ছাদের উপর এক টুকরো সবুজ পৃথিবী

ভেন্টিলেটরঃ মানুষের জীবন এখন যান্ত্রিক। প্রকৃতিও বড় অশান্ত । গাছপালা কাটা পড়ছে প্রতিদিন তাই বাড়ছে গরম, ওজন স্তর। এখন মানুষ এই গরম থেকে মুক্তির উপায় হিসাবে বাসায় অফিসে এসির ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে ফলে ঘর হয়ে যাচ্ছে গুমট ও অস্বাস্থ্যকর। এখন বাড়ির ডিজাইনে ভেন্টিলেশন রাখা হচ্ছেনা। এসি ব্যবহার করা হবে তাই। কিন্তু সবাই তো এসি ব্যবহার করেনা। ভেন্টিলেশন রেখে বাড়ির নকশা করুন। ভেন্টিলেটর একটি বাড়ির অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যখন বাহিরের বাতাস জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তখন গরম বাতাস ভারি হয়ে নিচে ঘুরতে থাকে এবং ওপরে উঠে যায় আর যখন বাহিরে বের হতে পারে না, তখন ঘরটি গরম হয়ে যায়। তাই ভেন্টিলেশন থাকা খুব জরুরি তাতে করে ঘরের গরম বাতাস বের হয়ে যায়। যাদের এসি আছে তারা ভেন্টিলেশনে স্লাইডিং জানালা ব্যবহার করবে। এখন বেশির ভাগ নকশাতে দেখা যায় ছোট ছোট ফ্ল্যাটে বড় স্লাইডিং গ্লাসের জানালা দেয়, তাতে করে ঝড়ের দিনে প্রচণ্ড বাতাসের চাপ থাকার দরুন অনেক সময় জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি হবার আশংকা থাকে। আবার ধুলোবালিতে ঘর খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়। তার চেয়ে বড় জানালা না দিয়ে ছোট ছোট জানালা ২ টি দিন। আর প্রাকৃতিক আলো-বাতাস আসা যাওয়ার জন্য ভেন্টিলেশন ব্যবহার করুন। আর ছাদে প্রচুর পরিমান গাছ লাগান।

াাাছাদেই হোক বাগান বাড়িঃ
এটি কোন বাগান বাড়ি নয়। যা দেখে মনে হচ্ছে সামনে বিস্তর জায়গা, আসলে কিন্তু তা নয়, এটি ছাদে করা একটি বাগান বা ল্যান্ডস্কেপ। কিভাবে করবেন এই ল্যান্ডস্কেপ বা বাগান?
এই কংক্রিট নগরীতে সবুজের ছোঁয়া যেন হারিয়েই যাচ্ছে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। কারন মানুষের জায়গা আর হচ্ছেনা। গাছ কেটে বাসস্থান তৈরী করছে। তাই প্রান ভরে একটু শ্বাস নেবার জন্য এখন ছাদে পড়ে থাকা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে করে নিন বাগান বাড়ি।
সবুজ ছাদ ব্যবহার করলে ছাদের আয়ু নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। খরচ ও কম। এছাড়া এরকম সৌন্দর্য বর্ধনের ফলে স্থাপনার সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
সবুজ ছাদ ব্যবহার করা হলে তা একেবারে উপরের তলার ঘর ছাদের কারণে অতিরিক্ত গরম হওয়া রোধ করে। কারণ খোলা ছাদের কংক্রিটে যখন সূর্যের তাপ এসে পড়ে, সেই তাপ কংক্রিট শোষণ করে এবং প্রায় পুরাটাই আবার নিচের দিকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গাছপালা সূর্যের তাপ পুরা শোষণ করে, সেই তাপ ব্যবহার করে নিজের সালোকসংশ্লেষন করে পাতার পানি বাষ্প আকারে বাতাসে ছেড়ে দেয়, তাই এক ফোটা তাপও গাছ ভেদ করে নিচের দিকে আসতে পারে না। যদি আসেও সেটা আবার মাটিতে থাকা পানিকে বাষ্পীভবনে ব্যয় হয়। ফলে উপরের ছাদ অন্য তলার ছাদের মতই ঠান্ডা থাকে।
কম পরিমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়, এর ফলে শতকরা ৫০ থেকে ৯০ ভাগ কম শক্তি খরচ করতে হয়। সবুজ ছাদ করলে এই অতিরিক্ত ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের স্থাপনা খরচ লাগে না – তাই ছাদ ও বাগান করার অতিরিক্ত খরচটা এখানেই পুষিয়ে যায়। সবুজ ছাদ করতে প্রতি বর্গমিটারে ২০ – ৪০ ডলার খরচ হয় বলে বিভিন্ন জায়গায় লিখেছে। আমাদের দেশের ডেভলপারদের করা সবুজ ছাদে এই খরচ আসে আরো অনেক কম (প্রায় ৭৫০ টাকা /বর্গমিটার)। তাহলে ব্যক্তিগত লেভেলে হিসাবটা এমন হতে পারে — আমার বেডরুমের আকার প্রায় ১২ বর্গমিটার (১ বর্গমিটার = ১০.৭৬ বর্গফুট)। এটার উপরে সবুজ ছাদ দিতে খরচ হবে প্রায় ৯০০০ টাকা। ১.৫ টনের এসির বদলে ১ টনের এসি কিনতে আমার কমপক্ষে ৯০০০ টাকা সাশ্রয় হলে সবুজ ছাদ করা সৌন্দর্যের মূল্য বাদেই সরাসরি লাভজনক। এই কারণে মাসে অন্তত ২০০টাকার বিদ্যুৎ বিল কমে যাবে।

