কুন্ডুর সঙ্গে টেলিফোনে

বিমোচন ভট্টাচার্য

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

জর্জ বিশ্বাস

আজ কথা বলছিলাম আলো কুন্ডুর সঙ্গে টেলিফোনে। অনেকেই জানেন, যারা জানেন না তাদের জন্য, আলো কুন্ডু হলেন সেই মানুষ যার জন্যে আমরা দেবব্রত বিশ্বাসের বহু বহু অপ্রকাশিত গান শুনতে পেয়েছি। বললেন, তাঁর জর্জ’দা তাকে নিজের রেকর্ডার থেকে গান বাজিয়ে ওর রেকর্ডারে ক্যাসেট করে দিতেন। এমন শুধু ওর সঙ্গেই করতেন না। যাদেরই কোন উপহার দেবেন মনে করতেন তাদের এমন করে রেকর্ড করে ক্যাসেট দিতেন। তাই এমন ক্যাসেট আরো অনেকের কাছে আজও আছে মনে হয়।
আমার কাজের কথা ছিল ওর সঙ্গে। সে কথা শেষ হয়ে গেলে উনি গোটাকয় কথা বললেন আমায় তার জর্জদাকে নিয়ে। আমি গিলে নিলাম সেই কথা। এখন উগরে দিই আপনাদের কাছে।

এক.

আলো বলছিলেন- একজন এসেছেন জর্জদাকে দিয়ে গান করাবেন বলে। সামহাউ জর্জদার তাকে পছন্দ হয় নি। তাকে বললেন ( বাঙ্গাল ভাষায়, আমি সে চেষ্টা করছি না) -শোনেন, জর্জ বিশ্বাস গান না গাইলেও পয়সা রোজগার করে। জুয়া খেলে পয়সা রোজকার করে,রেস খেলে পয়সা রোজকার করে, কী বিশ্বাস হয় না? সত্য কথা। মানুষরে জিজ্ঞাসা করেন। আমি গাইবো না। বলে দুজন শিল্পী নাম বলে বললেন – ওদের দিয়ে গাওয়ান। ওরা শুধু পয়সা উপার্জনের জন্যই রবি ঠাকুরের গান করে। জর্জ বিশ্বাস শুধুই উপার্জনের জন্য রবি ঠাকুরের গান করে না, বোঝলেন। আসেন গিয়া।

আলোর কথায় যেন জর্জ বিশ্বাস কে তাঁর ডেরায় দেখতে পাচ্ছিলাম আমি।
ফোনের অপর প্রান্তে আলো বলে চলেছেন আমি শ্রোতা।

কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জর্জ বিশ্বাস

দুই.
আলোর জবানী তে – জর্জদার ঘরে জানেন বিমোচনদা, চারটে মোড়া ছিল শুধু। যারাই আসতেন ওই মোড়ায় বসতেন।একদিন আমি গেছি দেখি এক সুটেড বুটেড মানুষ জর্জদার সঙ্গে কথা বলছেন বাঙাল ভাষায়। জর্জদার ঘরে চারটে প্লাস্টিকের কাপ ছিল। কেউ এলে তাতে করেই চা দিতেন তাদের। চাও আবার আনা হত বাইরের দোকান থেকে। দুজন সহকারী থাকা সত্বেও বাইরের দোকান থেকেই চা আসতো। জর্জ’দা নিজেও সেই চা-ই খেতেন। চা পান শেষ হলে সেই ভদ্রলোক বললেন- আজ যাই তাহলে জর্জ’দা। জর্জ’দা বললেন – যাই নয়,বলেন আসি গিয়া।ভদ্রলোক চলে যাওয়ার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম – ইনি কে ছিলেন জর্জ’দা? জর্জ’দা বললেন – বাংলাদেশ হাই কমিশনার। ভাবুন, বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে প্লাস্টিকের কাপে চা খাওয়ালেন!! এমনই অনাড়ম্বর এবং সহজ মানুষ ছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। আমার জর্জ’দা—-
থামলেন আলো।

তিন.
বাংলার এক বিখ্যাত অভিনেত্রীর সঙ্গে জর্জ বিশ্বাসের ভাল সম্পর্ক ছিল। তিনি একদিন ফোনে জর্জ’দাকে বললেন যে তিনি একটি চিঠি দিয়ে একটি ছেলেকে পাঠাচ্ছেন, জর্জ’দা যেন চিঠিটি পড়ে তাঁর অনুরোধ রাখেন। ছেলেটি এসে জর্জ’দাকে চিঠিটি দিলেন। জর্জ’দা চিঠিটি পড়ে ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলেন- আপনি অর(সেই অভিনেত্রির) কে হন? ছেলেটি উত্তর দিলো – কেউ হই না। সেক্রেটারি বলতে পারেন। জর্জ’দা জিজ্ঞেস করলেন – এই চিঠিতে কী লেখা আছে আপনি জানেন? ছেলেটি উত্তর দিল যে চিঠিটি সেই লিখেছে ম্যাডাম সই করে দিয়েছেন। আমার(আলোর) দিকে তাকিয়ে বললেন – ** লিখসে। অরা উনার( বিখ্যাত অভিনেতা)জন্মদিন পালন করবেন সেখানে আমায় গান করতে হবে। এবার ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললেন- আপনার ম্যাডামরে গিয়ে কইয়া দিবেন – জর্জ বিশ্বাস শুধু একজনের জন্মদিনেই গান করেন। করেও যাবেন সারাজীবন। আর কারো জন্মদিনে তিনি গান করবেন না।সে অমুকবাবু হলেও নয়।

আমার মনে হচ্ছিল হাততালি দিই। আলো কুন্ডুকে হিংসাও করছিলাম মনে মনে। ফোন করেছিলাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। পেলাম আমার রবীন্দ্রসংগীতের “ঈশ্বর” সম্মন্ধে কত অজানা তথ্য!!
আমি একদিনে সাধারনত দুটি পোস্ট করি না কিন্তু কাল যদি লিখতে না পারি? কাল যদি লিখতে ইচ্ছা না করে তাই আজই লিখে ফেললাম।

অবশ্য ইংরিজী মতে কাল হতে আর মাত্র দশ মিনিটই দেরী আছে…।

ছবি: গুগল