পিচ ফিক্সিংয়ের ফাঁদ

আহসান শামীমঃ স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ানডে মাঠে গড়ানোর আগে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলো’পিচ ফিক্সিং’। গত বুধবার পুনেতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে মাঠে গড়িয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ।ছয় উইকেটে ভারত জিতলেও তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

ক্রিকেটের আধুনিকায়নের ফলে অনেক অভিনব কায়দায় জুয়াড়িরা স্পট ফিক্সিং করছেন আজকাল। এবারই প্রথম শোনা গেল ‘পিচ ফিক্সিংয়ের’ কথা।

দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচের আগে , জুয়াড়িদের কাছে টাকার বিনিময়ে পিচের ধরণ পাল্টে দিয়েছিলেন মাঠটা কিউরেটর পানদুরাং সালগাওকার ।তিনি বুঝতেই পারেননি সেই জুয়াড়িরা আসলে ছিলেন ছদ্মবেশী সাংবাদিক। ফলে বেশ বিপাকেই পড়ে গেছেন কিউরেটর সালগাওকার।পুনেতে ভারত নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের আগে স্ট্রিং অপারেশন যান ইন্ডিয়া টিভি টুডের কয়েকজন সাংবাদিক। বুকি সেজে তারা উপস্থিত হন কিউরেটর সালগাওকারের কাছে। কোন ক্রিকেট ম্যাচ শুরুর আগে মূল ম্যাচের পিচ শুধু দুই দলের কোচ, অধিনায়করাই দেখতে পারেন। অন্যদের পিচ খুব কাছ থেকে পরখ করার কোন সুযোগই নেই। সালগাওকার সেই ছদ্মবেশী বুকিদের পিচের কাছে নিয়ে গেছেন। কেমন আচরণ করবে তাও ফাঁস করে দিয়েছেন তাদের কাছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে পিচের ধরণ পাল্টে দেওয়ার প্রস্তাবেও রাজি হয়েছেন এই ৬৮ বছর বয়সী কিউরেটর।

এমন খবর ফাঁস হওয়ার পর পরই কিউরেটর সালগাওকারকে অব্যাহতি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই। সংস্থার সেক্রেটারি অমিতাভ চৌধুরি জানিয়েছেন, ‘মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসসিয়েশনের কিউরেটরের পদ থেকে পানদুরাং সালগাওকারকে বহিষ্কার করা হলো।’

সালগাওকার খেলেছেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ছিল তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বল হাতে ৬৩টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে ২১৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। মহারাষ্ট্র রঞ্জি ট্রফি টিমের নির্বাচকের দায়িত্বও সালগাওকার কাঁধে।বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম।

ছবিঃ গুগল