বৈশাখে বানান বাতাসা, মুরলি…

বাতাসা, মুরুলি, গজার কথা মনে পড়ে বৈশাখ এলেই। বৈশাখের মেলার ভীড়ে ঘুরতে ঘুরতে অনেকেই বাড়িতে কিনে আনেন এইসব ট্র্যাডিশনাল খাবার। এবার বৈশাখে আমরা আমাদের পাঠকদের েজন্য তুলে ধরছি বাতাসা, মুরলির রেসিপি। ঘরে বসেই তৈরী করে নিন। উপভোগ করুন বৈশাখের আনন্দ।

pranerbanglaA2batosa

বাতাসা

উপকরণ :চিনি দুই কাপ, পানি এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, হাইড্রোজ আধা চা-চামচ, খাওয়ার সোডা এক চিমটি।

প্রণালি :চিনি ও পানি জ্বাল দিয়ে যখন ঘন হয়ে আসবে, তখন অনবরত নাড়তে হবে। যখন ফুসফুসে হয়ে আসবে, তখন হাইড্রোজ ও এক চিমটি খাওয়ার সোডা দিয়ে তাড়াতাড়ি তেল মাখানো পাটির ওপর বাতাসার মতো ছোট ছোট করে দিতে হবে। ঠান্ডা হলে পরিবেশন।

 

 

 

গজা

উপকরণ: ময়দা ২ কাপ, চিনি (খামিরের জন্য) ১ টেবিল-চামচ, সয়াবিন তেল আধা কাপ, চিনি (সিরার জন্য) ১ কাপ, গুঁড়ো দুধ সিকি কাপ, লবণ সিকি চা-চামচ ও তেল (ভাজার জন্য) প্রয়োজনমতো।gaja

প্রণালি: ময়দা, তেল, লবণ, চিনি ও গুঁড়ো দুধ দিয়ে শক্ত খামির বানাতে হবে। ১৫ মিনিট ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এবার ওই খামির দিয়ে সিকি ইঞ্চি পুরু রুটি বেলতে হবে এবং ওই মাপে চিকন করে লম্বা গজার মতো কেটে নিতে হবে। তেল হালকা গরম করে ওই তেলে গজাগুলো ছেড়ে মাঝারি আঁচে বাদামি না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে। এবার তেল থেকে তুলে টিস্যুতে ছড়িয়ে দিতে হবে। ১ কাপ চিনি ও আধা কাপ পানি চুলায় দিয়ে নাড়তে হবে কিছুক্ষণ। এবার তাতে গজাগুলো দিয়ে আবার নাড়তে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত গজাগুলো ঝরঝরা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নাড়তে হবে। এরপর নামিয়ে পরিবেশন।

murlipranerbanglaমুরলি

উপকরণ: ময়দা ২ কাপ, কালিজিরা ১ চা-চামচ, তেল (ময়দার জন্য) সিকি কাপ, তেল (ভাজার জন্য) পরিমাণমতো, চিনি (ময়দার জন্য) ২ টেবিল চামচ, গুড় (সিরার জন্য) ১ কাপ, লবণ ১ চা-চামচ।

প্রণালি: ময়দা, লবণ, তেল ও চিনি ময়ান দিয়ে কালিজিরা ছিটিয়ে পানি দিয়ে শক্ত খামির বানাতে হবে।
মোটা রুটি বেলে চিকন চিকন করে করে কেটে নিতে হবে। ডুবো তেলে ভাজতে হবে বাদামি করে মাঝারি জ্বালে।
এক কাপ গুড় দিয়ে ঘন সিরা বানিয়ে ঠান্ডা মুরলি দিয়ে পাক দিয়ে নামাতে হবে। হয়ে গেল মুরলি।
শিরার মধ্যে পছন্দমতো খাওয়ার রং (ফুড কালার) দিয়ে পাক দিলে রঙিন মুরলি হবে।
আখের গুড় দিয়েও এই মুরলির পাক দেওয়া যায়।

নকুলদানাnkuldana.pranerbangla

উপকরণ : চিনি দুই কাপ, পানি এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, হাইড্রোজ আধা চা-চামচ, বাদাম পরিমাণ মতো , খাওয়ার সোডা এক চিমটি।

