সেই কিশোরী বধূ…

মেহেরুন্নেছা

আজ কয়েকদিন যাবৎ একজন কিশোরীর চেহারা মানসপটে ভাসছে। বিধবা কিশোরীবধূ। বেশ কয়েক বছর আগে নাড়ীর টানে গ্রামে গিয়েছিলাম।বিকেলে মা- খালারাসহ ঘুরতে গেলাম পাশেরবাড়ি।একজন বয়স্কমহিলা আমাদের উনার ঘরে নিয়ে গেলেন। মুরুব্বীরা সবাই গল্পে মাতোয়ারা। গল্পের এক পর্যায়ে জানলাম উনার একমাত্র ছেলে মারা গেছে প্রায় এক বছর হতে চললো।ছেলের ঘরে নাতি- নাতনী নেই; তবে বউ তাদের সঙ্গেই আছে।

ভিতরে গেলাম। বিছানায় বয়স্ক মহিলার স্বামী শুয়ে আছেন এবং তিনিও দারুনভাবে অসুস্থ। কিন্তু ছেলের বউকে দেখছিনা। অবশেষে সেই বিধবা কিশোরী বউকে পেলাম রসুইঘরে( রান্নাঘরে)। শরীরটাকে জড়সড় করে পুরোঘর আলোকিত করে অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করছে।

চাঁছাছোলা শরীরে পেলব স্নিগ্ধতা থাকলেও মুখখানি তার বিষন্ন।ভাবলেশহীন ডাগর চোখ যেনো
পরাণের গহীণের গোপন আহাজারি শোনাতে চায়।স্বামীর অকাল-মৃত্যু হলেও শরীরের লোনা অভিলাষ যেনো ঠিকরে বের হচ্ছে সেই চোখ দিয়ে ; যে চোখের ভাষা তার চারপাশের সমাজের মানুষগুলো পড়তে চায়না।

স্বামীর অকালমৃত্যু তো এই বিধবা কিশোরী বউ এর প্রেমঘন অনুভবের সমাধি রচনা করতে পারেনি।
তার সঙ্গে টুকটাক আলাপ হলো।মেয়েটির নৈঃশব্দ্য
যেনো ইঙ্গিত করছে শরীরের অজস্র গর্জনের।

ফিরে এলাম মুরুব্বীদের মাঝে।শ্বাশুড়ী থেকে তার বিধবা কিশোরী বউ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যা উদ্ধার করতে পারলাম তা শুনে আমি হত বিহবল।গরীব ঘরের সুন্দরী মেয়েকে বউ করে এনেছেন।ছেলে নেই তো কি হয়েছে।বউ- এর ভাত কাপড়ের অভাব হবেনা।তাছাড়া এই বউ না থাকলে তিনি একা কিকরে তাঁর বৃদ্ধ স্বামীর দেখাশোনা করবেন।আরো দুঃখজনক বিষয় হলো, বউটির বাবা- মা ও তাকে আর নিতে চায়না।কারন, মেয়েকে আবার বিয়ে দেয়া তাদের
পক্ষে সম্ভব নয়! সুতরাং মেয়েটি এখন তাদের কাছে বোঝা।

অতঃপর মেয়েটির জীবন তাকে যে দিকে নিয়ে চলেছে; সে নিশ্চয়ই সেদিকেই ছুটেছে অথবা এখনো ছুটতে বাধ্য হচ্ছে।

আমার আর জানা হয়ে উঠেনি, সে তার জীবনে প্রেমের কুঁড়িগুলোর পরিচর্যা করে ফুল ফোটাতে পেরেছিলো কিনা।আজো সে নিঃসঙ্গতার অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে কিনা।আজো সে একজন পুরুষের উপস্থিতি খুব করে অনুভব করে কিনা।

নাকি তার ভরা যৌবনের শরীরখানা অব্যবহৃত পুকুরের মতো ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছে!

ছবি: গুগল