ফেইরী পুলস এর ঘূর্ণী মেঘ আর ভু-স্বর্গ হাইলেন্ড -দুই

শেখ রানা (বার্কিং, লন্ডন)

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সূর্য ঝলমলে দিন। আজ আইল অফ স্কাই এ যাবো। সারাদিন গাড়ি নিয়ে এদিক-ওদিক। পোর্ট্রি হল যাত্রাপথের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে আইল অফ স্কাই আর অন্যদিকে ইনভার্নেস। যেখানেই যান, আপনাকে পোর্ট্রি হয়েই যেতে হবে।

পাহাড়ের শরীর চিরে লিকলিকে রাস্তা। একটা গাড়ি গেলে ওপরদিক থেকে আর এক গাড়ির আসার যো নেই। তবু কি সুন্দর ব্যবস্থা করে রেখেছে এরা। পাসিং প্লেস নামে রাস্তার ধারে একটু বাড়তি রাস্তা আছে। গাড়ি মুখোমুখি হলেই পাসিং প্লেসে গাড়ি থেমে গিয়ে বিপরীতমুখী গাড়িকে জায়গা ছেড়ে দেয়। নিয়ম কানুন দেখে মুগ্ধ হতে হয়।

পোর্ট্রি-র উত্তরপ্রান্তে আইল অফ স্কাই-এ আমরা এখন। যেতে যেতে ‘ওল্ড ম্যান অফ স্টর’ দেখি। ওল্ড ম্যান একদম সটান দাড়িয়ে থাকা প্রায় ২৩০০ ফুট উচ্চতার এক পাথরখন্ড। ভালো করে তাকালে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধের আদল পাওয়া যায়। স্টর রিজ এর সামনে এই ওল্ড ম্যানকে দেখে মুগ্ধ হই। আইল অফ স্কাই পুরোটা জুড়েই মুগ্ধতার ছড়াছড়ি।

স্টর এর সেই বৃদ্ধ লোক দর্শন শেষে প্রায় চল্লিশ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন গাড়ি চালিয়ে আমরা পৌঁছে যাই কিলট রক ওয়াটারফলে। ২০০ ফিট উলম্বভাবে উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে ঝর্ণা আটলান্টিকের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। কিল্ট রক ওয়াটারফলের এত শক্তিশালী শব্দ যে এখানে দাড়িয়ে পরস্পরের কথাই শোনা যায় না।

পোর্ট্রির প্রান্তে কিল্ট রক ওয়াটারফল

কিল্ট রক ঝর্ণা দেখতে ভিড় জমে গেছে। চারপাশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক। কিল্ট রকে বসেই ঝর্ণা প্রপাতের শব্দ শুনতে শুনতে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নেই। মিশুর বানানো স্যান্ডউইচ। আয়েশ করে খেয়ে যাত্রা শুরু হয় আবার।

আবারও চারপাশের বিস্ময়কর সৌন্দর্য চোখে ধরি। পাহাড়ের গায়ে আপনমনে সাদা ভেড়ার পাল ঘাস খায়। কোনো রাখাল বালক অবশ্য দেখি না। দূর থেকে দেখে ভ্রম হয় যে ভেড়াগুলো এক জায়গাতেই চুপটি মেরে ঘাসে মুখ গুজে আছে। নট নড়ন-চড়ন। তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে আমার হাসি পায়।

আমি ঝরে পড়া ছাত্র। কিছুদিন রাজশাহি বি আই টি-তে পড়েছিলাম। প্রথম বর্ষে ১১০ নাম্বার রুমে চারজন থাকতাম। আমি, অপু, রাসেল আর রনি। চারজনই তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলাম। প্রথম ক্লাসে ইলেক্ট্রিকাল সার্কিট বিষয়ের স্যার ঢুকেই কার বাড়ি কোথায় (বি আইটিতে দেখতাম নানা জায়গার নানা সমিতিও ছিলো। যেমন ময়মনসিংহ সমিতি, শেরপুর সমিতি, রংপুর সমিতি প্রভৃতি) জানতে চায়। রাসেল উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ির কথা বলতেই এক পশলা হাসির রোল। ওর বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা। সেই থেকে রাসেল হয়ে যায় ভেড়া রাসেল। আমার বেলায়ও কিঞ্চিত হাসাহাসি হলো। (আমার দাদাবাড়ি পাবনা) মেন্টাল বলে কেউ টিকাটিপ্পনী কাটার চেষ্টাও করল। সেটা বেশি দূর গড়ালো না যদিও। তবে রাসেল চার বছর ধরে ভেড়া রাসেল হয়েই রইলো।

