ফেইসবুক থেকে

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।                                                                      

                                                                       আম্রিকাতে ভুতের ভয়ে কাবু আমি
paula rahmanপলা রহমান  (আমেরিকা থেকে):ঢাকায় থাকতে আমি সবাইকে ভুতের ভয় দেখাতাম। প্রীত,আম্মা,আমার বোন,পিচ্চি ননদ সবাইকে। ভয় দেখাতে আর ভয় পেতে এতদিন আমার ভালই লাগত।খুঁজে খুঁজে হরর মুভি দেখি আমি। ভয় পাই।রাতে আমি ঘুমানোর আগ পর্যন্ত প্রীত,নাহলে আদি, আবিকে জাগিয়ে রাখি। তবে এইসব ভয়ের কোনটাই কয়েক ঘন্টার বেশি স্থায়ী হত না।সকাল হলেই ভুলে যেতাম।
কিছুদিন হল আমি নিউজার্সিতে আমার মামা শশুড়ের বাসায়। মামা নতুন বাড়ি কিনেছে।এক তলা,ছবির মত সুন্দর একটা বাড়ি। নতুন বাড়িতে এসে মামি আর আমি দুজন মিলে কোমড় বেধে কাজ করছি। মামি কেঁচো ভয় পায়।আমিও পাই,তবে মামির থেকে কম। ব্যাকইয়ার্ডটা তাই আমিই পরিষ্কার করলাম। সবই ঠিকঠাক ছিল।সমস্যা হল,তিনদিন আগে পাশের বাসার আঙ্কেল আমাদের ভুতের ভয় দেখিয়ে দিল ।উনি সরল মনে কিছু সত্যি ঘটনা শেয়ার করলেন। এক রাতে উনাদের পাশের স্প্যানিশ ভদ্রলোকের বাড়ির ব্যাকইয়ার্ডের বেড়ায় বড় ছায়ামত কিছু একটা এসে বসেছিল সারারাত। ভদ্রলোক আর তার ছেলে অনেক ঢিল ছুড়েও ওটাকে তাড়াতে পারেনি। আঙ্কেলের মতে এটা বানর কিংবা পেচা ছিল না।তাহলে ভয় পেয়ে চলে যেত। তাহলে কি ছিল ওটা? এখানে বিড়াল গুলো নাকি মাঝে মাঝে খুব অদভুত আচরন করে।ভয় পায় না।মানুষকে খুব মনযোগ দিয়ে দেখে! এছাড়াও আরো কিছু ঘটনা বলছিলেন,যেটা উনার চোখে অস্বাভাবিক লেগেছে।আমি দেখছিলাম মামির চেহারা ভয়ে সাদা হয়ে গেছে। আমারও গা শিউরে উঠছিলো।কিন্তু পরিস্থিতি নর্মাল করতে হাসাহাসি করলাম।একটু পর বাসায় আসার সময় পিছনের দরজায় নক করতে গিয়ে ব্যাকইয়ার্ডে গা ঘেষে দাড়ানো পাতা ছাড়া বিশাল গাছটায় চোখ পড়ল।কালো রাতের মাঝেও আরো ভীষন কালো একটা ছায়ার মত গাছটাকে ঠিকই বোঝা যাচ্ছে।আমার গা ছমছম করে উঠল। দমকা একটা বাতাস এসে তারে ঝুলানো কাপড়গুলোকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল।এখানে বাতাসের শব্দ শুনলে মনে হয় যেন,অনেকদুর থেকে অনেকগুলো ভারী বাতাস একসাথে হয়ে, গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে।বাচ্চাদের পা থেকে জুতো খুলে নেয়ার জন্য আর অপেক্ষা করলাম না।সবাইকে নিয়ে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়লাম!pranerbanglaA2fb
সেদিন রাতটা খুবই খারাপ কাটল।আমি যে রুমে থাকি সেটা বাসাটার একদম শেষের দিকে। আর রান্না ঘর হল একদম শুরুতেই।আমার ঘর থেকে রান্না ঘরে যেতে লম্বা করিডোর পার হতে হয়। কাঠের মেঝেতে হেটে গেলেই কেমন মচমচ শব্দ করে। ঘুমে নিঝুম বাসায় ওই শব্দ শুনলে মনে হয়,পিছনে ভারি পায়ে কেউ হেটে আসছে। বাথরুমের জানালা দিয়ে ব্যাকইয়ার্ড দেখা যায়।জানালার অল্প ফাক দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই মনে হল কেউ খুব কাছে দাড়িয়ে জোরে নিঃশাস ফেলল। জানালাটা নিজ হাতে বন্ধ করার সাহসটাও হল না আমার! শুতে এসে ভাবলাম প্রীতকে ফোনে ব্যপারটা শেয়ার করি,তাহলে হয়ত ভয় কিছুটা কমবে।প্রীত দুই লাইন শুনেই কানে হাত চাপা দিয়ে ঘোষনা করল, ও আর জীবনেও এই বাসায় আসবে না,সো এইসব গল্প ওকে শুনিয়ে লাভ নাই।
পরদিন দুপুরে বাসার পিছনে ভেজা টাওয়েলটা মেলতে গিয়ে শেডের নিচে রাখা চেয়ারটায় বসলাম কিছুক্ষন। ঢং ঢং করে একটা ঘন্টা বাজল কোথাও। অনেকক্ষন ধরে,থেমে থেমে ।মামার বাসার ঠিক উল্টাদিকে একটা বড় গির্জা।গির্জাতে কি ঘন্টা বাজায়?আমি ঠিক জানি না।নাকি পাশের বাসার কোন গ্র্যান্ড ক্লকয়ের আওয়াজ ওটা? ভাবতে ভাবতে সামনে তাকিয়েই দেখলাম, ধুসর একটা বেড়াল আমার মুখোমুখি বেড়ার উপর চুপ করে বসে তাকিয়ে আছে। কখন এলো এটা? হুস দিলাম,গেল না।এমনকি নড়লও না। মনে পড়ল যেদিন ব্যাকইয়ার্ড ক্লিন করলাম,ওইদিনও এই বিড়ালটা ঠিক এভাবেই এই একই জায়গায় বসে ছিল।বেড়া ডিঙ্গানোর কোন চেষ্টাই সে করে না। সেদিন এটাকে পাত্তা দিই নাই। কিন্তু আজ কেমন অসস্তি হচ্ছে! বড় একটা গাছের ডাল ওটার দিকে ছুড়ে মারলাম। বিড়ালটা পালালো কিনা জানি না,তার আগে আমিই দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেলাম।

এই যে আমি এখন লিখছি,এখানে এখন রাত বাজে একটা। বাইরে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে।কাঁচের জানালা বাতাসে থরথর করে কাপছে।ক্ষিধে পেয়ছে,রান্নাঘরে যাওয়ার আর সাহস নাই।। আদি, আবির জন্য কিনে রাখা চকলেট খাচ্ছি রুমে বসেই।আমাদের শুকনো কাপড় গুলো বিকেলে ঘরে আনা হয়নি। ওগুলো ভিজছে। ভিজুক!! আমি এখন নাকে কম্বল চাপা দিয়ে ঘুমাবো। কি বিপদে পরলাম!! ভয় লাগছে,আবার লজ্জাও লাগছে। যেখানে আমি সারাজীবন ভুত নিয়ে হাসাহাসি করে এলাম,এখন এই শেষ বয়সে এসে আমি ভুতের ভয়ে কাবু। তাও আবার কিনা আম্রিকাতে!!