গানের ওপারে…

অনেকদিন আগে পর্দা উঠবে এক শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানের। মঞ্চের পেছনে বসে আছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত সাধক আলী আকবর খাঁ সাহেব। তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন এক তরুণী সাংবাদিক। সাংবাদিকের অনেক প্রশ্নের ভীড় হয়তো সুরের মানুষটিকে খানিকটা বিব্রতও করছিলো। এক ফাঁকে সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করলেন, কোন রাগটা আপনার সবচেয়ে প্রিয়?আলী আকবর খাঁ সাহেব তাকে উত্তর দিলেনঃ তোমার তো দু‘টো চোখ-তুমি কি বলতে পারো এরমধ্যে কোন চোখটা তোমার বেশী প্রিয়?
এমন উত্তরের পর হয়তো সেই সাক্ষাৎকার পর্ব ডুবে গিয়েছিলো গভীর নৈঃশব্দে। কারণ এরপর আর জানার কি থাকতে পারে?গানের ভুবনে শিল্প তৈরী করে চলা অসাধারণ শিল্পীদের জীবনের গল্প, ভালোবাসার গল্প তো গান আর সুরের সাম্পানে চড়ে ছড়িয়ে পড়ে আকাশে।আমাদের সহ্যের সীমানায় দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকে মাধুর্যের মতো। সেইসব কাহিনীর সুঘ্রাণ ভেসে আসে দূর থেকে। স্মৃতিকাহিনী আর উড়ো গল্প মুগ্ধ করে শ্রোতা আর পাঠককে। সেইসব ওস্তাদদের নানা খামখেয়ালী, শ্রোতার সীমানা ভাঙ্গা উচ্ছাস আর এক একটা আসর তো আসলে কিংবদন্তীর কম কিছু নয়।
সুরের পৃথিবীর সেই মহারথীদের নানা গল্প আর খামখেয়ালীপনা নিয়ে এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজন ‘গানের ওপারে’।

                         বড়ে গোলাম আলী

শোনা যায় এক সময়ে কলকাতা শহর বিখ্যাত ছিলো এই সুরসাধকদের সুরের ঝংকারের জন্য। তেমনি বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিল আমাদের রাজধানী ঢাকাও। একবার আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব এক অনুষ্ঠানে বাজাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করছিলেন জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ। শুরু থেকেই জ্ঞান বাবুর মেজাজ বেশ খারাপ ছিলো। কারণ খাঁ সাহেব নাকি নানা ধরণের ঝামেলা করছিলেন। শোনা যায়, এরকম ঝামেলা নাকি আলাউদ্দিন খাঁ প্রায়শঃই করতেন। সে দিন ঝামেলার পরিমাণ হয়তো বেশী ছিলো। আসর শেষ করে জ্ঞানপ্রকাশ সোজা চলে যেতে চেয়েছিলেন উকিলের কাছে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের নামে মামলা ঠুকবেন। শেষে অনেক চেষ্টায় তাঁকে বিরত করা হয়েছিলো।

আলাউদ্দিন খানের এমন গল্পের উদাহরণ পাওয়া যায় কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কুদরত রঙ্গবিরঙ্গী’ বইতে। সে অন্য এক আসরের গল্প। আলাউদ্দিন খাঁ‘র সঙ্গে তবলায় সেদিন ছিলেন স্বয়ং আল্লারাখা খান। আলাউদ্দিন খাঁ তখন গোটা ভারতবর্ষের সর্বমান্য ওস্তাদ আর আল্লারাখা উঠতি তবলিয়া। আসরের প্রায় গোড়া থেকেই তবলার সঙ্গত পছন্দ হচ্ছিল না ওস্তাদের। লয় ঠিক হচ্ছে না। টুকটাক ধমক, গালিগালাজ দিচ্ছিলেন আল্লারাখাকে। এক সময় উঠে আল্লারাখার গালে চড় কষিয়ে দিলেন আলাউদ্দিন খাঁ। আসর সচকিত। কিন্তু আল্লারাখা কী করলেন? নিজের কান মলে বললেন ‘গলতি মাফ করনা উস্তাদ’ বলে ফের ঠেকা ধরলেন।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