ভেড়া আর রাসেল ছেড়ে আমরা চলে আসি কুইরেইং এর মাঝামাঝি। বিকেল বেলা। এক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। পাহাড়গুলো আরো নরম আর সবুজ মনে হয়। সূর্যের আলো পাহাড়ের গায়ে পড়ে এক ধরণের সবুজাভ আলো বিকিরণ করছে চারপাশে।

কুইরেইং এর পাথুরে পাহাড়গুলো খুব অন্যরকম। আইল অফ স্কাই এর অন্যান্য পাহাড় বা ল্যান্ডস্কেপ এর সঙ্গে কোথায় যেন একটু বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ে। পরে জানতে পারি হাজার বছর আগে ভূমিধ্বসের কারণে এখানকার পাথরের গঠন এমন হয়ে গেছে।

আজ মিশুর জন্মদিন। আইল অফ স্কাই এর সৌন্দর্যে বিমোহিত আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। কুইরেইং এ চলতি পথে একটা কফি শপ খুঁজে পেতেই নেমে পড়ি। তারপর কফি নিয়ে ছোট্ট একটা কেক কিনে ফেলি।জন্মদিনের কথা জানতে পেরে ক্যাফের লোকজনও সিডিতে ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’ গান ছেড়ে দেয়। পৃথিবীর সর্বাধিক বিক্রি হওয়া গানের তালিকায় এক নম্বর গান। কিন্তু গানের মূল গীতিকার বা সুরকারকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। অদ্ভুত ব্যাপার বটে!

ফিরতি পথ ধরি। অন্ধকারে গাড়ি চালানোর জন্য এই রাস্তা মোটেই অনুকূল নয়। দিনের আলো থাকতে থাকতেই আমরা কটেজে ফিরে আসি। আর একটা দিন শেষ হয়।

*****

আজ যাবো আইল অফ স্কাই এর প্রায় শেষ প্রান্তে। সকাল থেকেই সফরসঙ্গীরা উত্তেজিত কারণ আজকের ভ্রমণে ফেরি পারাপারের একটা ব্যাপার আছে।

সরু পথ ধরে পাহাড়ের আরো উপরে উঠে সোজা নেমে আসা একহারা সরলরৈখিক পথ। সুমন স্টিয়ারিং হাঁতে একটু টেনশনে। আমি পাশে বসে উদাস মুখে প্রকৃতি দেখি। ড্রাইভিং করা আদতেই কঠিন জিনিষ। এক সঙ্গে অনেক কিছুর উপর নজরদারী রাখতে হয়। এই গাড়িতে আবার রিভারক্রুজ নামে একটা রাজকীয় ব্যবস্থা আছে। এক্সিলেটর থেকে পা উঠিয়ে নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালানো যায়। শুধু স্টিয়ারিং ধরে বসে থাকতে হয়। তাজ্জব বনে যাই দেখে। সেটা অবশ্য সমতল হাইওয়েতে সম্ভব। এই পাহাড়ি এক চিলতে রাস্তায় নৈব নৈব চ।

ডানভেগান এর অবাক সীলকূল

কাইলারহিয়া ফেরি ঘাট। ঘাট বলতে একটা ছোট ফেরি আর একটা হতশ্রী টিকেট ঘর। দাদাবাড়ি পাবনা হওয়াতে ছোটবেলায় আব্বার হাত ধরে কত কত বার যে আরিচা-নগরবাড়ি করেছি তার ইয়ত্তা নেই। খান জাহান আলী, শাহপরান, শাহজালাল নামের সেই সব অতিকায় ফেরিতে ঘন্টার পর ঘন্টা যমুনা পাড়ি দিয়ে নগরবাড়ি যেতে হত। কাইলারহিয়া এসে আমি তাই বিশেষ কিছু চমকিত হই না।

একটু পর একটা ছোট্ট ফেরি এসে জেটিতে ভিড়ে। আমরাও উঠে যাই গাড়িসমেত। একটা বন্ধুবৎসল কুকুর অনেকক্ষণ থেকে ঘুরঘুর করছিল। এই ফেরিঘাটেই থাকে। ফেরি আসতে সেই কুকুরও উঠে পড়ে। আর সাগরের দিকে চেয়ে ঘেউ ঘেউ করে মাঝে মাঝেই নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। আমরা যখন ছবি তুলছিলাম খেলা বাদ দিয়ে গম্ভীর মুখে ফ্রেমের ভিতর এসে দাঁড়ায়। সে এক দৃশ্য বটে।

বিশ মিনিটে এপার থেকে ওপারে চলে যাই। আজ প্রথমে যাবো ডানভেগান দূর্গে। তারপর ফেইরি পুলস দেখে কটেজে ফিরবো। দুটোর কোনোটার সম্পর্কেই আমার সম্যক ধারনা নেই। লেখার সুবিধার্থে সব কিছু রেকর্ড করে রাখবো ভেবে একটা রেকর্ডার নিয়েছিলাম। সে সুবিধায় গুড়ে বালি। হু হু করে ঠান্ডা এই পাহাড়ি এলাকায়। ওভারকোটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াই।  রেকর্ডার আর বের করা হয় না।

