মানচিত্র

pranerbanglaA119.

মেহেদী সম্রাট

“খাবে..?? অনেকেই তো খাচ্ছে আজকাল। খুবলে খাচ্ছে। ছিঁড়ে খাচ্ছে। তুমিও খাবে..?? খাও। গিলে ফেলো পুরো মানচিত্র। মানচিত্র খাওয়ার মহোৎসবই তো চলছে আজকাল…” উচ্চস্বরে কথাগুলো বলছিলো রহমতউল্লাহ্। বাসস্টপেজ লাগোয়া দোকানটার পাশে বসে। পথচলা লোকজনকে ডেকে ডেকে প্রতিদিনই এসব বলে সে। যারা ওকে প্রথম বারের মতো দেখে, তারা কেউ কেউ থামে। কথা শোনে ওর। তবে ওর ডাকে জীবনে দ্বিতীয় বার কেউ থামেনি। থামার প্রয়োজনও বোধ করেনি। কারণ, প্রথমবার ওর ডাকে থামলেই সবে বুঝে নেয় ও বদ্ধপাগল

ওই পথে হাঁটা প্রায় সকলেই জানে রহমতউল্লাহ্ পাগল। তবে ওদিকে এখনো কিছু বয়স্ক মানুষ আছেন, যারা জানে রহমতউল্লাহ্ একজন মুক্তিযোদ্ধা। দূর্ধর্ষ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার পরও বেশকিছু বছর সে ভালো ছিলো। তখন সে মানুষকে তাঁর স্বপ্নের কথা বলতো। যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছিল এই মানচিত্র। রহমতউল্লাহর সেই স্বপ্নের কথা তখনকার অনেকেই শুনেছে। রহমতউল্লাহ্ বলতো, সাম্যের কথা। সমৃদ্ধ স্বদেশের কথা। মানুষের অধিকারের কথা। বাক স্বাধীনতার কথা। স্বচ্ছলতার কথা। বৈষম্যহীন সমাজের কথা। নাগরিক অধিকারের কথা। -এসব কথা সে একাত্তরে আগে শুনেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বলতো। পূর্ববাংলার নেতৃবৃন্দ বলতো। স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবও বলতো। তাইতো অনেকের সাথে সেও যুদ্ধে গিয়েছিলো। সাদাসিধে রহমতউল্লাহ্ হয়ে উঠেছিলো দূর্ধর্ষ গেরিলা। এরপর একসময় হঠাৎই সে পাগল হয়ে গেলো।

সত্যিকারের পাগল না। লোকে পাগল বলে ডাকে, এজন্যে পাগল। রহমতউল্লাহ্ বলে, “কষ্টার্জিত স্বাধীনতা আজ আর অক্ষুণ্ণ নেই। গরীবরা আজো গরীবই হয়, ধনীরা ধনী হয়। অগণিত রেপ হয়। নদীর জলে লাশ ভাসে। মানচিত্র কলুষিত হয়। ওরা খেয়ে ফেলে আমার মানচিত্র। খুবলে খুবলে খায়। ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়। তুমিও খাবে…??” -এভাবেই বলতে থাকে পাগলা রহমতউল্লাহ্। প্রতিনয়ত। পথচলা পথিককে ডেকে ডেকে। কেউ কেউ হয়তো তাঁর ডাক শোনে, থামে। কেউ কেউ চলে যায় ভ্রুক্ষেপহীন…

সদস্য বয়স ১৯