আখতারি বাঈ ফৈজাবাদী,দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক তাঁর গলার জাদুতে আবিষ্ট করে রেখেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রোতাকূল। মৃত্যুর সাঁইত্রিশ বছর পরও ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ‘হল অফ ফেম’-এ স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে আছেন আখতারি বাঈ ফৈজাবাদী। দেশবিদেশে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তদের কাছে গজল সম্রাজ্ঞী ‘বেগম আখতার’ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। শুধু গজল নয়,দাদরা এবং ঠুমরি’তেও তাঁর মুন্সীয়ানা মুগ্ধ করে রেখেছে সঙ্গীতরসিকদের আজ অবধি।
ভারতের উত্তর-প্রদেশের এক গ্রামে আইনজীবি আসগর হোসেন এর দ্বিতীয় স্ত্রী মুসতারী জমজ কন্যা জন্ম দেন। বাবা আদর করে তাদের নাম রাখেন ‘জোহরা’ ও ‘বিব্বি’। কিন্তু আসগর হোসেন তার স্ত্রী মুশতারিকে কখনই স্বীকার করেননি। কারণ আসগর ওকালতীতে নাম করতে না পারলেও সৈয়দ বংশের সন্তান হিসেবে তার অহমিকা ছিলো ভীষণ। স্ত্রী অসামান্য সুন্দরী হলেও সামান্য এক বণিকের মেয়ে, জাত নেই। তাই যমজ কন্যার জন্ম দিয়ে একা ছিলেন মুশতারি।
এক দিন তাঁর আড়ালে চার বছর বয়সী মেয়েদের হাতে বিষ মাখানো মিষ্টি দিয়ে গেলো তা

আলী আকবর খাঁ

দের পিতৃকুলের লোক,মারা গেল এক মেয়ে, জোহরা। বেঁচে রইলো বিব্বি। তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলো সৈয়দ বংশের ভাড়া করা গুণ্ডারা, তবু মৃত্যু মুছে দিতে পারলো না মা আর কন্যাকে। মুশতারি বেটির হাত ধরে পালিয়ে গেলেন এক দুঃসম্পর্কের ভাইয়ের বাড়িতে।শর্ত থাকলো, দুজনের থাকা খাওয়ার বিনিময়ে ভাইয়ের বাড়িতে সব কাজ করে দিতে হবে।
মায়ের ইচ্ছে, মেয়ে স্কুলে যাক,লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াক।কিন্তু মেয়ে কিছুতেই স্কুলে যাবে না। সে পড়বে না, গান শিখবে। মায়ের প্রবল আপত্তিও শেষ পর্যন্ত টিকলো না। মেয়ের জন্য ওস্তাদ এলেন বাড়িতে। একদিন ওস্তাদ জামিরুদ্দিনের হাত ধরেই কলকাতায় এলেন মুশতারি আর বিব্বি। গান শুনতে। কলকাতায় চ্যারিটি শো— কে নেই শিল্পীদের তালিকায়? ১৪টা ভাষা জানা গওহর জান,
মালকা জান, ছপ্পন ছুরি খান সাহেবদের মধ্যে আগ্রা ঘরানার শ্রেষ্ঠ গায়ক আফতাব-এ-মৌসিকী ওস্তাদ ফৈয়জ খান, রজব আলি খান। সবাই চ্যারিটি শো-তে বিনা পারিশ্রমিকে গাইবেন। আসরের দিন ঝামেলা হলো। দেখা গেল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শিল্পী বেনারসের সানাইবাদক আমন আলি বক্স খান ছাড়া উপস্থিত নেই কেউই। এই আসরেই প্রথম শ্রোতাদের সামনে সানাই বাজাল আলী বক্সের কিশোর ভাইপো বিসমিল্লাহ খান।বিব্বির ওস্তাদ জামিরুদ্দিন সুযোগ পেয়ে উদ্যোক্তাদের ধরে রাজি করালেন বিব্বিকে আসরে গান গাওয়ানোর জন্য। রাজি হয়ে গেলেন সেই

গওহরজান

উদ্যোক্তারা। মা-মেয়ের কাছে দৌড়ে এলেন জামিরুদ্দিন।মা রাজি, মেয়ের মতামতের প্রশ্নই নেই। মেয়েকে নিয়ে স্টেজের দিকে হাঁটা দিয়েছেন জামিরুদ্দিন, এমন সময় মুশতারির দিকে ফিরে বললেন— ‘কিন্তু,বিব্বি নাম তো চলবে না।’ মুশতারি এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন— ‘বলুন, ওর নাম আখতার। সৈয়দ আখতার।’মুশতারি জানতেন, অসগর হুসেনের ছেলের নাম আখতার। জামিরুদ্দিন বললেন— ‘না, ওর নাম আখতারি।আখতারি বাঈ ফৈজাবাদি।’বিব্বির দ্বিতীয় জন্ম হলো। আসর মাত করে দিল সেই এগারো বছরের মেয়ে। তখন কলকাতার রইসদের তারিফ পাওয়া ছিল হিন্দুস্থানের গাইয়ে-বাজিয়েদের চূড়ান্ত শিলমোহর। খবরের কাগজওয়ালারা উচ্ছ্বসিত, ঘোষিত হল এক নতুন নক্ষত্রের আগমন। মেগাফোন সংস্থার বড়কর্তা জে এন ঘোষ চুক্তি করলেন আখতারির সঙ্গে।
কলকাতার রিপন ষ্ট্রিটে ফ্ল্যাট হল। গাড়ি হল।নতুন ডিস্ক বেরোল।বাকিটা ইতিহাস।

