বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের এক অপার বিস্বয়ের নাম মুস্তাফিজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পদার্পণ মাত্র বছর খানেক আগে। বয়স মাত্র ২০। আর এখনি বিস্ময়ের পর বিস্ময় উপহার দিয়ে চলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএলে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি। তবে পরিসংখ্যানে তার বোলিংয়ের মহিমা বোঝা যাবে না। তিনি নজর কাড়ছেন বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে ও বিপাকে ফেলে। কাটার, স্লোয়ার, ইয়র্কার এবং নাম না জানা আরও কত অস্ত্রে নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানকে। তাই প্রতি ম্যাচেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। পরশু রাতে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ম্যাচে তো ইংরেজ ধারাভাষ্যকার অ্যালান উইলকিন্স মুস্তাফিজকে পোলভল্ট কিংবদন্তি সের্গেই বুবকার সঙ্গে তুলনা করলেন!

ম্যাচের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজ বোলিংয়ে আসা মাত্র টিভিতে ভেসে আসে উইলকিন্সের কণ্ঠ, ‘এখন বোলিং করবেন একজন ম্যাজিসিয়ান!’ তার কথা মাটিতে পড়তে দেননি মুস্তাফিজ। প্রথম ডেলিভারিতেই বোকা বানিয়ে দেন ব্রেন্ডন ম্যাককুলামকে। ওই ওভারে মোট তিনবার অসহায়ের মতো ব্যাট চালিয়েছেন কিউই এ তারকা। তাই তো খানিক পর মুস্তাফিজের বোলিং বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে সের্গেই বুবmaxresdefaultকার সঙ্গে তুলনা করে বসেন উইলকিন্স, ‘মুস্তাফিজকে যতবার দেখবেন, পর মুহূর্তে সে আরও দারুণ কিছু নিয়ে হাজির হবে আপনার সামনে। অনেকটা সের্গেই বুবকার মতো। যে নিজের রেকর্ড প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যেতো নিজেই।’ ক্যারিয়ারে মোট ৩৫ বার বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছিলেন ইউক্রেনের এ পোলভল্ট তারকা। এর মধ্যে নিজের রেকর্ড ভেঙেছিলেন ১৪ বার। বুবকাকে সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটদের একজন হিসেবে ধরা হয়। আর মুস্তাফিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন মাত্র বছর খানেক হলো, বয়স মাত্র ২০। এখনই বুককার সঙ্গে তুলনা!

উইলকিন্সের সঙ্গে ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন তো গত এশিয়া কাপ থেকেই মুস্তাফিজের গুণমুগ্ধ ভক্ত হয়ে গেছেন। এরই মধ্যে বাঁহাতি এ পেসারকে আইপিএলের সেরা বোলারের খেতাব দিয়ে দিয়েছেন এ অস্ট্রেলিয়ান। গত পরশু রাতেও ধারাভাষ্যে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘সে এক অসাধারণ প্রতিভা। এত বৈচিত্র্য তার হাতে, ব্যাটসম্যানকে থিতু হতে দেয় না। ম্যাককুলামের মতো ব্যাটসম্যানকে সে স্বস্তি দেয়নি।’ পাশে থাকা কিউই ধারাভাষ্যকার ড্যানি মরিসন বলে ওঠেন, ‘এখন দেখার বিষয়, এখান থেকে সে নিজেকে কতটা সামনে নিয়ে যেতে পারে।’ সবচেয়ে মজা হয়, জাদেজাকে যখন মুস্তাফিজ বোল্ড করেন। হেইডেন তার পাশে থাকা সাবেক দুই কিউই পেসার মরিসন ও সাইমন ডৌলকে বলে ওঠেন, ‘তোমরা কোনো দিন এমন সুইং করাতে পেরেছ?’ স্বভাবসুলভ কৌতুক করে মরিসন উত্তর দেন, ‘হেইডস, তুমি ভুল করছ। এটা সুইং নয়, স্পিন!’ বলেই তিনজন হেসে ওঠেন। মুস্তাফিজের হিসেবে বোলিংয়েই ৮ উইকেটে মাত্র ১৩৫ রানে আটকে যায় টানা তিন ম্যাচ জেতা গুজরাট লায়ন্স। কোনো উইকেট না হারিয়ে এ রান টপকে যায় সানরাইজার্স।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও মুস্তাফিজকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। অথচ তিনি সবচেয়ে বেশি উইকেটও পাননি, ম্যাচসেরাও হননি। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ১টি উইকেট তার। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া ভুবনেশ্বর কুমার পুরস্কার হাতে নিয়ে মুস্তাফিজের প্রশংসায় মেতে উঠলেন, ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে বোলিং করতে পারাটা আসলে দারুণ ব্যাপার। তার কাছ থেকে আমি স্লোয়ার শেখার চেষ্টা করছি; কিন্তু সে যেভাবে স্লোয়ার মারে অন্য কেউ তা পারে না।’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হায়দরাবাদের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে অনেকটা মজা করেই প্রশ্ন করেন, ‘নেটে সে আপনাকে স্লোয়ার দেয়?’ স্মিথ হেসে ওয়ার্নারের জবাব, ‘কদিন আগে ব্যাঙ্গালুরুতে আমাকে স্লোয়ার দিয়েছিল। আমিও বুঝতে পারিনি।’ সত্যিই মুস্তাফিজের তুলনা মেলা ভার।

মেহেদী সম্রাট