ডিপ্রেশনের মুখোমুখি, কি করবেন- পর্ব-১

কাজী আহমেদ পারভেজ

এক : ডিপ্রেশন সর্ম্পকে কম জানা ১০টি গুরুত্বর্পূণ তথ্য
প্রথমইে জেনে নিই ডিপ্রেশন সর্ম্পকতি সেই তথ্যগুলো যা আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না।
১) ডিপ্রেশন আমাদের ভাবনা-চিন্তার প্রক্রিয়াকে প্রভাবতি কর, চিন্তা-ভাবনায় বিক্ষিপ্ততা নিয়ে আসে, গুরুত্বর্পূণ বিষয়কে দূরে রেখে অগুরুত্বর্পূণ বিষয় নিয়ে কালক্ষপেণ করায়। ডিপ্রেশন কালে যে আত্মবধ্বিংসি ভাবনাগুলো আস, তাএই বিক্ষিপ্ততার কারণেই।
২) ডিপ্রেশনের কারণে অন্যরে প্রতি সহানুভুত, এমপ্যাথি ইত্যাদি হ্রাস পায়। আর তা হবইেবা না কেন? নিজেকে সারাক্ষণ দুঃখের চাদরে মুড়ে রাখলে অন্যকে দেয়ার মত সময় পাওয়া যাবে কিভাবে?
৩) ডিপ্রেশন যে শুধুই মন খারাপ হিসেবে অনুভুত হবে তা না। ৬৫% ক্ষেত্রে মন খারাপরে চেয়ে উৎকণ্ঠাকারে (এংজাইটি)ডিপ্রেসড অবস্থাটা জানান দেয়। তাই “মন তো ভালই” – মানে এই নয় যে আপনি ডিপ্রেসড নন। যদি এংজাইটি থাক, বুঝতে হবে ডিপ্রেশন আপনাকে ছেড়ে যায় নি। সঙ্গেই আছে।
৪) সারাক্ষণ বিরোক্তিবোধ করা, চারপাশরে সব বিষয়ে গন্ডোগোল খুঁজে পেয়ে তা নিয়ে রাগে ফেটে পড়া – এসবই হতে পারে অর্ন্তগত ডিপ্রেশনের ফল। তাই এগুলো যদি ঘটতে থাক তখন অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের মানসকি অবস্থা নিয়ে সচতেন হন।
৫) খুব একটা কারন ছাড়াই অসহনীয় ব্যথায় আক্রান্ত হওয়াটাও ডিপ্রেশনের কারণে ঘটে। তাছাড়া ব্যথা থকলে যেমন ডিপ্রেশন হতে পারে, ডিপ্রেশন থেকেও ব্যথার উদ্রকে হতে পারে। কোনটার জন্য কোনটা, আগে খোঁজাখুজি না করে বরং ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিন। দেখবেন ব্যথাটা নিজে নিজেই সহনীয় হয়ে আসবে।
৬) বেশিরভাগ মদ্য ও মাদক জাতীয় সামগ্রী ডিপ্রেশনের উপশম নয় বরং ডিপ্রেশন উদ্রকেকারী। কেউ কেউ মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকার বা ডিপ্রেশন মুক্ত থাকার দাবি করেন ঠিকই কিন্তু ওগুলো হয় সাময়িক। বরং ওসব মাদকরে প্রভাব কেটে গেলে দেখা যায়, ডিপ্রেশন আরও চেপে বসে। তখন মাদকদ্রব্যের পরিচিত মাত্রায় আর কোনো কাজ হয় না। ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে নিজে নিজে এরকম কোনো চেষ্টা না করে বা সেল্ফ মেডিকেশনের চেষ্টা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পরে।
৭) ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়াটা আমাদের ইচ্ছাধীন নয়, কিন্তু আক্রান্ত হবার পর কিভাবে সেটা থেকে বের হবো বা আদৌও বের হতে পারবো কিনা – সেই ব্যাপারগুলো কিন্তু আমাদরে ইচ্ছাধীন। প্রতিবার একটি করে পদক্ষপে নেয়া উচিৎ। সেটা কাজ করলে তা চালু রেখে পরেরটার দিকে যাওয়া উচিত। আর কাজ না করলে সেটা বাদ দিয়ে আরেকটা কোনো পদ্ধতির দিকে যাওয়া প্রয়োজন।
৮) ডিওেপ্রশন হতে পারে পরিস্থিতিগত কারনে অথবা মস্তিষ্কের প্রান-রাসায়নকি পরিবর্তনের কারণে অথবা দুইয়রে সংমশ্রিনে।যদি পরস্থিতিগত কারনে এটা হয়ে থাকে তাহলে শুধু কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারা যায়। কিন্তু তা মস্তষ্কিরে প্রান-রাসায়নকি কারন বা দুইয়রে সংমশ্রিণ জনতি কারনে যদি হয়, তখন শুধু কাউন্সেলিং খুব একটা কাজ করবে না। এর পাশাপাশি মেডিকেশনেরও দরকার পড়বে। আর এজন্য এ ধরনরে চিকিৎসার জন্য উপযোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
৯) আপনার ডিপ্রেশন আপনার জন্য যতটা যন্ত্রণার, আপনার প্রিয়জন ও কাছের মানুষদের জন্যও তারচয়ে কোনো অংশে কম যন্ত্রণার নয়। আপনার ডিপ্রেশনের সময়টাতে তারা যে অবহলো, র্দুব্যবহার, ভালবাসাহীনতা পায় – তা তাদের ভেঙ্গেচুরে দিতে পারে। ডিপ্রেশন আনট্রটিডে রাখলে দিনে দিনে আপনি আরও একা হয়ে পড়বেন। আর আপনার স্বজনদেরকেও আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
১০) দিনে মাত্র ৩০ মনিটি হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে দেখবেন ডিপ্রেশন সম্পর্কিত অনেক সিমটম থেকে বেরিয়ে আসতে পারছনে। ডিওেপ্রশন থেকে বের হবার শুরুটা তাই এই হাঁটা দিয়েই শুরু করছনে না কেন? (চলবে)

ছবিঃ গুগল