ফেইসবুক থেকে

ফেইসবুক এর গরম  আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতীকক্রিয়া।

                                             পন্ডিত রবিশঙ্কর হলেন বিশ্ব সঙ্গীতের দেব-পিতা

pranerbanglaA3জুয়েল আইচ: ‘পন্ডিত রবিশঙ্কর হলেন বিশ্ব সঙ্গীতের দেব-পিতা।’ জর্জ হ্যারিসনের এই অমর উক্তিটি আমি অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করি।12376630_1062904300436219_1135417826333650909_n
অত বড় হিমালয়সদৃশ ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে যে স্নেহ, ভালবাসা আর যোগ্যতার অতিরিক্ত মূল্যায়ন আমি পেয়েছি, তা আমার স্বপ্নেরও ঊর্ধ্বে।
তিনি বাংলাদেশে এলেই আমি থাকতাম তাঁর সর্বক্ষণিক ছায়া সঙ্গী।
একবার শিল্পকলা একাডেমী থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল। বাংলাদেশের সমস্ত সেরা সঙ্গীত শিল্পী, তা আধুনিক, পল্লী, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, উচ্চাঙ্গ সংগীতের ওস্তাদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,নৃত্য, নাটক,চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সমস্ত ক্ষেত্রে আত্মনিবেদিত ব্যক্তিত্বে বিশাল অডিটরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ।
বাংলাদেশের সমস্ত শিল্পীদের পক্ষ থেকে এই অধমকে নির্বাচন করা হল বক্তব্য রাখার জন্য। কল্পনা করা যায়? একমাত্র বক্তা! আমার বুক কতোটা ঢিপ ঢিপ করার কথা?
সমস্ত পত্রিকার ফটো সাংবাদিক আর টিভি ক্যামেরায় গিজগিজ করছে। মঞ্চে বসা পন্ডিত রবিশঙ্কর; আমার গুরুর গুরু। তাঁর প্রতি আমার গভীরতর শ্রদ্ধা। আমি মাইকে গিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখে চোখ পড়লো। তিনি ফিক করে হেসে দিলেন।
তাঁর সম্পর্কে আমি যথেষ্টই জানতাম। তাই ভয় ছিলনা মোটেই। তাঁর আদর মাখা হাসি আমাকে উচ্ছ্বসিত করে তুললো। তাঁর টেবিলেও মাইক ছিল।
বললাম,
— আমি কি কথা বলার মানুষ? ম্যাজিক দেখাতে বললে হয়তো চেষ্টা করে দেখতাম।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
— তাহলে ম্যাজিকও হোক।
আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। ম্যাজিক দেখালাম তাঁর নিজের হাতের মধ্যে।
তিনি বক্তব্য দিতে উঠে প্রথমেই বললেন,
— জুয়েলের জাদু আমার চোখে জল এনে দিয়েছে।
এই ভাষাতে প্রশংসা! আমার জীবনে এক পরম প্রাপ্তি।

                                                       রডডেনড্রন মানে শেষের কবিতা — অবশেষে এর দেখা পেলাম

1904206_360196460832793_6252812028003849498_nশাহানা হুদা (ঢাকা): স্কুল জীবনের শেষের দিকে এসে যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা ‘ বইখানি পড়েছিলাম, তখনও সেটার মূলভাবটি সেভাবে বুঝতে পারিনি । শুধু ভালবেসে ফেলেছিলাম অমিত রায় নামের মানুষটিকে । তার কথা বলার ঢং, কাব্য গাথুঁনি, কবিতা পাঠ, প্রগলভতা সবকিছু ।
আর এর চেয়েও বেশি ভাল লেগেছিল অমিত-লাবণ্যের সেই কবিতাখানি –
“ পথ বেঁধে দিলো বন্ধনহীন গ্রন্থি
আমরা দু’জন চলতি হাওয়ার পন্থি
রঙীন নিমেষ ধূলার দুলাল
পরাণে ছড়ায় আবীর গুলাল ranjona
ওড়না ওড়ায় বর্ষার মেঘে দিঙ্গগনার নৃত্য
হঠাৎ আলোর ঝলকানি লেগে ঝলমল করে চিত্ত ।
নাই আমাদের কনকচাঁপার কুঞ্জ
বনবীথিকায় কীর্ণ বকুলও পুঞ্জ
হঠাৎ কখন সন্ধ্যাবেলায়
নামহারা ফুল গন্ধ এলায়
প্রভাতবেলায় হেলাভরা করে অরুণ-কিরণে তুচ্ছ
উদ্ধত যত শাখার শিখরে রডডেনড্রন গুচ্ছ ।”
আরো একটু বড় হওয়ার পর বইটি আবার পড়লাম । অমিত রায়ের প্রতি ভালবাসাটা ফিকে হয়ে গেল। বরং এই চরিত্রটি বেশ অপছন্দই হলো । কিন্তু এই কবিতাটির প্রতি ভালবাসা দিনে দিনে বেড়েই গেছে । এখনও আমি মাঝেমাঝেই এই কবিতাটি পড়ি, আবৃত্তি করারও চেষ্টা করি ।
তবে সেই উদ্ধত রডডেনড্রন ফুলের দেখা পেলাম এইবার প্রথম ভুটানে গিয়ে, আমার ৫০ বছর বয়সে এসে। সত্যি এই ফুলের বড় গাছগুলো যখন অনেক উচুঁ পাহাড়ের গায়ে শাখা প্রশাখা মেলে দাড়িঁয়ে থাকে, আর তাতে অসংখ্য লাল টকটকে ফুল ফুটে থাকে, তখনই বুঝতে পারলাম কবি কেন এই ফুলটি সম্পর্ক এ বলেছিলেন ‘উদ্ধত যত শাখার শিখরে রডডেনড্রন
গুচ্ছ’ । উনি শিলং এর পাহাড়ে এই ফুলের দেখা পেয়েছিলেন ।
রডডেনড্রন পাহাড়ের ফুল । বসন্তের শেষে এর দেখা মেলে । অনেকগুলো রং হয় এর । সাধারণত উচ্চতা ভেদে এর রঙের তারতম্য হয় । আমরা পাহাড়ের গায়ে গায়ে যে রডডেনড্রন গুচ্ছের দেখা পেয়েছি, তার সবই প্রায় লাল বা গাঢ় কমলা । নীচের দিকে পেয়েছি হালকা বেগুনি, গোলাপি রঙের রডডেনড্রন। নেপালে নাকি রডডেনড্রন জাতীয় ফুল । কিন্তু আমাদের কাছে, মানে রবিঠাকুর পড়া বাঙালিদের কাছে রডডেনড্রন মানে শেষের কবিতা