ডানভেগান দূর্গে পৌঁছাই দুপুর বেলা। চমৎকার রোদ উঠেছে। সুভেনির শপে ঢুকে জানতে পারি ডানভেগান দূর্গ স্কটল্যান্ডের প্রাচীনতম দূর্গ। ১৩০০ শতাব্দীর দিকে এই দূর্গের গোড়াপত্তন শুরু হয়। ভিতরে একটা বাগান আছে। সেটা দেখতে চাইলে টিকেটের সঙ্গে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। মিশুর অপার আগ্রহ। সেই আগ্রহে সবার আগ্রহ যোগবোধক হয়। টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকে পড়ি। তবে দূর্গ পরিদর্শন নয়, ডানভেগান এর আসল বিশেষত্ব সীল মাছ দর্শনে। কারো তর সইছে না সে জন্য।

ঘুরে ফিরে বাগান দেখি। সুন্দর করে গোছানো চারপাশ। মাপমতন কাঁটা ঘাস আর ঝোপঝাড়। দেখে মনে হয় কে যেনো অনেকক্ষন ধরে স্কেল ধরে ধরে মাপজোখ করে বানিয়েছে। দেয়ালঘেরা বাগানে দেখি হরেক রকম জলে ভাসা পদ্ম।

ওয়ালড গার্ডেন ছেড়ে হাটতে হাঁটতে চোখে পড়ে ঝর্ণা। আইল অফ স্কাই এ এত ঝর্ণা দর্শন হয়েছে, আর অবাক হইনা। তবে ঝর্ণা দেখে অভিভূত হয়েছিলাম শেষদিন। ফিরে আসার দিন। সেই শব্দ, সেই টংকার মনে গেঁথে আছে এখনও।

বাগান ঘুরেফিরে সিল মাছকে দর্শন দিতে  দিক নির্দেশনা মেনে দূর্গের পিছনের দিকে হেঁটে যাই। এই দূর্গ পরিদর্শনের কিছু নেই। খোদ এডিনবরায় এর চেয়ে ঢের বড় দূর্গ আছে। আমরা তাই দূর্গের পাশ কাটিয়ে আটলান্টিকে নামার জন্য লাইফ জ্যাকেট পড়ে তৈরি হয়ে নেই। একটু পরে ইঞ্জিন চালিত নৌকা এসে থামে। হাতে ওয়াকি টকি নিয়ে স্কটিশ মাঝি হাসিমুখে আমাদের অভ্যার্থনা জানায়। এক এক করে উঠে যাই।

অপার্থিব ফেইরি পুলস এর ঘূর্ণি মেঘ

আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে নৌকা সামনে এগোয়। আমি সাঁতারে অপটু। মনে মনে বিষম খাই। ছোট্ট নৌকায় পাশ ফেরার জায়গা নেই। সবশুদ্ধ সাত জন আমরা। ঢেউ এসে আছড়ে পরে পাটাতনে। ডানভেগান দূর্গ দূরে সরে যেতে থাকে একটু একটু করে।

‘ওই যে, ওই যে সীল।‘

মিশুর আচমকা চিৎকারে সম্বিত ফিরে পাই। সীল এর সুডৌল পশ্চাৎদেশ ছাড়া অবশ্য নজরে কিছু পড়ে না। আমার আবার সেই যমুনা পার হবার কথা মনে পড়ে যায়। গাঙ্গেয় শুশুক ছিলো তখন। অনেকে দেশি ডলফিন বলতো। শিশু মাছও বলতে শুনেছি। ভুস করে ভেসে উঠে যমুনার অতলে তলিয়ে যেত নিমিষেই।

‘ওরে, কত সীল মাছ রে। ক্যামেরা দাও, ক্যামেরা দাও’।

তাকিয়ে দেখি আটলান্টিকে দুলতে দুলতে আমরা একটা কোরাল দ্বীপ এর কাছে চলে এসেছি। সেই কোরাল দ্বীপে এক ঝাঁক সিল মাছ রোদ পোহাচ্ছে। শুয়ে, আধ শোয়া হয়ে। বসেও হয়তো। অবশ্য সীল আদৌ বসে কিনা তা তো জানিনা। কি বড় চোখ সীল মাছের। বড় বড় চোখ টেনে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। চকচক করছে রোদে। দুর্দান্ত একটা দৃশ্য। প্রাণভরে সীল দর্শনের সুযোগ করে দিতে মাঝি নৌকার গতি কমিয়ে দেয়। কোরাল দ্বীপের সীল মাছগুলোর খুব কাছে চলে আসি আমরা। এদের নড়ন-চড়ন নেই। দেখেই বোঝা যায় এ রকম পর্যটক দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সীলকুল।

