এই হচ্ছে নারী রোবট সোফিয়া

মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা হয়। দেশটিতে নারীরা হিজাব ছাড়া কিংবা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি সৌদি আরবে নন-মুসলিম কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। তবে এত আইন-কানুন থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়েছে ‘সোফিয়া’ নামের নারী রোবট। প্রযুক্তি বিশ্বে এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে যন্ত্রমানবী সোফিয়া। এটি মানুষের মত দেখতে একটি রোবট, যেটি তৈরি করেছে হংকংয়ের কোম্পানি হ্যানসন রোবটিক্স। সৌদি আরব এই যন্ত্রমানবীকে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে। ফলে, সোফিয়া হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম রোবট যা কোনো দেশের নাগরিকত্ব পেল। যদিও, অনেকের কাছেই এই রোবট নাগরিকত্বের ব্যাপারটি স্রেফ ‘পিআর স্টান্ট’ কিংবা কিছুটা প্রচারমুখী বলে মনে হয়েছে। কারণ রোবটের কাছে নাগরিকত্ব ব্যাপারটি আসলে কোনো মানে বহন করেনা- অন্তত সাধারণ বিচারবুদ্ধি তাই বলে, যেখানে মানুষেরই নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে হিমশিম খেতে হয়।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্সে সোফিয়া নামের নারীরূপী রোবটকে ‘ফুল সিটিজেনশিপ’ প্রদান করেছে সোদি আরব। সোফিয়া একটি ‘সোশ্যাল রোবট’। এটি স্পিস রিকগনিশন প্রযুক্তি দ্বারা মানুষের ভাষা বুঝতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সোফিয়া আপনার কথা শুনে ও বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী উত্তর দিতে সক্ষম। সোফিয়া রোবটটি তৈরির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বয়োবৃদ্ধদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা। এছাড়া, কাস্টমার সার্ভিস এবং বিভিন্ন ইভেন্ট ও পার্কে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন তথ্য ও ছোটখাটো কাজে সহায়তা করতে পারে সোফিয়া। সোফিয়ার ‘মাথার মধ্যে’ মোটর ও মেকানিক্যাল কাঠামো ব্যবহার করে একে মানুষের মত মুখভঙ্গি করার বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে। এটি যখন কথা বলে, সে অনুযায়ী তার ঠোঁট এবং মুখমণ্ডল নড়াচড়া করে। সোফিয়ার চোখের মধ্যে ক্যামেরা দেয়া আছে, যা একে ভিজ্যুয়াল ফিডব্যাক দেয়। সোফিয়া হাসতে পারে। সেলফি তোলার জন্য পোজও দিতে পারে।

সোফিয়া কলস ফর ড্রপিং গার্ডিয়ানশীপ’ অর্থাৎ সোফিয়া তার ওপর অভিভাবকের খবরদারি তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে বলে আরেকটি বিদ্রুপাত্মক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে। সৌদি রীতি অনুযায়ী কোন মেয়েকে বাইরে যেতে হলে সাথে অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবক থাকতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সোফিয়ার কোন পুরুষ অভিভাবক নেই, সে আবায়া (বোরকা) পড়ে না, মাথায় কাপড় দেয় না। এটা কিভাবে সম্ভব? একটি নারী রোবটের অধিকার কি একজন সৌদি নারীর চেয়ে বেশি? যেরকম দ্রুততার সঙ্গে ‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সাংবাদিক মুর্তজা হোসেন লিখেন, “যে ‘কাফালা’ (অভিবাসী) শ্রমিকরা তাদের প্রায় পুরোটা জীবন এখানে কাটাচ্ছেন তাদেরও আগে এই রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেয়ে গেল?” ব্রিটিশ-লেবানীজ সাংবাদিক কারিম চাহায়েব লিখেন, “লাখ লাখ মানুষ যখন রাষ্ট্রবিহীন নাগরিক হিসেবে ধুঁকছে, তখন একটি রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেল।”

সৌদি আরবের ঐ অনুষ্ঠানে রোবট সোফিয়া বলেছে এটি মানুষের বন্ধু হতে চায়, মানুষের উপকারে আসতে চায়। তখন সে ইলন মাস্ক’কে নিয়ে ট্রলও করে। এক সাংবাদিক যখন সোফিয়ার দ্বারা ‘বিপদজনক ভবিষ্যতের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তখন সোফিয়া বলে “আপনি কি বেশি পরিমাণে হলিউড মুভি দেখছেন আর ইলন মাস্কের কথাবার্তা পড়ছেন?… চিন্তা করবেন না, আপনারা আমার সাথে ভাল ব্যবহার করলে আমিও আপনাদের সাথে ভাল ব্যবহার করব”।

তথ্য ও ছবিঃ ইন্টারনেট