসগুলো নাযিল হয়ে না থাকে তবে কে নিয়মগুলো তৈরি করে প্রচার করতে চাইছেন??পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কিছু অযৌক্তিক নিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আপনারা জন ভেদে যে বিভিন্ন নিয়ম তৈরি করছেন, সেটি সমাজকে কতোটা সমতায় আনতে পারবে সেটা নিয়ে সর্বোচ্চ সন্দেহ রয়েছে।আমি সুর্নিষ্টভাবে এখনো বুঝে উঠতে পারলামনা আপনারা কোনটাকে অধিকার মনে করছেন,কোনটাকে দাসত্ব মনে করছেন,কোনটা চাইছেন,কি উপায়ে চায়ছেন??

উল্লেখযোগ্য যে নারীদের নাম আমরা সকলেই জানি তাদের চলন বলন চাওয়াতে যথেষ্ট যুক্তি ছিলো বলেই আজও সবাই তাদেরকে নারীমুক্তির অগ্রদূত বলে স্বীকার করে।কিন্তু আপনারা কেউ কারো যুক্তিতে একাগ্রতা প্রকাশ করেন কি?আপনারা সবাই বেগম রোকেয়া,সবাই সুফিয়া কামাল।কেউ কারো অনুগত্য স্বীকার করছেন না।এমন একটা পরিস্থিতি যে, সবাই সবার নিয়ম তৈরি করছেন।কেউ নিজের মতটাকে সেরা বলে দাবী করলে,তাকে আবার দল থেকে বাদ দিয়ে ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে কটুক্তি করে টেনে হিচড়ে নিচে নামাচ্ছেন।

কারো কারো কথা শুনেতো মনে হয় নারীবাদী হওয়ার প্রথম শর্ত কোন পুরুষের প্রতি অনুগত্য স্বীকার করা যাবেনা।কোন পুরুষকে নিয়ে ভালোবাসার কথা বলা যাবেনা।আবার কারো কারো কথা শুনে মনে হয়,পুরুষের ঘর সংসার যে করছে তার মুখে নারীবাদীর কথা শোভাই পায়না।তাহলেকি আপনারা সমকামিতা চাইছেন কিনা সাধারন মানুষকে সেটাই ভাবতে বাধ্য করছে।

ক’দিন আগে দেখলাম একজন বিশিষ্ট সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার নারী ফেইসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছেন।তার পোস্টের মুল বক্তব্যটা ছিলো:একজন মেয়ে রঙ চঙ মেখে কোন প্রডাক্ট নিয়ে যখন এ্যাড দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়,তখন তাকেও প্রডাক্ট ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারিনা।এখন আপুটিকে নাম ম্যানশন করে বলতে খুব ইচ্ছে করছে”আপু আপনি একটা চ্যানেলের হয়ে কিছু খবর নিয়ে যখন ক্যামেরার সামনে আসেন,আপনার মুখেও পর্যাপ্ত পরিমান রঙ চং মাখানো থাকে”।

আমি মনে করি প্রতিটি মানুষই তার যোগ্যতা এবং ভালো লাগা অনুযায়ী কর্ম খুঁজতে থাকে।এখন যে নারী যা-ই করুক আপনার হিংসে লাগলো বলে বা আপনার থেকে তাকে একটু সুন্দর বেশী দেখালো বলে আপনি যদি প্রচার করে বেড়ান,এটাও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষদের কাজ।ওরাই নারীকে প্রডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করছে।তাহলে নারী কি করলে আপনার শান্তি লাগবে একটু যদি বলতেন আমাদের একটু গতি হতো।

কথাহলো আপনি আপনার শরীর ঢাকবেন না খুলে রাখবেন সেটা সত্যিই আপনার ব্যাপার।কিন্তু আপনি যখন সেটি ঘরে না করে পাবলিক প্লেসে করবেন,তখন পাবলিক আপনাকে দেখবে নাকি দেখবেনা, গালি দিবে নাকি সাধু সাধু জানাবে সেটাও তবে পাবলিকের বিষয়।বোরখা পরার বিরুদ্ধে আমি নিজেও, কিন্তু শালিনতাতো পুরুষ নারী সবার জন্যই তাইনা?বাইরে বের হলে নিজের টিপ বা এক সাইড করে ওড়না পরা বা টি শার্ট জিন্স পরা নিয়ে নারীদের কাছ থেকেই এতো মন্তব্য শুনেছি যে বিশ্বাস করেন পুরুষের মন্তব্য নিয়ে আমার আর অভিযোগ করার আগ্রহ হয়না।

আপনারা কিছু সংখ্যক নারীই যার যার নিয়মে নারীমুক্তির কথা বলে ফেইসবুকে লাফাচ্ছেন।আর ঘুরে ফিরে কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষই সেগুলো দেখছে বা পড়ছে।আসল জায়গায় কিছুই পৌছায়না।গ্রামের যে মানুষগুলো অজানায় ছিলো তারা অজানায়ই আছে।আপনাদের ফেইসবুক ওরা দেখেনা।আমি বরাবরের মতন এবারও বলবো নিজের কি ভালো লাগছে কি লাগছেনা সেটাকে নারীঅধিকার মনে করছেন আপনারা।হাতেগোনা কয়েকজনই সত্যিকার অর্থে অন্যায় কোনটা কোনটার বিরোধিতা করা প্রয়োজন সেটিকে আলাদা করতে পারছেন।

বাদবাকিরা নিজে যেটা করছেন সেটারই বৈধতা দাবী করছেন।কে সংসার করছে,স্বামীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি আপলোড দিচ্ছে,তাকেই আপনার স্বামীর সেবাদাসী মনে হলেতো সমস্যা।সত্যিকার অর্থে অন্যয় অত্যাচার কোনটা,সেটা যদি না বোঝেন তবে নারীবাদী পরিচয় ফলাইয়া কথা বলা ছেড়েদেন।তারপর যদি আপনার সময় নাই কাটে,তাহলে গোটা কয়েক প্রেম করেন। তারপর সেটা নিয়ে টক শো করে সময় কাটান।অযথা মানুষগুলোকে আপনার মনগড়া কেতাবের বানী শুনানোর কি দরকার বলেনতো!

ছবি: গুগল