মুজিবনগর দিবস

রুদ্রাক্ষ রহমানঃ বাঙালি জাতির জন্য ১৯৭১ সাল একটি স্মারক কাল। হাজার বছরে বাঙালি যা অর্জন করতে পারেনি, ৭১’এ মাত্র নয় মাসে তারাই তৈরী করেছে ইতিহাস। বাঙালির শৃঙ্খল ভাঙার কাল ১৯৭১। স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনের সাল এটি। সেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিন সীমান্তঘেঁষা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ বাবুর আমবাগানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ২৫ মার্চ রাতে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির উপর যে হামলা শুরু করে তার জবাব দি্তেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধের একটি ঘোষণাপত্র তৈরি হয় ১০ এপ্রিল। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র করা হয় ১৭ এপ্রিল। সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে সরকার গঠন করা হয় তা নাম পায় ‘মুজিবনগর সরকার’ হিসেবে। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় তার নামে। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধা্নমন্ত্রী করে গঠিত হয় অস্থায়ী সরকার। নয় মাস যুদ্ধ পাচিালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার পালন করে এই সরকার। সেই থেকে প্রতিবছর যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দিনটি মুজিব নগর দিসব হিসেব পালন করা হয়। অবশ্য আওয়ামী লীগের বাইরে দুদফার সামরিক শাসন এবং বিএনপির শাসনামলে মুজিব নগর দিবস উপেক্ষিত থেকেছে। এদিকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জায়গাটিকে মূল্যায়নে লিখিত নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ঐতিহাসিক মুবিজনগর সরকারের স্থানটিকে ঘিরে। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালে তা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এরপর সময় বাড়িয়ে ২০১০ ও পরে আবার ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৪৭ কোটি সাত লাখ টাকা। ২০১৪ সালে নতুন করে আরও কিছু সংযোজন বিয়োজন করা হয়েছে। মাঝে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য সংযোজনসহ প্রকল্পে কাটা-ছেঁড়া করা হয়। গণপূর্ত বিভাগ জানায়, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ হয়েছে বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দেয়া খণ্ড খণ্ড অর্থ ব্যয়ে। ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ মন্ত্রণালয় প্রকল্পের তদারক করছে। মুজিবনগর কমপ্লেক্স দেখাশোনা করার জন্য সরকার রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে ৪০টি পদ সৃষ্টি করেছে।