ভাবনাটা একান্তই আপনাদের ব্যাক্তিগত

বচ্চন গিরি

(কলকাতা থেকে): এই শহরের বুকে থুড়ি সমাজের বুকে কতো শত শত ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন| খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিং….|

এই কদিন আগেই শহরের একটি হলঘরে ভর্তি দর্শক| স্টেজ থেকে পর্দা সরেছে| নাটক শুরু হবে এমন সময় হঠাৎ একজন যুবতী মেয়ে চিৎকার করে উঠলো “হোয়াট্ ননসেন্স? তোর বাড়িতে মা বোন নেই শুয়োর|” হল জুড়ে হৈ চৈ পড়ে গেল| একটি বছর পঁচিশের ছেলেকে মারতে মারতে হল থেকে বের করছে উত্তেজিত জনতা| নীল – সাদার ডোরা চকচকে জামাটা নিমেষে ছেঁড়া| মারের চোট এতো তীব্র ছিল যে ছেলেটি শেষ অবধি সেন্সলেস হয়ে যায়| ঘটনাটা বুঝে উঠতে সময় বেশি লাগেনি| ছেলেটির অপরাধ ছিল সে ওই মেয়েটিকে বলেছিল “ম্যাম আপনার জামাটা ঠিক করুন| সাদা ফিতেটা বেরিয়ে এসেছে|” ব্যাস! শুরু হল ভোজন কির্তন…..
ছেলেটি হয়তো মেয়েটির আব্রু বাঁচাতেই কথাটা বলেছিল, এমনটা হতেই পারে| কিন্তু ঘটলো অন্য কিছু| এই ছবিগুলো খুব চেনা|

সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের রুচিরও যথেষ্ট পরিবর্তন যে হয়েছে তা ফেসবুকে চোখ মেললেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে| একটি পেজে দেখলাম এক মহিলার অর্ধ ঢাকা শরীর দিয়ে ট্রল করছে ‘বৌদি’ উল্লেখ করে নানান ধরণের কুরুচীপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে| এখানে খুব বাধ্য হয়ে দুটো কথা বলছি,

প্রথমতঃ যে মহিলার ছবি দেওয়া হয়েছে সেই মহিলার ছবি কোথায় পেলো? যদি সেটা শুধুমাত্র মডেলিং হয় তবে কেন ওই মহিলার ছবি ট্রল করা হল? মহিলা যদি মডেলিং না করেন তবে ওই অবস্থায় ছবি কেন তুলেছেন বা অপরপ্রান্তে থাকা মানুষটিকে কেন ছবি তুলতে দিয়েছেন? এতে কি মেয়েটির সন্মানহানী হলো না?

দ্বিতীয়তঃ ‘বৌদি’ শব্দটি কতোটা পবিত্র তা হয়তো ট্রল করা পেজটির অ্যাডমিন ভুলে গিয়েছেন অথবা উনার বাড়িতে বৌদি, মা, বোন নেই অথবা উনি নিজের বৌদিকে ওই অবস্থায় দেখে অভ্যস্ত নতুবা স্বচ্ছন্দবোধ করেন|

জানি কথাটা গায়ে জ্বালা ধরাবে কিন্তু না বলেতো উপায় নেই| এরা এরকম করে ট্রল করার সাহস পায় কোথা থেকে? দেখলাম কিছু ছেলে, যুবতী ও মহিলা খুব সহাস্য বদনে সেটা নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করে দাঁতও ক্যালাচ্ছে| তাহলে কি ধরে নেওয়া উচিৎ এখানে? একটা ছোট্ট প্রশ্ন রাখলাম, মহিলারাই কি আদপে মহিলাদের সন্মানটাকে নিচে নামাচ্ছেন না? একটু ভেবে দেখুনতো……

উক্ত পেজের অ্যাডমিন কে বলছি, আপনি হয়তো জানেন না তাই জেনে রাখুন একজন বৌদি একজন ভালো বন্ধু হয়, একজন ভালো দিদি হয়, একজন মায়ের মতো আগলে রাখতে পারে, একজন মায়ের মতো শাসন করতে পারে| আপনার মতো অসুস্থ ব্যাক্তি আসলে সম্পর্কের মানেই বোঝেন না| সোজা কথা বলছি ভাই আপনাকে হাতের কাছে পেলে উদ্দাম ক্যালাব|

কিছুদিন আগে ‘বাঁকুড়া মিম’ নামক একটি পেজ ক্যান্সার রোগীকে নিয়ে কুরুচীপূর্ণ ট্রল করেছিল| আপনাদের প্রতিবাদ দেখেছিলাম| এবার একজন মহিলাকে নিয়ে ‘Dont Angry Me’ নামক একটি পেজ ট্রল করলো| তারা রবি ঠাকুরকেও ছাড়েনি নীচে নামাতে| এখনো চুপ থাকবেন? আচ্ছা ধরুন যদি আপনাদেরই বাড়ির কোনও মহিলাকে নিয়ে কখনো ট্রল করে তখনও এভাবেই দাঁত ক্যালিয়ে শেয়ার করবেন তো? প্রশ্নটা আমার, ভাবনাটা একান্তই আপনাদের ব্যাক্তিগত|