ড্রিংক টুগেদার বাট নট ফ্রম দ্য সেম কাপ

লুৎফুল হোসেন

যেতে নাহি দেবো তবু যেতে দিতে হয় কাব্যছত্রের মতোন যেতে দিতে পারলেই তো সব ল্যাঠা চুকে যেতো জগতের। তা কি আর আদতে হয় ! হলে তো পৃথিবীর সিংহভাগ সমস্যাই আর পেতো না সূর্যালোক সাক্ষাৎ।
যেতে দেবো কি ! ” বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সূচাগ্র মেদিনী ” পণে দাঁত মুখ চেপে ধরে বেঁধে রাখতেই আমরা সবাই মরণ পণ ততপর।
পুরুষটির কাছে কাউকে ছেড়ে দেয়া বা আপন ইচ্ছে ভেলায় ভাসতে দেয়া মানে ক্রুসেডের পরাজয়ের চেয়েও অনেক অনেক বড় পরাজয়। পেতে তাকে হবেই। যে কোনো মূল্যে। প্রিয়া তার বাঁচুক কি মরুক। পাওয়া বলে কথা। আর যদি পেলো তো নারীটিকে তার জন্য সারাটা ক্ষণ থাকতে হবে অন্তহীন উন্মুখ। তার স্বপ্নছবি আঁকতে আঁকতেই প্রেয়সীকে করতে হবে প্রাণপাত।
আর প্রেয়সীর ইচ্ছে পুরুষটি কে হতে হবে শতভাগেরও বেশী একান্তই তার। ওখানে দু দন্ড থাকতে পারবে না নিজ মা কিংবা নিতান্ত আপন কেউ। এমন কি কখনো কখনো আপন সন্তানের ছায়াও। হেসে কথা বলতে হবে এমন দ্বিতীয় কারোই কিন্তু পৃথিবীতে পুরুষটির আর থাকার কথা নয়।
এই সব চাওয়া-চাওয়ি আর অধিকারবোধ, কি দখলদারিত্বের টানাটানিতে শিগগিরই শুরু হয় তাদের হাসফাঁস। প্রিয় লেখক জিবরানের কথাটা বাইবেলের মতোন সত্য “ড্রিংক টুগেদার বাট নট ফ্রম দ্য সেম কাপ”। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। মরণ যার ঘনিয়েছে তাকে ফেরাবে কোন সম্মোহনী ডাক?
এতোটুকু তাও মানা যায়। পুড়তে যার শখ সে পুড়ুক ! স্বপ্নবাজ হবার আকাঙ্ক্ষায় দাবানলের ভেতর ডানা মেলে দুর্মর উড়তে চায় উড়ুক। কিন্তু যদি সেখানে নেমে আসে সহিংসতা আর জিঘাংসা, তাহলে সর্বনাশ। নরকেও অমন ন্যাক্কারজনক কিছু না ঘটুক।
সেই নরককে তাও না হয় সামাল দেবে সচেতন সমাজ। সোচ্চার সক্রিয় সুশীল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভাবনার ডালপালায় যখন জন্ম নিতে থাকে সংকট . . . সে এক দুর্বিসহ নরকের অধিক নরক।
দেখেছো কেমন নিত্য পার্কে বেড়াতে যায়, বিকেলে এক সঙ্গে বাদাম খায়, বাড়ী ফিরে সংসার সামলায়, বছর বছর বিদেশ বেড়ায়, কি অপরূপ হীরের গহনা দিয়ে প্রিয়া ও গৃহিনী সাজায়?
আহা জামাটা, জুতোটা, শেভিং রেজর, রং মেলানো টাই. . . এসবের বিন্দু বিসর্গ খবর কিছু রাখো নাকি ! কেমন পরিপাটি লাল পাড় আর লাল টিপে ভূবন ভোলানো সেজে থাকে, যেনো অনন্ত কাল শুধু তার উনার আসার অপেক্ষায় বসে থাকে। ওসবের বিন্দু বিসর্গ তুমি কিছু জানো নাকি!
জীবনটাই গেলো। একে একে দেখতে দেখতে তার ষোলো আনাই নিতান্ত মিছে হলো !

কি ঠিক বলছি নাকি? জীবনটা তাহলে কি? কেবলি শুভংকরের ফাঁকি !

ছবিঃ গুগল