ভুলে যেতে চাই জীবনের ভুলগুলো – রিচি সোলায়মান

সকাল সকাল রিচি সোলায়মানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ। সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন। তখন একমাত্র ছেলেকে স্কুলের জন্য রেডি করা আর সংসারের কাজ চলতে থাকে। তারপর একটু ফাঁকা হয়ে মেডিটেশন। বলা যায় সারাদিন চলার রসদ জোগাড়।
প্রথম প্রশ্নটাই ছিলো বিষন্নতা নিয়ে। রিচি জানালেন, তিনি বিষন্ন হন না। তবে জীবনের সেরা কাজটা করার একটা আকাঙক্ষা আছে ভেতরে। সেই কাজটা করতে না পারার জন্য এক ধরণের কষ্টবোধ আছে এই অভিনেত্রীর ভেতরে। richi-solaiman-2
প্রায়আঠারো বছর ধরে অভিনয় করে চলেছেন। অসংখ্য একক নাটক আর ধারাবাহিক। কিছু লেখেন না কেন জানতে চাইলে সামান্য হাসলেন বোধহয়। বললেন, অনেক আগে লিখতাম। সেই ছোটবেলায় ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লিখতে চেষ্টা করেছি। তারপর এক সময় বয়স বেড়েছে। সে লেখাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। মাঝে রিচি নাটক লিখেছেন টেলিভিশনের জন্য-এই খবরটা অবশ্য রিচি-ভক্তদের জন্য পুরনো হয়ে গেছে।
বই পড়েন? রিচির সোজাসাপ্টা উত্তর, একটা সময়ে বই পড়া হতো। এখন সে অভ্যাসও বিদায় নিয়েছে। কাজ বড়বেশী ঘেরাও করে রাখে এখন।
শহর রিচির পছন্দ। এখন একসঙ্গে দুই শহরের বাসিন্দা তিনি। বড় হয়েছেন ঢাকা শহরে। নিউ ইয়র্কে বসবাস স্বামীর সূত্রে। রিচির দুই শহরই পছন্দের। ঢাকায় বেড়ে ওঠা, কাজ। আপন বলে মনে হয় এই শহরকে। অন্যদিকে  নিউ ইয়র্ক এখন সেকেন্ড হোম। ভালোই লাগে আলো জ্বলা ঝলমলে শহরটাকে। আত্নীয়-স্বজনেরা থাকে ওখানে। নিয়মতান্ত্রিক একটা জীবনও আছে সেখানে। মানুষ আইন মেনে চলে।
প্রশ্ন ছিলো তার কাছে, কী হতে চাননি জীবনে? রিচিও এক সেকেন্ড না ভেবে উত্তর দিলেন ব্যাংকার। পুরো ব্যাপারটাকে জটিল বলে মনে হয়।

এখন তিনটি ধারাবাহিকে কাজ করছেন রিচি। ঈদের নাটকের ব্যস্ততাও শুরু হয়ে গেছে। কাজের মধ্যে দিয়ে কোন ফাঁকে দিন পার হয়ে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারের শেষে  জানতে চাইলাম, জীবনে কী ভুলে যেতে চান?
এবারও সময় নিলেন না রিচি। চট করে জানিয়ে দিলেন, জীবনের ভুলগুলো। খুব দ্রুত ভুলে যেতে চাই।

কুসুম চৌধুরী