পৃথিবী থেকে মাত্র ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল দূরে…স্টিফেন হকিং

বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মানেই বিজ্ঞানের নতুন কিছু। ২০১৬ সালের ১২ই এপ্রিল তিনি নিয়ে এসেছেন নতুন এক চমক  ‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ (Breakthrough Starshot)। নক্ষত্রমণ্ডল ভ্রমণের জন্য এবং মহাকাশের গভীর থেকে আরও গভীরে কি আছে তা খুঁটীয়ে দেখার জন্য বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং, ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এবং রুশ উদ্যোক্তা ইউরি মিলনার ‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ নামের  ১০০ মিলিয়ন ডলারের মহাকাশ গবেষণার প্রকল্প পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।  এই প্রকল্প নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হকিং বলেন, “আজ মহাজগতের দিকে আমরা আমাদের পরবর্তী মহাপদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। কারণ, আমরা মানুষ এবং উড়ে বেড়ানো আমাদের স্বভাব।” সবচেয়ে কাছের সৌরমণ্ডল ‘আলফা সেন্টাউরি’-তে অনুসন্ধান চালানোর জন্য ১০ কোটি ডলারের ‘ন্যানোক্রাফট’ বানানোর এক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তারা। নাসা’র অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক পিট অরডেনকে প্রধান করে এই প্রকল্পে কাজ করছেন বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, মাত্র কয়েক গ্রাম ওজনের শত শত ক্ষুদ্রাকায় মহাকাশ যান তৈরি করা। এতে থাকবে ক্যামেরা, ফোটন ট্রাস্টারস, পাওয়ার সাপ্লাই, দিকনির্দেশক এবং যোগাযোগের যন্ত্র। একটি রকেটের মাধ্যমে একে আকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে। তারপর পৃথিবী থেকে শক্তিশালী ১০০  বিলিয়ন ওয়াটের আলোকরশ্মি পাঠিয়ে এর বেগ ঘণ্টায় ১০ কোটি মাইলে রূপান্তর করা হবে। এই গতি আলোর চেয়েও ২০ শতাংশ বেশি এবং এখনকার যেকোনো মহাকাশ যানের চেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র মহাকাশ যানগুলো যাবে আলফা সেন্টাউরি, পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব  ৪.৩৭ আলোকবর্ষ  অথবা  ৪০,০০০,০০০,০০০,০০০  কিলোমিটার বা ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল , সেখান থেকে ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠাবে আর আলোর গতিতে ছবিগুলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছাতে আরো ৪ বছর লেগে যাবে। । গবেষকেরা মনে করছেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২০ বছরের মতো। বর্তমানে যেসব যান আছে তা দিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৩০ হাজার বছর।

starshot
প্রথম  উড়োজাহাজ তৈরি প্রায়  ১০০ বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে, আমারা এর মাঝে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছি , ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন প্রতিদিন প্রায় ১৬ বার প্রদক্ষিণ করছে, পাইওনিয়ার, ভয়েজার, এবং নিউ হরাইজনস মহাকাশযানগুলো আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর কক্ষপথের বাইরে চলে গেছে। আর এবার নক্ষত্র জয় করার পালা, ব্রেকথ্রু এর গন্তব্য এবার সেদিকেই।  স্টিফেন হকিং তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন –

এলবার্ট আইনস্টাইন আলোকরশ্মিতে চড়ে ভ্রমণ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর সেই ভাব-গবেষণার ফলাফলই তাকে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সন্ধান দিয়েছিলো। মাত্র এক শতাব্দীর একটু বেশি পেরিয়েছে, আর এর মধ্যেই আমরা সেই গতির চমৎকার একটা ভগ্নাংশ (ঘণ্টায় ১০ কোটি মাইল) অর্জন করে ফেলার সম্ভাবনা দেখছি। এরকম গতিতে যেতে পারলে মানুষের এক জীবনের মধ্যেই আমরা অন্য নক্ষত্রে পৌঁছুতে পারবো। উদ্ভাবন আর প্রকৌশলী দক্ষতা – দুটোরই সীমানা বাড়িয়ে দেয়, এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাতে যুক্ত হতে পারাটা বেশ উত্তেজনার ব্যাপার।

2958

ইউরি মিলনার ও স্টিফেন হকিং

(জুলফিকার সুমন )