মন জুড়ানো শিলং…

কাকলি পৈত

পাইন, ঝাউ,  দেওদার, রোডডেনড্রন ,বাঁশ আরো অনেক নাম না জানা সরলবৃক্ষের ছায়ায় ঘেরা খাসিয়া, জয়ন্তিয়া ,গারো পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ সর্পিল গতিতে এগিয়ে গেছে শিলং শহরের ভিতর। চারিদিকে নামী অনামী  নানা বর্নের মরশুমী ফুলের সমারোহ আর সবুজ গালিচা পাতা শিলং পাহাড়ে যতবারই আমি আসি চোখে এঁকে নিই সৌন্দর্যের মায়াকাজল।আকাশে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের নানা রঙের খেলা। গোলাপ, গ্লাডিওলি আর চেরী ফুলের সুবিস্তৃত প্রান্তর,প্রকৃতির   খামখেয়ালিপনায় রোদ ,মেঘ, বৃষ্টির লুকোচুরি , পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে আবেশে ভেসে বেড়ানো মেঘপুঞ্জ,পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা জল নূপুরের
নিক্কন এক অসাধারণ স্বর্গীয় সৌন্দর্য তৈরী করে। প্রকৃতির এই রাজকীয় সৌন্দর্য দেখলেই মনে হয় এরকম পরিবেশ ছাড়া অমিত আর লাবণ্যর প্রেমের কলি আর কোথায় ই বা পাপড়ি উন্মীলিত করতে পারতো!!

শিলং পাহাড়ের নৈসর্গিক  প্রেক্ষাপটেই রবীন্দ্রনাথ তার রোমান্টিক  মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক প্রেমের কালজয়ী উপন্যাস শেষের কবিতা লিখেছিলেন। উপন্যাসের নায়ক  অমিত রায়কে ভ্রমণের জন্য শিলং পাহাড়ের একাকীত্বের নির্জনতায় পাঠিয়েছিলেন। কবির ভাষায় বলা যায় এখানকার প্রকৃতি সত্যিই মন দিয়ে চেখে দেখতে হয়। ট্যুরিস্ট এর দুচোখ দিয়ে গিলে খাবার
মতো নয়। পাহাড়ের  শ্যামল সবুজ সৌন্দর্যে  অমিত আর লাবণ্যর  প্রেম প্রস্ফুটিত হয়ে ধীরে ধীরে উদ্ধত হয়ে অজেয় হয়েছে। অমিত আর লাবণ্যর চরিত্র  ও রবীন্দ্রনাথ এখানকার প্রকৃতির আদলেই তৈরী করেছিলেন।প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আছে অমিতের চরিত্রে। আর লাবণ্যকে সমস্ত শিলং পাহাড়ের সৌন্দর্যের আধার করে তুলেছিলেন।অমিতের জীবন থেকে লাবণ্য চলে যাবার পর সমস্ত শিলং পাহাড় শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল অমিতের কাছে।এখানকার প্রকৃতি নানাভাবে  তাদের  প্রেমের  পটভূমিতে  অন্যতম চরিত্র হয়ে উঠেছে।। যদিও শেষের কবিতার মূল্যায়ন আলোচ্য বিষয় নয়। তবুও কোথাও যেন শিলং এর প্রকৃতি, রবীন্দ্রনাথ আর শেষের কবিতা  অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
চেরাপুঞ্জি , মৌসিনরামের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে মেঘেদের ইতি-উতি ভেসে বেড়ানো দেখে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করেন মেঘ তোমার ঘর কোথায়?মেঘের  উত্তর হবে একটাই ‘মেঘালয়’। এছাড়া নারটিয়াং, মউলিনাং প্রতিটি জায়গাই মনোমুগ্ধকর।  অজস্র প্রাকৃতিক গুহা, উষ্ণ প্রস্রবন,বাংলাদেশ সীমান্ত
তামাবিল যাবার পথের দুধারে নদী,  সবুজ পাহাড়, খরস্রোতা ঝর্ণার নয়নাভিরাম দৃশ্য শিলং শহরে বারবারই যেকোনো মানুষকে টেনে আনবে।  সীমান্তে
কাঁটাতারের বেড়া  থাকলেও মন চাইবে সীমান্তের নদী জলাভূমি পেরিয়ে ও দেশে পৌছে যাই। আর তামাবিল সীমান্ত পার করতে পারলেই সিলেট শহর আপনাকে স্বাগত জানাতে তৈরী।

ওপার বাংলার অনেক মানুষজন যারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত তামাবিল ঘুরতে আসেন তাদের সঙ্গে গল্প আলাপচারিতা ও যথেষ্ট উপভোগ্য। এককথায় প্রকৃতি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির কোলে  এক অনুপম সৌন্দর্যের শহর তৈরী করে রেখেছে আমাদের সকলের জন্য।প্রকৃতিপ্রেমিক মানুষদের জন্য যারা খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চান প্রকৃতিকে,মনের খাতায়
এঁকে রাখতে চান প্রকৃতির ছবি তাদের জন্য রপসী
শিলং এককথায় অনবদ্য।

ছবি: গুগল