কুরুক্ষেত্র

shapma rezaসংসার এক কুরুক্ষেত্র। রোজ সেখানে যুদ্ধ আর রক্তপাত। কিন্তু সে লড়াই অদৃশ্য। আমাদের জানার বাইরে ঘটে চলে সেই ক্ষরণ আর যুদ্ধ। প্রতিপক্ষ সংসারের স্বজনরাই। প্রাণের বাংলার এই বিভাগে আমরা সেই অদৃশ্য ক্ষরণের কাহিনি তুলে ধরতে চাই। আপনি জানাতে পারেন আমাদের সেসব কথা। গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে আমরা প্রকাশ করবো সেইসব কাহিনি।আর আপনার সমস্যা বিচার করে আপনাকে উপযুক্ত সমাধান দিবেন অভিনেত্রী ও সঙ্গীত শিল্পী শম্পা রেজা। 

আমার একমাত্র মেয়ে। এখন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। ছোটবেলা থেকেই একটু চুপচাপ ধরণের। কথা কম বলে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই দেখছি ওর বন্ধু সংখ্যাও একেবারেই হাতে গোনা কজন। ভেবেছিলাম বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিকতো হয়নি বরং মেয়ে যত বড় হচ্ছে আমার মনে হচেছ ও আরও বেশী নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেও ওর বনধু-বান্ধবের সংখ্যায় কোন পরিবর্তন আসেনি। যে দু একজন বনধু আছে, তাদের সঙ্গে ওর যোগাযোগও বেশ ক্ষীণ।কোন বনধু বাসায় এলে গল্পগুজব করে।  তবে নিজে থেকে কারো বাসায় যাওয়া তার খুব একটা পছন্দ নয়। আমাদের সঙ্গে কোথাও বাইরে যেতেও বেশী আগ্রহী হয় না।বাসায়ও খুব কম কথা বলে। কোন কিছু প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় এর বাইরে টুক- টাক দু একটা কথা প্রয়োজন পড়লে বলে। তবে মেয়ে বই পড়ে, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে ঝিম ধরে। রাত জেগে ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয় পড়াশোনা করে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে মেয়ে কি ক্রমশ নিঃসঙ্গতার বলয়ে ঢুকে যাচ্ছে? অভিবাবক হিসেবে ওকে কি আমাদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞর  কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত? না পুরো বিষয়টা স্বাভাবিক বয়সের ধর্ম? আপনার পরামর্শ পেলে খুব ভালো হয়।

আসিফ নেওয়াজ
কমলাপুর, ঢাকা

সমাধানঃ একমাত্র সন্তানদের অনেক সময় এধরনের সমস্যা হয়।মা-বাবার বাইরে সে খুব একটা মেলামেশা করতে পারে না।অনেক সময় এ সমস্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়।কিন্তু আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে যখন পরিবর্তন আসছে না সেক্ষেত্রে তার কাউন্সিলিং এর প্রয়োজন আছে। সেটা পরিবারের মধ্যেও হতে পারে। আর সেরকম মনে হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর  সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।