প্রণালি : প্রথমে বাদাম ভেজে নিবেন তারপর বাদামের খোসা ছাড়াবেন কালো খোসাটিও ছাড়াবেন এরপর চিনি দিয়ে ঘন সিরা তৈরি করবেন তারপর সিরার মধ্যে বাদাম ছেরে নেরে নিবেন। মাখামাখা হয়ে গেলে নামিয়ে ঢাকনার উপর রাখবেন. ঠান্ডা হয়ে গেলেই পরিবেশন করতে পারবেন।

nimkipranerbanglaনিমকি

উপকরণ : ময়দা ২৫০গ্রাম, সাদাতেল ১০০ গ্রাম, লবণ পরিমাণ মতো , ভাজবার জন্য রিফাইন্ড তেল ।

প্রণালী : প্রথমে ময়দা চেলে নিন। এবার তাতে একে একে তেল, লবণ ও পানি দিয়ে ময়ান তৈরি করুন । খুব ভালো করে ঠেসে নিতে হবে খুব নরম যেন না হয় মাখাটা । আবার খুব শক্তও হবেনা ।এবার বড় ও মোটা করে রুটি বানিয়ে ছুরি দিয়ে লম্বা লম্বা করে কেটে নিতে হবে। ঢিমে আঁচে অনেকক্ষণ ধরে ভাজতে হবে রিফাইন্ড তেলে । তারপর তুলে রাখতে হবে ও ঠান্ডা হলে বয়ামে ভরে রেখে দিলে অনেকদিন থাকবে এই নিমকি ।

গুড়গুড়িgurmuri

উপকরণ : ময়দা ২৫০গ্রাম, সাদাতেল ১০০ গ্রাম, লবণ সামান্য , চিনি স্বাদ মতো , ভাজবার জন্য রিফাইন্ড তেল ।

প্রণালী : প্রথমে ময়দা চেলে নিন। এবার তাতে একে একে তেল, চিনি , লবণ ও পানি দিয়ে ময়ান তৈরি করুন । খুব ভালো করে ঠেসে নিতে হবে খুব নরম যেন না হয় মাখাটা । আবার খুব শক্তও হবেনা ।এবার বড় ও মোটা করে রুটি বানিয়ে ছুরি দিয়ে লম্বা লম্বা করে কেটে নিয়ে আবার ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে।তেলে ভাজতে হবে । তারপর তুলে রাখতে হবে ও ঠান্ডা হলে বয়ামে ভরে রেখে দিলে অনেকদিন থাকবে এই গুড়গুড়ি ।

paprpranerbanglaপাপড়

উপকরণ : সমপরিমাণ মুগ ও মাসকলাই ডাল গুড়া ( যেমন ১ কাপ করে দুই কাপ ) , এক কেজি পানি ফুটিয়ে নিয়ে ৮০ গ্রাম লবণ, ৫গ্রাম জিরা, ৫ গ্রাম কালজিরা, ৫ গ্রাম গোল মরিচের গুড়া, ৭০গ্রাম দই, ১০ গ্রাম খাবার সোডা, ১ গ্রাম হিং ও ১গ্রাম আমচুর ।

প্রণালী : সমপরিমাণ মুগ ও মাসকলাই ডাল একসাথে মিশিয়ে মেশিনের মাধ্যমে ভেঙ্গে গুড়া করা হয়। এক কেজি পানি ফুটিয়ে নিয়ে ৮০ গ্রাম লবণ, ৫গ্রাম জিরা, ৫ গ্রাম কালজিরা, ৫ গ্রাম গোল মরিচের গুড়া, ৭০গ্রাম দই, ১০ গ্রাম খাবার সোডা, ১ গ্রাম হিং ও ১গ্রাম আমচুর দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এরপর সমপরিমান মুগ ও মাসকলাই ডালের মিহি গুড়া/ময়দা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ মিশ্রিত ঠান্ডা পানি যোগ করে ৫-৮ মিনিট রোলিং করলে পাপড় তৈরির উপযুক্ত মন্ড তৈরি হয়। মন্ডটিকে লম্বালম্বি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে সুতা দিয়ে কেটে নেয়া হয়। গোল আকৃতির মসৃণ কাঠের পিঁড়িতে বেলুন দিয়ে চাপ দিয়ে কয়েকবার এপিঠ ওপিঠ করলে পাপড় তৈরি হয়। পাপড়ের ব্যাস সাধারণত ১০-১৪ সেমি ও পুরুত্ব ০.৬-০.৯ মিলিমিটার আকৃতির হয়ে থাকে। এগুলো ২০-২৫ মিনিট কড়া রোদে এবং পরবর্তীতে সারাদিন হালকা রোদে শুকানোর পর ঠান্ডা হলে পলিপ্রোপাইলিন প্যাকেটে ভরে ভালভাবে মুখ সিল করে ৮-১০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

অসিত কর্মকার  সুজন