রিডিং: অস্কার ওয়াইল্ডের কারাগার

অস্কার ওয়াইল্ড

অস্কার ওয়াইল্ড ও তার সমকামী প্রেমিক লর্ড আলফ্রেদ ডগলাস

লন্ডন শহরের কাছেই রিডিং নামে এক জেলখানা। ভিক্টোরিয়ান যুগের এই কারাগার হঠাৎ করেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। আর তার কারণ নাট্যকার, কবি অস্কার ওয়াইল্ড।১৮৯৫ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত এই কারাগারে বন্দী ছিলেন এই পৃথিবী বিখ্যাত নাট্যকার। তার অপরাধ ছিল সমকামীতার। রিডিং জেল এখন অস্কার ওয়াইল্ডের কারণেই দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। বৃটেনের স্বরাষ্ট মন্ত্রণায়লয় ২০১৩ সালের পর রিডিংকে আর কারাগার হিসেবে অকার্যকর ঘোষণা করেছেন। এখন এই জেলখানা হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জন্য দর্শনীয় জায়গা। অস্কার ওয়াইল্ডের প্রতিকৃতি আর তাঁর ছোটখাট স্মৃতিহ্নি বহন করছে এই কারাগার।
অস্কার ওয়াইল্ড সারা দিনে প্রায় ২৩ ঘন্টা ছোট্ট্ একটি সেলে বন্দী থাকতেন। মাত্র এক ঘন্টার জন্য তাকে সেই প্রকোষ্ঠের বাইরে আনা হলেও তঅন্য কোন মানুষের সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেয়া হতো না। ছবিতে যেমন ঝকঝকে জেলখানা দেখা যাচ্ছে সেই সময়ের চিত্র মোটেই এরকম ছিল না। অস্কার ওয়াইল্ড ‘দি ক্রনিকেল’ পত্রিকায় চিঠি লিখে নিজের জেল জীবনের করুণ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছিলেন। ছোট্ট একটি প্রকোষ্ঠে ২৩ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করতে হতো তাকে। শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হতো টিনের তৈরী কৌটো। অস্কার ওয়াইল্ডের ভাষা,‘কারগার ছিল পাগল আর মানসিক রোগগ্রস্ত মানুষে পরিপূর্ণ’।
এখন সেই জেলখানাটিকে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত লেখক ও চিত্রশিল্পী।আর এভাবেই কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এই বিশ্বখ্যাত নাট্যকারের স্মৃতির প্রতি।
এই গোটা প্রকল্পটির দায়িত্ব নিয়েছে ইংল্যান্ডের খ্যাতিমান চিত্র পরিবেশক ডিও আর্ট অ্যাঞ্জে ‘ নামে একটি সংস্থা। তাদের সঙ্গে আছেন চিত্রশিল্পী ন্যান গোল্ডিন, মারলিন ড্যুমা এবং বিশিষ্ট অভিনেতা স্টিভ ম্যাকুইন।
সাধারণ মানুষ পুরো জেলকানাটি এখন ঘুরে দেখতে পারবেন। বেশকিছু সেলে রাখা আছে আাঁকা ছবি। অস্কার ওয়াইল্ড যে কক্ষে বন্দী ছিলেন সেখানে দেয়ালে ঝুলছে শিল্পী মারলিন ড্যুমার আাঁকা নাট্যকারের প্রতিকৃতি। ক্ষটি খুব ছোট আর সংকীর্ণ হওয়ায় খুব বেশীকিছু সেখানে সাজানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংষ্তার সহকারী পরিচালক জেমস লিংউড। সেই কক্ষের পাশে আরেকটি জায়গায় রাখা হয়েছে জেলে কাটানো সময়ে অস্কার ওয়াইল্ডের পড়া বেশ কিছু বই। এদের মধ্যে আছে, সেইন্ট অগাস্টিন ও প্যাসকেলের রচনাবলীর কয়েক খন্ড, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, জন কিটস আর হাফিজের কাব্যগ্রন্থ। ওয়াইল্ডকে যে কক্ষে বন্দী রাখা হয়েঢছিল সে ঘরের কাঠের তৈরী ভািরী দরজাটিকেও সযত্নে রক্ষা করেছেন শিল্পীরা। জেলখানা ঘুরে দেখার সময় একটি অডিও ক্লিপ বাজতে থাকে। সেই কিল্পে আছে শুধু নৈঃশব্দ। উদ্যোক্তারা বলছেন, সেই সময় কারাগারে বন্দীরা বেশীরভাগ সময় নিজের সেলেই আটকে থাকতো। তাই নিজেদের মধ্যে কথা বলারও কোন সুযোগ ছিল না। তাই নৈঃশব্দ দিয়েই তারা ভরে তুলতে চান কারগারের বাতাস।
বিবিসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের বিচার মন্ত্রণালয় এই জায়গাটিকে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী।

নয়ন আহমেদ