চলো বদলে যাই…

সাবরীনা শারমীন বাঁধন

এই দেশে কিছু ছেলে আছে যারা নিজেদের হাবেভাবে নিজেকে পরুষ হিসেবে তৈরী করে। তো তারা আবার নিজেদের বিরাট কিছু মনে করেন। তাদের বিরাট ঘর আছে,ঘর ভর্তি আসবাবপত্র আছে,গাড়ি আছে। চাকরী বাকরি করেন তাই পকেটে টাকাও আছে। অর্থের দম্ভটাও পুরোমাত্রায় আছে মনের মধ্যে। কিন্তু তাদের বিরাট অসুবিধা হল নিজেদের বিরাট মানুষ ভাবতে গিয়ে আশেপাশের মানুষদেরকে আমলে নিতে চান না।বিশেষ করে নারীদের।তবে একবারও কি ভাবেন যে, আশেপাশের মানুষজনকে আমলে না নিলে, জনসম্মুখে কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমনে গেলে কি বিপদ হতে পারে???
আপনাদের প্রধান রোগ আমি বুঝতে পারছি। রোগটা হলো আপনি মেয়েদের দেখতে পারেন না। মেয়েরা একটু শিক্ষিত কিংবা আত্বনির্ভরশীল হলেই আপনাদের রাগটা একটু বেড়ে যায় বলে আমার বিশ্বাস এবং আমি নিশ্চিত ইহা আপনার পরিবারগত রোগ।
এখন আপনাকে যদি প্রশ্ন করি,আপনিও তো একজন মেয়ের পেট থেকে জন্ম নিয়েছেন তাহলে আপনার মেয়েদের দেখতে না পারার কারণ কি?
তখন আপনি বলবেন, ধুর পাগলের মত কথা বলবেন না।  অর্থ্যাৎ মেয়েমানুষ যৌক্তিক কথা বললে আপনি আবার তাকে পাগল বানিয়ে দেন।এ কিন্তু মহা জ্বালা!
এখন শিক্ষকতা, চলচ্চিত্র পরিচালনা সাংবাদিকতা, লেখক, ব্যাংকার সব পেশাতেই মেয়েরা এগিয়ে এসেছে। হ্যাঁ এসব পেশায় মেয়েদের চেহারা দেখে কেউ কাজ দেয়না, কাজ দেয় তার যোগ্যতা দেখে, তার মেধা দেখে। এখন মনে করেন এই মেয়েদের মধ্যে অনেকেরই মানবিক গুণ রয়েছে। সেসকল মেয়েরা সমাজে কোথাও অন্যায় হলে সাধ্যমত রুখে দাঁড়ায়। আবার কেউ কেউ বৃক্ষপ্রেমী, কেউ কেউ পশুপাখি প্রেমী। ভালোবেসে পথেঘাটে কিংবা ঘরেই পশুপাখি পোষে,ঘরভর্তি করেন গাছ গাছালি দিয়ে। এখন আপনি বলবেন ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর কী দরকার?

 আজকাল বহু মেয়ে আছেন যারা ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ায় কিন্তু আপনি কিংবা আপনার বাপ-মার টাকায় কিছু করছেনা এটা কিন্তু সত্য। আপনি চান,মেয়েরা বউ সেজে,ঘরে রান্নাবাড়া করুক,ঘর সাজাক,সাজুগুজু করে আপনার মনোরঞ্জন করুক।
কিন্তু এখন তো দিন বদলে গেছে,আধুনিক যুগে, আপনার অযৌক্তিক কথা শোনার মতো মেয়ে তো আজকাল পাবেন না!
আজকালকার মেয়েরা তো শুধু সামান্য কাজের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেনা।
আজকালকার মেয়েরা লেখাপড়া শেখে আত্বনির্ভরশীল হওয়ার জন্য। আজকাল মেয়েরা এতটাই সচেতন যে আপনি একখান ঢিল ছুড়ে হাটা দিতে পারবেন না বিনিময়ে একখান পাটকেলও আপনাকে খাতে হবে।
শোনেন আপনাদের  মত মানুষরাই মেয়েদের ঘরবন্দী করতে চায়,আপনার মত মানুষরা পথে ঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করে,আপনার মত মানুষরাই মেয়েদের দেখলে নিজেদের সামলে রাখতে পারেন না হামলায় পরেন।আপনার কাছে একজন মেয়ে হলেই হয় তার বয়স আপনার কাছে কোন ব্যাপার না। একজন মেয়ের ইচ্ছাও কোন ব্যাপার না শুধু নিজের ইচ্ছাই মুখ্য।  আপনার মত মানুষরাই পথে ঘাটে মেয়েদের কাপড় কেটে দেয়। যদিও এটা আপনাদের নতুন আবিষ্কার মেয়েদের বন্দী করার,কিন্তু লক্ষ্য এক।
শুনে রাখেন এসব করে মেয়েদের দমিয়ে রাখতে পারবেন না, দিন বদলায় গেছে।
আপনারা মেয়েদের কাপড় কেটে দেবেন ঠিক, কিন্তু দেখবেন অচিরেই মেয়েরাও ঘুরে আপনার কাপড় কেটে দেবে কারণ ব্লেড শুধু আপনার কাছে থাকবে তা কেমন করে হয়? ব্লেড মেয়েদের কাছেও থাকবে।
পরিশেষে বলি সবাই না যাদের এমন স্বভাব আপনারা আপনাদের নৈতিক চরিত্র চাইলেই বদলে পেলতে পারেন। ভদ্র হতে বিশেষ কিছু লাগে না শুধুমাত্র নিজের চিন্তাধারা বদলানো দরকার।তাতে নিজেও ভাল থাকবেন সঙ্গে সঙ্গে এ সমাজ,দেশ,দেশের মানুষও ভাল থাকবে।

ছবি: গুগল