প্রেমের ঘুড়িটাকে নাটাইয়ের সূতোয় বাঁধতে চাওয়াটাই বোকামী

লুৎফুল হোসেন

টোল, কপোল, চিবুক ও ওষ্ঠ, গ্রীবা কি কর্ণলতিকা . . . ভারী ও দীর্ঘ নি:শ্বাস চুঁইয়ে নেমে আসুক প্রেম তার ঢেউয়ের নাচনে চুল ও আঁচল বেয়ে একান্ত আপন খেয়ালে । স্নানের জলের মতোন অবারিত দ্বিধাহীন গড়িয়ে নামুক সে বৃত্তবিম্ব ভাঙ্গা কটি ও নিতম্বে, সাহসী পায়ের কাছে নির্ভার পতনে সে ধরা দিক পরাজিত সৈনিকের মতোন । তাকে ঠিক এমনই শর্তহীন স্রোতের মতোন বইতে দেয়া হোক জলে-জমিনে কী অন্তরীক্ষে । তবেই উদ্বেল উৎসরণ তার বেড়ে উঠবে নির্ভার। কচি লাউডগা কি কুমড়ো লতা… বাড়বে সে অনায়াস আর অনিমেষ তোমাকেই আঁকড়ে ধরবে ।
আর যদি চাও তুমি গড়ে নেবে তাকে আপন ইচ্ছের ভাষ্কর্যের মতোন। তাহলেই জানবে তার সৌকর্য বিকিয়েছে রথের মেলায় । দোকানীর দরদামে সরব বাজারে সাজানো পসারের ভীড়ে, কথা ও ভাবনা বিহীন নৈঃশব্দের বিলাপে, হারিয়ে যাওয়া সেই প্রাণ কখনোই তুমি আর পাবে না ফিরে।
কি চাই তোমার আসলে? ইচ্ছে ঘুড়ির ক্যানভাসে আঁকবে তাকে ? তারপর ওড়াবে খোলা আকাশে? নিজ হাতে নাটাইয়ের নিমগ্ন সাধ ও নাচনে ! তখন আর এক বিন্দু তাকাবে না সে অন্য কারো চোখে । কইবে না কথা কারো লাগি আপন সুখ ও যাতনা মাখি।
ওকে যেতে দিতে হবে নিদারুণ আপন খেয়ালে । এই আজ সোমেশ্বরী যেমন উত্তাল উপচে পড়ছে তার দেহের বাঁক ছাপিয়ে। তাকে যেতে দিতে হবে ঠিক তেমনি অবারিত উচ্ছলতার ভেলায় ভেসে আপন গমনে । উত্তাল হলে হবে । আপনিই ভাসিয়ে নিয়ে সে যাবে তোমাকে বোধ ও বোধগম্যতার অপার আড়ালে। মোহমত্ত আপন রতি-রীতি শৈলীতে । মেনে নিতে হবে তার দুর্মর উচ্ছাস, উন্মাতাল ভাঙ্গন । আপন খেয়ালে চুর চুর করে সে ভেঙ্গে ও ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তোমাকে। তাকে ঠিক অতটুকুন বল্গাহীন দিতে হবে যেতে খেয়ালী আপন গতিতে।
নদী ও প্রেম এমনই দুদ্দার ভাসিয়ে নিয়ে যাবে মানুষ ও তার সবটুকু অস্ত্বিত্বকে । তবুও তাকে বাঁধতে যেও না । যতোই উত্তাল সে হবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তুমি কেবল ভাসতে শেখো । বাঁচতে শেখো । নিড়ানি দিয়ে যাও সম্ভাব্য সকল দরোজা জুড়ে অপেক্ষমান বন্ধনহীন জীবনে। আপনাতেই সেই ভাঙ্গন গড়ে দিয়ে যাবে তোমাকে সকল গভীর নীলের অন্য পাড়ে, অনায়াসে । সবটুকু সাধ, ইচ্ছে ঘোড়া, জিরাফ গলা ও পাখির ডানার সমান । তোমার জ্ঞানগম্যতা ও ইচ্ছের অপার কোনো নির্মাণ কৌশলে।
ওকে তুমি এতোটুকুনও বাঁধতে যেও না, তাতে সে এমনই ভাসিয়ে নেবে যে কোনোভাবেই ফের গড়ে নেবার মতোন কিছু খড়-কুটোও আদৌ ফেলে রেখে যাবে না।
বলি তাই প্রেমের ঘুড়িটাকে নাটাইয়ের সূতোয় বাঁধতে চাওয়াটাই বোকামী । ওকে কেবলি যেতে দাও . . . কেবলি যেতে দাও . . . কেবলি যেতে দাও . . .।

ছবি: গুগল