সবুজ ছাদঃ
ছাদের উপরে মাটি তুলে তাতে চাষবাস বা বাগান করলে তা ভবনে অতিরিক্ত ভার দেবে। হ্যাঁ এই ওজনটা হেলাফেলা করে অবহেলা করার মত না। গাছ লাগানোর মাটি হালকা ঝুরঝুরা থাকবে, পিটিয়ে শক্ত করা ঘন মাটি হবে না, তাই ছাদে ১ ফুট গভীরতার মাটি ফেললে অতিরিক্ত ওজন আসবে ১১০ পাউন্ড/বর্গফুটের চেয়ে কিছুটা কম। এর সঙ্গে সেচের পানির ওজন, পানিরোধী আবরণ স্তরের ওজন, শিকড় বিকর্ষণকারী স্তর, এবং ড্রেনেজ স্তরের জন্য সামান্য  কিছুটা ওজন যুক্ত হতে পারে। কাজেই বেশি পরিমান মাটি ফেলে সারা ছাদকে বাগান বানাতে চাইলে ভবন নকশার সময়েই ছাদে অতিরিক্ত ওজন বহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অবশ্য যদি ৩ ইঞ্চি মাটি দেই তাহলে প্রায় ২৮ পাউন্ড/বর্গফুট ওজন আসবে, যা আগের তৈরী ভবনের ছাদেও সমস্যা করবে না বলে আশা করা যায় (৩ ইঞ্চি মাটিতে মরিচ করল্লা ছাড়াও আরও অনেক রকম গাছ হতে পারে )। কাজেই ছাদের উপরে পলিথিন কিংবা পীচ/আলকাতরা ঢেলে পানিরোধী ক্ষমতা বাড়িয়ে তারপর মাটি দিয়ে বাগান প্রজেক্ট শুরু করা যেতে পারে। মাটি ফেলেই যে করতে হবে এমন কথা নাই। গায়ে গায়ে লাগানো টব কিংবা চ্যাপ্টা ট্রে টাইপের আধারে মাটি নিয়েও এই কাজ করা যাবে। তবে ছাদের উপর টবে বাগান করলে সেটাকে সত্যিকার সবুজ ছাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, যদিও এটা একটা বিতর্কের বিষয়।

জাফরিন আক্তার  জ্যামি