মন খারাপ…

সবার মনের মধ্যেই মন খারাপের একটা একলা ঘর থাকে। মন খারাপের মেঘ যখন ঘিরে ধরে আপনাকে, তখন প্রায়শই নিজেকে খুব একা লাগে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা অর্থহীন, একঘেয়ে মনে হয়, কিছুই করতে মন চায় না তখন আপনিও ঢুকে পড়েন সেই মন খারাপের একলা ঘরে। তখন শুধু নিজের সঙ্গে নিজের কথা। নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়ে নির্বাসন চাওয়া সবকিছু থেকে।
কিন্তু এই মন খারাপের কাল যদি দীর্ঘ হতে থাকে তাহলে কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে বিপদ। দীর্ঘস্থায়ী এই মন খারাপকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ডিপ্রেশন। ডিপ্রেশন মনের অসুখ। কেউ ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করলে অবশ্যই তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ডিপ্রেশনের অনেকগুলো লক্ষণ আছে। আপনি হয়তো মন খারাপের ধাক্কায় সেই লক্ষণগুলো সনাক্ত করতেও ভুলে যাচ্ছেন।
আজকাল আপনার খাবারের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে? বাইরে বন্ধুদের আড্ডায় এনার্জি ড্রিংকস বেশী খাচ্ছেন? চিকিৎসকরা বলছেন, খাবারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, এনার্জি ড্রিংকস বেশী খাওয়া ডিপ্রেশনের একটি বড় লক্ষন। নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করুন। নিজের মনের কাছেই জানতে চান মন খারাপের কারণ। উত্তর না মিললে যেতে হবে চিকিৎসকের চেম্বারে।

sadness
# কী করে বুঝবেন আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন? এই ডিপ্রেশনে ভোগার প্রথম লক্ষণ হচ্ছে, মনের ভেতরে আশা করার শক্তিটাও ফুরিয়ে যাওয়া। অসহায় বোধ করা। ভাবতে শুরু করা আজকের এই ঝামেলাগুলো আর কখনোই কাটবে না।
# ডিপ্রেশনের দ্বিতীয় লক্ষণ হচ্ছে দৈনন্দিন কাজের রুটিনটাকে অসহ্য মনে হওয়া। কোন ধরণের সামাজিক কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা। গভীর ভাবে ভেবে দেখতে হবে, কাজ করার সব উদ্যমও আপনি হারিয়ে ফেলছেন কি না।
# মন খারাপের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক আছে। ডিপ্রেশনে ভুগলে আপনার ওজনও কমে যাবে দ্রুত। খেয়াল করে দেখবেন, প্রতি মাসে শরীরের ওজন পাঁচ শতাংশ করে কমে যাচ্ছে কি না।
# ডিপ্রেশন প্রথমেই ঝামেলা করে ঘুম নিয়ে। লক্ষ্য করে দেখুন তো গত কয়েকমাসে ঘুমের সমস্যা হচ্ছে কি না? এই ঘুমের ঝামেলা থেকে এক সময়ে ইনসমনিয়া রোগও বাসা বাধতে পারে আপনার মধ্যে।
# দেখবেন এই নিঃশব্দ ডিপ্রেশন আপনার মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে। ভেতরে তৈরী করছে এক ধরণের তীব্র বিরক্তি।
# কখনো নিজেকে খুব অর্থহীন আর অযোগ্য মনে হতে পারে আপনার। মনে হবে, কোন একটা কাজ আপনাকে দিয়ে ভালো ভাবে হয় না। এটাও কিন্তু ডিপ্রেশনের লক্ষণ।
# ডিপ্রেশনে ভুগলে আপনার মধ্যে এক ধরণের বেপরোয়া মনোভাব দেখা দেবে। কমে যাবে মনযোগ। দেখবেন, সামান্যি একটা কাজও মন লাগিয়ে করতে পারছেন না আপনি।
# এই রোগে শরীরের নানা জায়গায় বিনা কারণে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। মাথা ব্যথা, ব্যাক পেইন আর পাকস্থলীর সমস্যা তখন হয়ে উঠবে আপনার নিত্যসঙ্গী।

অনেকে ডিপ্রেশন কাটাতে নেশা জাতীয় দ্রব্যে অভ্যস্ত হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে আপনার বয়সে নেশায় অভ্যস্ত হয়ে উঠরে শেষে তা আরেক ধরণের ঝামেলা ডেকে আনবে আপনার জীবনে। তাই রোগের লক্ষণ দেখে আগে ভাগেই সতর্ক হোন।

মোহাম্মাদ ফুয়াদ হাসান