হয়তো ভুলটা আমারই-মাশরাফি

আহসান শামীমঃ মাশরাফির সঙ্গে কোনো জুনিয়র খেলোয়াড়ের ঝগড়া, দৃশ্যটা দুর্লভই । আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যা হয়েছে, তাতে কার দায় বেশি, সেটা জানা না গেলেও দৃশ্যটা ভীষণ অপ্রত্যাশিত। আজই নিজের ক্রিকেট জীবনের ১৭তম বছরে পা দিয়েছেন মাশরাফি।এমন দিনে অনেক বেশি আশা করতেই পারতেন সতীর্থদের কাছ থেকে।তবে শুভাশিসের কাছ থেকে এমন বাজে কিছু পাবেন হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি। যদিও খেলা শেষে গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে লজ্জাজনক এই ঘটনার জন্য মাশরাফি ক্ষমা চেয়ে জানালেন, ‘ও আমার ছোট ভাই এর মত খেলার মাঠে কার দায় কতটুকু সেটা বিবেচনা না করে যা ঘটেছে সেজন্য দূঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাচ্ছি। হয়তো ভুলটা আমারই।’

মাশরাফি যাই বলুন না কেন সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ঝড় , শুভাশীষের নিষেদ্ধাজ্ঞা চেয়ে।

বিপিএল মানেই অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর আবির্ভাব,বিপিএল মানেই দেশের ক্রিকেটে নতুন কোন লজ্জার স্পর্শ।দিনে দিনে এমন দুর্নাম জন্ম দিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিপিএলের মাঠ।এক মৌসুমকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেক মৌসুম। টিকেট কেলেঙ্কারি,নিরাপত্তার শঙ্কা এবং সাব্বিরের আম্পায়ারের সাথে বিতর্কের পর আজকের সিলেটের দর্শক সাক্ষী হয়ে থাকলো আরো ন্যাক্কারজনক এক ঘটনার।ঘটনার শিকার আর কেউ নয় , ১৬ বছর ক্রিকেটে কাটিয়ে ১৭ তে পা দেয়া মাশরাফি।

সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আজকের চিটাগং ভাইকিংস বনাম রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর।শুরুতে লুক রঙ্কির ব্যাটে বড় স্কোরের আভাস পেলেও মাঝ পথে খেই হারিয়ে মাত্র ১৬৫/৪ রানেই থামতে হয় চিটাগং ভাইকিংসের।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই  জনসন চার্লস এবং জিয়ার উইকেট হারিরে বেশ বিপাকেই পড়ে চিটাগং।এরপর রবি বোপারা ও মিঠুন মিলে রংপুরকে টেনে তোলার চেষ্টা করে।মাঝপথে মিঠুনের বিদায়ের পর বেশ শক্ত জুটি গড়ে ওঠে বোপারা আর নাফিসের ব্যাটে।এরপর পরপরই তাসকিনের এক ম্যাজিকাল ওভারেই লন্ডভণ্ড হয়ে যায় সব।পর পর ৩ বলেন রংপুরের ৩ ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তাসকিন।আর এই ওভার থেকেই বেড়ে যায় ম্যাচের উত্তেজনা।

১৭তম ওভারে বোলিং এ আসেন চিটাগং ভাইকিংসের শুভাশিস রায়। ব্যাটসম্যান হিসেবে স্ট্রাইকিং প্রান্তে মাশরাফি বিন মর্তুজা।শুভাশিসের করা একটা বল কিছুটা রক্ষ্মণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলেন মাশরাফি।বল সোজা শুভাশিসের হাতে গেলে তিনি বলটা ছুড়ে মারতে গিয়ে থেমে যান।

শুভাশিসের আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা দেখে মাশরাফি তাঁকে তার বোলিং মার্কে ফিরতে বলেন।জাতীয় দলের খুব কাছের কেউ বলেই হয়তো এমনটা করেন মাশরাফি।কিন্তু এর জবাবে শুভাশিস তেড়ে আসেন  মাশরাফির দিকে এবং খুবই রুঢ় আচরন করেন অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে।দূর থেকে বিষয়টা দেখতে অসম্ভব দৃষ্টিকটু লেগেছে অনেকেরই।আম্পায়ার এসে শুভাশিসকে থামানোর চেষ্টা করেন।এরপর একে একে চিটাগং ভাইকিংসের সতীর্থ তানবির হায়দার , সিকান্দার রাজা এসেও শুভাশীষকে থামানোর চেষ্টা করতে বেগ পেতে হয়।

জবাবে নির্বাক চেয়েই রইলেন মাশরাফি।প্রথমে কিছুটা এগিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করলেও, শুভাশিসের এমন আচরনে একেবারেই হতভম্ব হয়ে নির্বাক চেয়ে থাকেন অনেকটা অবিশ্বাসের সাথেই।হয়তোবা মনে মনে ভাবছিলেন , এদের সাথেই কাটিয়ে দিয়েছেন ১৭ বছর,এদের জন্যই ঝুঁকি নিয়েছেন  বারবার। এদের সব বিপদে সবার আগে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সবার আগে।পাশে ছিলেন ছায়ার মত।

ছবিঃ গুগল