ওহ… র‌্যাট রেস

983950_555003061205307_325337880_n

আলিশা প্রধান

নাম মনে রাখাই মুশকিল এখন। ঝাঁক বেধে আসছে তারা। মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠছে তাদের নিয়ে। তাদের উত্তেজক ছবি আর গসিপ কিছুদিন চায়ের কাপে পাগল হাওয়ার বাদ্য বাজিয়ে আবার নীরব হয়ে যাচ্ছে। তারপর এক সময়ে নিঃসঙ্গ নক্ষত্রের মতো বিদায়।
বলছি হালের ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকাদের কথা। গত তিন বছরে প্রায় এক ডজন নতুন নায়িকার আবির্ভাব ঘটেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তাদের মধ্যে কারো অভিনীত একাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছে। কেউ আবার একটি ছবিতে অভিনয় করেই হারিয়ে গেছে। এদের মধ্যে কেউ নতুন ছবিতে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। কেউ আবার এক ওভার খেলেই প্যাভেলিয়নে।
দেশের বাইরের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে র‌্যাট রেস কথাটার অন্যরকম মূল্য আছে। বাংলায় যাকে বলে ইঁদুর দৌড়। হলিউড আর বলিউডে নায়িকাদের এগিয়ে থাকা, এক নম্বর আসনটি দখল করার যুদ্ধকেই বলা হচ্ছে র‌্যাট রেস । কিন্তু এখন ঢাকার ইন্ডাস্ট্রিতে এই ইঁদুরদের তাড়া করছে কে, খ্যাতির বিড়াল? এই খ্যাতির বিড়াল কি শেষ পর্যন্ত তাদের করায়ত্ব হচ্ছে?

২

আইরিন সুলতানা

আমাদের এই নায়িকাদের ক্ষেত্রে মনে হয় খ্যাতির লড়াইয়ের চাইতে টিকে থাকার লড়াইটাই বেশী গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি গণ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে ইন্ডাস্ট্রির এক নায়িকার ফেইসবুকের অফিসিয়াল পেইজে লাইকের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আবার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দীর পেইজে লাইকের সংখ্যা ২০ লক্ষ। নিন্দুকেরা মন্তব্য করেছেন, এখন এই নতুন নায়িকাদের যুদ্ধটা অভিনয়ের ক্ষেত্রে নয়, যুদ্ধ চলছে প্রচারণার। আর এই প্রচারণার যুদ্ধে জিততে গিয়ে তাদের হতে হচ্ছে আরও খুল্লাম খুল্লা। জড়িয়ে যেতে হচ্ছে স্ক্যান্ডাল আর গসিপের জালে।
ঢাকার মিডিয়ায় এখন আলোচনার শীর্ষে আছে বেশ কয়েকজন নায়িকার নাম। এদের মধ্যে আছে পরীমনি, আছে মাহিয়া মাহী, আলিশা প্রধান, আইরিন সুলতানা, ববি হক। এদের সবার নামের পাশে আছে অনেকগুলো ছবির নাম। তাদের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। চলছে নতুন ছবির কাজ। কিন্তু নিরঙ্ককুশ  ভাবে কি বলা যাচ্ছে র‌্যাট রেসে একজন কেউ এগিয়ে আছে? তাদের অভিনীত কোন সিনেমা সুপার-ডুপার হিটের তালিকায় নাম লিখিয়েছে? হয়তো এরা কাজ করে যাচ্ছে, শেষ বিচার দর্কদের হাতে। তারাই এই নায়িকাদের মাথায় পরিয়ে দেবেন এক নম্বরের মুকুট।
একটা সময়ে ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নায়িকা হয়ে এসেছিলেন কবরী, সুচন্দা, শবনম, ববিতা, শাবানা। তাদের কাছাকাছি সময়ে অভিনয় করেছেন সুচরিতা, রোজিনা, অনজু ঘোষ সহ আরও অনেকে। তাদের পর এই তালিকায় দেখা গেছে মৌসুমী, শাবনূরের নাম। ইতিহাসের পাতা উল্টে গেলে দেখা যাবে এই ঢাকাই নায়িকারা প্রথমে এসেই দর্শকদের মন জয় করেছিলেন অভিনয় দিয়ে। হিট ছবির তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছিলো তাদের অভিনীত সিনেমা। তাদের লিপে সিনেমার গান বহু যুগ ধরে

3

পরীমনি

শ্রোতারা গুনগুন করেছেন। এখনো করছেন।
কিন্তুএখন দৃশ্যপট একটু অন্যরকম। বলা হচ্ছে এখন সময়টাই ইতিহাস তৈরী করার জন্য নয়। এরা ইন্ডাস্ট্রির রক্ত সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করছে। ঢাকাই ছবির মরে যাওয়া দেহে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। অশ্লীলতার অন্ধকারে ঢাকার সিনেমা যখন তলিয়ে গিয়েছে তখন এই নতুন প্রজন্ম সেখানে বইয়ে দিয়েছে তাজা হাওয়া। তর্কের খাতিরে সবিই মেনে নেয়া যায়। কিন্তু বেলাশেষে হাতে কী থাকলো সেটাই বড় প্রশ্ন? এই নতুন নায়িকাদের নামের পাশে সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় অনেক ছবির নাম লেখা আছে। ফেইসবুকে তাদের খ্যাতি আকাশ স্পর্শ করেছে। তাদের অনেকে পাশের দেশ ভারতের টলিউডের ছবিতে অভিনয়ের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু মনে দাগ থেকে যাওয়ার মতো কোন কাজ

1

ববি হক

সামনে আসছে কি? যে মেয়েটি আজ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করতে আসছে, কাল সে ঝরে  হয়ে যাচ্ছে কেন? তার নাম মিডিয়ার গসিপ কলাম আর ফেইসবুকের পাতায় কেন মুখ থুবড়ে পড়ছে?
সিনেমা বোঝেন এমন সালোচকদের মন্তব্য হচ্ছে, এই নায়িকাদের উত্থান-পতনের সঙ্গে ছবির গল্প, পরিচালনা আর লগ্নি করা পুঁজিরও সম্পর্ক আছে। সিনেমার গল্প আর পরিচালনার ওপরেও এই অমরত্বের   বিষয়টা নির্ভর করে। নির্ভর করে বক্স অফিস। সিনেমায় খাটানো টাকার চরিত্রও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে আছে এখানে।সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে একটি চরিত্রে দাঁড় করাতে হলে লগ্নিকারকদেরও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা ঢালতে হবে সিনেমার পেছনে।তবেই একটা চরিত্র দাঁড়াবে এই ইন্ডাস্ট্রির। সেখানে অভিনয় করতে আসবে আরও নতুন মুখ। আর ইঁদুর দৌড়ে তারা নিশ্চিত করবে নিজেদের অবস্থান।  (নয়ন কায়সার )