বেগম আক্তার

এই গানের পাখিদের মধ্যে ঝগড়ার গল্পও কিছু কম নেই। লড়াই-ঝগড়ায় আরেক কিংবদন্তীসম গায়িকা গওহরজান কিছু কম যেতেন না। অবশ্য ঝগড়া নয়, মানুষকে অপমান করে আনন্দ পেতেন। একবার কলকাতার কোনও এক আসরে তাঁর আগে গান গেয়েছিলেন বেনজির বাই নামে এক তবায়েফ। অসাধারণ সুন্দরী, কিন্তু অতি সাধারণ মানের গায়িকা। তাঁর ধ্রুপদ, ধামার শুনে গওহর বলেছিলেন, ‘বহেন, তুম পালংপর বড়ি অচ্ছি সজোগি মগর অ্যায়সে ম্যাহ্ফিলমে বৈঠনেকা হায়সিয়ৎ তুমহারি নহি হ্যায়।’ বাংলায় কথাটার অর্থ দাঁড়ায়, বিছানায় তোমায় খুবই মানাবে, কিন্তু এমন আসরে গান গাওয়ার যোগ্যতা তোমার নেই।’
এই অপমানে বেনজির কাঁদতে কাঁদতে ট্রেন ধরে সটান দ্বারভাঙায় পৌঁছলেন। তিনি দ্বারভাঙার মহারাজের কাছেই থাকতেন। পর দিন সকালে, হাড় কাঁপানো শীতের ভোরে ওস্তাদ আজিম বক্শের দরজায় কড়া নাড়লেন গিয়ে। বক্শ সাহেব সেই ভোরে বেনজির কে দেখে অবাক। বেনজির কাঁদতে কাঁদতেই ওস্তাদের পায়ের কাছে নিজের গয়নার পুঁটুলি রেখে বললেন, আমার যা আছে, সব আপনার, কিন্তু আমায় এমন তালিম দিন যেন কলকাতার সব রহিসের সামনে গওহরের মুখে চুনকালি মাখিয়ে আসতে পারি। ওস্তাদ প্রথমে রাজি হন নি। পরে বেনজিরের বিস্তর সাধ্যসাধনায় বলেছিলেন, চেষ্টা করে দেখতে পারি। কিন্তু, বছর পাঁচেক খাটতে পারবে তো?বেনজির এক কথায় রাজি। তারপর পাঁচ বছর ধরে সেই গুরুর কাছে তালিম নিয়ে আবারো কলকাতায় গিয়ে একই আসরে গওহর জানের সঙ্গে গান গেয়েছিলেন বেনজির। সে আসরে ধ্রুপদ আর ধামার গেয়ে সব মাৎ করে দিয়েছিলেন। গোটা দেশের সঙ্গীতপ্রেমী শ্রোতাদের নয়নের মনি গওহরজান বাঈয়ের মাথা নিচু হয়ে গিয়েছিলো।

রবি শংকর

ওস্তাদ ফৈয়াজ খানের গানে একবার বৃষ্টি নেমেছিলো। রাগের নাম মেঘমল্লার। সৈয়দ মুজতবা আলীর পঞ্চতন্ত্র বইতে এই ঘটনার উল্লেখ আছে। তিনি ভারতের যে শহরে গান গাইছিলেন সেখানে সে বছর তীব্র গরম পড়েছিলো।বৃষ্টি নামতে আরো মাস দুয়েক বাকী। মুজতবা আলী লিখেছেন, ‘ফৈয়াজ খান অতিথিদের সামনে গাইতে বসে ‘যেন তিনি তাঁর সমস্ত সাধনা, সমস্ত ঘরানা, সমস্ত সৃজনীশক্তি, বিধিদত্ত গুরুদত্ত সর্ব কলাকৌশল সেই সঙ্গীত সম্মোহন ইন্দ্রজালে ঢেলে দিলেন। আমরা নির্বাক্ নিষ্পন্দ হয়ে যেন সর্বলোমকূপ দিয়ে সে মাধুরী শোষণ করছি।’