‘এসেছিস যখন, একটু জলে নেমে দেখাই’-এমন ভাব করেই একটা দয়াবান সীল টুপ করে আটলান্টিকে নেমে যায়। তারপর ডুবে  যায়, ভেসে ওঠে, ডুবে যায়। তাই দেখে আমরা হাততালি দেই।

মন ভরে সীল মাছ দেখে আমরা আটলান্টিক মহাসাগরে দুলতে দুলতে ডানভেগান দূর্গের মূল সমতলে ফিরে আসি।  তীর ঘেঁসে আটলান্টিকের এই পাড়টা অন্যরকম। কেমন মন উদাস হয়ে যায়। সমুদ্র দেখলেই বুঝি এমন লাগে। সচরাচর এত বিশাল কিছু তো চোখে আটকায় না দৈনন্দিন জীবনে। হঠাৎ কাছাকাছি এলে এ জন্যই কি আত্মায় একটা আলোড়ন হয়? আলোড়িত হয় মস্তিষ্ক?

ডানভেগানে সফল দর্শন শেষ করে আমরা আবার গাড়িতে সওয়ার হই। এবার যাবো  গ্লেন ব্রিটল এর কাছাকাছি ফেইরি পুলস এ। দুপুর যাই যাই করছে। বিকেলের আগমন বার্তায়ও রোদ অবশ্য ঠায় দাঁড়িয়ে।

ডানভেগান থেকে প্রায় ঘন্টা দুয়েক গাড়ি দাবড়িয়ে আমরা গ্লেন ব্রিটলে পৌঁছে যাই। কিন্তু ফেইরি পুলস আর খুঁজে পাই না। টমটমও কাজ করে না। বিপদ! এগিয়ে আসে ফিরতি পথ ধরা পর্যটকেরা। গাড়ি ক্রসিং এ এক ভদ্রলোক জানায় আর মিনিট পাঁচেক গেলেই দেখা যাবে অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ওটাই ফেইরি পুলস।

অনেক গাড়ি দেখে আমরা বুঝে যাই ফেইরি পুলস এ এসে গেছি। গাড়ি থেকে নেমে দাড়াতেই বুকের ভিতর ধক করে ধাক্কা লাগে। এ আমি কি দেখছি!

সুবিশাল পাহাড় এর সমাহার। আর সেই সমাহারে সাদা মেঘ ঘূর্নির মত ঘুরপাক খাচ্ছে ধীরে, খুব ধীরে। পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়ে ফেলা সেই ঘূর্ণিমেঘের এক বিরাট টুকরো দেখে মনে হচ্ছে, আকাশ থেকে এক খন্ড মেঘ আলাদা হয়ে সেই পাহাড়ের ভিতর এসে হারিয়ে গেছে যেন। তারপর অনন্তকাল ধরে ঘুরছে। এই দৃশ্যটা পার্থিব কোনো দৃশ্য না। আমি স্থানুর মত দাঁড়িয়ে থাকি ঠায়। পা নড়ে না। হু হু করে বুক। এত সুন্দর কিভাবে আমার চোখ ধরবে? চোখের কালো ছুঁয়ে মনের গহীনে ঢুকে যাবে কোন আধ্ম্যাতিক অদৃশ্য স্পর্শে?

আইল অফ স্কাই এ এসে আমি দলছুট হই। ফেইরি পুলস এর অজানায় নেমে যেতে থাকি মন্ত্রমুগ্ধের মত। যত সামনে যাই তত পাহাড় আর পাহাড়ের চারপাশে আটকে থাকা ঘূর্নিমেঘ এগিয়ে আসে। সে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। মেঘের কাছাকাছি যাবার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় অনেকের হয়েছে, কিন্তু এ রকম পাহাড়ের মাঝখানে ঘূর্নিমেঘ এর নৈকট্যলাভ অপার্থিব। স্বপ্নদৃশ্যের মত।

ফেইরি পুলস বা পরীদের পুকুরের মূল জায়গাটায় পৌঁছাতে এই ট্রেইল ধরে প্রায় চল্লিশ মিনিটের মত হেঁটে যেতে হয়। পরে ফিরে এসে জেনেছি মুল জায়গাটা আর এক বিস্ময়। পাহাড়ের চারপাশ থেকে ঝর্ণা এসে পড়ছে আর সৃষ্টি হচ্ছে এক নীলাঞ্চল। নীল পুল। সাফির খুব ছোট। ওকে নিয়ে এত দূর যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

আমাকে তাই ফিরে আসতে হয় দলে। লোকালয়ে। মানুষের মাঝে। ফেইরি পুলস ছেড়ে। ঘূর্নি মেঘ ছেড়ে।

ছবি: লেখক