অমর প্রেম…

রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

একটা তালপুকুর। বিশাল, পুকুরের চারিদিকে তাল গাছ সুপারি গাছ, নারিকেল গাছ।কিছু বুড়া আম গাছ ও আছে এঁদের সঙ্গে তাল দিতে দিতে লম্বা হয়ে প্রায় আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে।তাল গাছের গায়ে কিছু দুষ্টু কাঠবিড়ালি।লাফিয়ে নামার আগেই আবার উঠে যায়।নীচে কয়টি বুড়ো ভেড়া বলে ঢং!!! এতো লাফানোর কি দরকার! ভদ্রতা কি বাবামা কিছুই শেখায়নি? কাঠবিড়ালিররা হাসে।আসলে ভেড়াগুলো খুব অসহায়।স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই।মালিক বেঁধে রেখে যায়।সকাল থেকে সুর্য ডোবা অবধি এখানেই।জানা কথা যার স্বাধীনতা নেই সে এমন স্বাধীন কাঠবিড়ালি কে হিংসে করবেই।কাঠবিড়াল বলে হিড্ডুম,তুই ভেড়ার কথায় রাগ করিস না।হিড্ডুম বলে রাগ আমি ভেড়ার কথায় না।তুমি এই পচা নামে আমাকে ডাকবেনা।আমার নাম বেনীমাধব!!!

এদিকে সুর্য খুব পৃথিবীর ইয়েতে পড়েছে।প্রেমে, বুঝলি প্রেমে।যতবারই সে সুর্যের প্রেমে পড়ে ততবারই দুর্ঘটনা হয়।পৃথিবী সব বোঝে।কিন্তু সেও যে সুর্যের প্রেমে পড়ে বসে আছে।এমন শক্ত ব্যক্তিত্ব!! প্রেমে পড়তেই হয়।উফ!!!

এদিকে তালপুকুরের উপরে যে নারিকেল গাছ আছে তাদের বুকে যে শিশির আছে তা থেকে একটি শিশির কনা তালপুকুর কে ভীষন ভালবেসে ফেলেছে।শিশিরের বাবা মা খুব রাগী। মানুষের বাবা থাকে রাগী। এর বাবা,মা দুজনই রাগী।আল্লাহ গো!!!! তবুও বাবা একটু ভেতর থেকেু বোঝে শিশিরকে।বাবা বলে এই অসমপ্রেম তোমার মা মানবেনা।তুমি তালপুকুর কে ভুলে যাও।ওতো জমিদারের কন্যা।তোমাকে দিয়ে ও কি করবে? শিশির বলে বাবা, কার্যকারিতা ভেবে কেউ প্রেমে পড়ে!!!!

একদিন সুর্য ভীষন ভালবেসে পৃথিবীর পাঁজরের হাড়ের কাছে আসে।চোখ খুলে তাকায়।বলে, ভালবাসি ভালবাসি, ভালবাসি। পৃথিবী চোখ বন্ধ করে ভালবাসা অনুভব করে।কিন্তু সুর্যের প্রচণ্ডমূর্তি তে পৃথিবীর গাছপালা নদনদী সব শুকিয়ে যায়।সুর্য কিন্তু কিছু বোঝেনা।সে তার ভালবাসা বুঝিয়ে দিয়েই পশ্চিম পথে ধায়।

তালপুকুরের বুক ও শুকিয়ে যায়।পুকুরে থাকা জলজ পোকা, ব্যাঙ কাছিম, মাছ শ্যাওলা সব মৃতপ্রায়। তালপুকুরের মরমর অবস্থা।

তালপুকুর মরেই যাচ্ছে।তার বুকের সবকিছু নিয়েই সে মরছে। মরতে মরতে বলছে পানি,পানি, পানি।আকাশ বাতাস গাছপালা কাঠবিড়ালি সবাই কাঁদে।তাদের কান্নায় সারা পৃথিবী কেঁদে ওঠে।শুধু বুড়া ভেড়া বলে,হে হে,আমি আগেই জানতাম!

হঠাৎ শিশির বলে আমি আসছি তালপুকুর!!! শিশিরের মা গর্জে ওঠে।খবরদার! যাবিনা, গেলে আর আমার কাছে ফেরাফিরি নাই।শিশির বলে মা,আমার প্রেয়সী মরছে, এই সময় তুমি আমাকে আটকিয়ো না।শিশির কোন কথা না বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দিল।

কিন্তু অটল অবিচল প্রেমকাহিনীর মত এই প্রেমে কোন মিলন হল না।শিশির তালপুকুরে টুপ করে পড়ার আগেই বাস্প হয়ে সে প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে গেল, এবং খুবই দুঃখের কথা,তালপুকুর এই প্রেমের কথা জানতেই পেলো না।তালপুকুর কে ঘিরে যারা ছিল, সবাই কাঁদছিল,খালি বুড়াভেড়া বললো,বাঁচলাম।

হঠাৎ আকাশ ছাপিয়ে বৃষ্টি এলো। তালপুকুর আবার প্রান ফিরে এলো।অনেক গভীর ভালবাসা বিনিময়ের পর তালপুকুর এবার বৃষ্টি বুকে নিয়ে বিড়বিড় করে শিশির কে বলছিলো,ভাগ্যিস মেঘ হয়ে আমার বুকেই এলে? নইলে কি এ জীবনে এই অমরপ্রেম জানতে পেতাম!!!!

ছবি:গুগল