এমন সময় বাইরে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টি দেখে স্বভাবতই সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে খান সাহেবকে অভিনন্দন জানালো। খান সাহেব কিন্তু গালে হাত দিয়ে চুপ করে বসে রইলেন। তার পর ভোর রাতে যখন ভৈরবী গেয়ে আসর শেষ হলো, তখন সব অতিথিরা বিদায় নিলে খান সাহেব মুজতবা আলির কাছে বিদায় নিতে এলেন। একটু চুপ করে থেকে বললেন, ‘আচ্ছা সৈয়দ সাহেব, লোকে আমাকে এই রকম লজ্জা দেয় কেন বলুন তো? আমি কি গান গেয়ে বৃষ্টি নামাতে পারি?’
মুজতবা আলির উত্তরটিও অবিস্মরণীয়। তিনি বলেছিলেন, ‘সে জানেন আল্লা। আমি শুধু জানি, অন্তত আজ রাতে তিনি আপনার সম্মান রাখতে চেয়েছিলেন।’

ফৈয়াজ খাঁ

আত্নজীবনী লিখেছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক পন্ডিত রবি শঙ্কর। বইয়ের নাম ‘রাগ-অনুরাগ’। সেখানে ভূমিকায় তিনি লিখেছেন ‘যখন ভাবি এই লেখাগুলোর মধ্যে আমি কতখানি নিজের দোষ স্বীকার করে উঠতে পেরেছি তখন আর আমার আফসোস থাকে না। হাজার হোক আমি তো দেবতা নই। যারা আমাকে দেবতা জ্ঞান করেন তারা যদি আজ আমাকে রক্ত-মাংসের মানুষ মনে জেনেও ভালোবাসেন তবেই না জীবন সার্থক। সুরের পৃথিবীকে জয় করেও তারা জীবনের অর্থ এমনিভাবেই অনুসন্ধান করেছেন, খুঁজেছেন মানুষের ভালোবাসা।

আমীর খাঁ

এমনি ভাবেই এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ সাহেব বলেছিলেন, স্বর জানলে সঙ্গীত জানা যায়। আমাদের সাতটা স্বর আছে। এক-একটা স্বর আয়ত্তে আনতে ১২ বছর সময় লাগে। তা হলে সাতটা স্বর ঠিকমতো বুঝতে বুঝতেই জীবন কেটে যাবে। তাই সঙ্গীতকে কখনো জানা যায় না।
ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একচ্ছত্র সম্রাট ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি খাঁনের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন আরেক ওস্তাদ আমীর খাঁ। পণ করেছিলেন যে ঠুংরি গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন বড়ে গোলাম সেই ঠুংরি কখনোই গাইবেন না তিনি। সেই প্রতিজ্ঞা বজায় রেখেই গানের শ্রোতার মন জিতে নিয়েছিলেন এই ওস্তাদ।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রয়াত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা থেকে জানা যায়, একবার এক গানের অনুষ্ঠানে আমীর খাঁকে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে বলেছিলেন বাংলা কবিতার আরেক প্রবাদ পুরুষ শক্তি চট্টোপাধ্যায়। শক্তি তখন মদের নেশায় টালমাটাল। তাঁর প্রশ্নে খাঁ সাহেব গান থামিয়ে বলেছিলেন ‘ওই গান আমি জানি না।’ তখন শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে শুরু করেন। গান শেষ হওয়ার পর আমীর খাঁ মন্তব্য করেছিলেন, ‘এটা তো গান না, আমি ভাবছিলাম তুমি কবিতা আবৃত্তি করছিলে।’ তার কথা শুনে ক্ষিপ্ত রবীন্দ্র ভক্ত শক্তির সঙ্গে ঝগড়া লেগে যায় আমীর খানের।
এই আমীর খান কলকাতায় সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। মৃত্যুর কিছুদিন আগে সকালে রেয়াজ করছিলেন তিনি। এক গান্ধারে অকল্পনীয় সুর লাগলো তাঁর। খাঁ সাহেব গান থামিয়ে পাশে বসে থাকা বন্ধুকে নিচু গলায় বলেছিলেন, ‘‘আউর যাদা দিন নাহি গোবিন্দ, ইয়ে গান্ধার যিসে লাগ যাতা হ্যায়, ও ইনসান জাদা দিন নেহি রাহতা হ্যায়’’। বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, ‘‘এই সুর যার কাছে ধরা দেয় সে মানুষ আর বেশীদিন বাঁচে না গোবিন্দ’’।

সংকলিত

ইরাজ আহমেদ
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট, কুদরত রঙ্গীবিরঙ্গী, গানের হৃদয়।
ছবিঃ গুগল